হোটেল আল আমিন এর স্বত্ত্বাধিকারী লাল মোহাম্মদের অংশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ | 151 বার

হোটেল আল আমিন এর স্বত্ত্বাধিকারী লাল মোহাম্মদের অংশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

কক্সবাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হোটেল আল আমিন (আবাসিক) এর অন্যতম স্বত্ত্বাধীকারী হাজী লাল মোহাম্মদের অংশ বিক্রি বা হস্তান্তরের উপর কক্সবাজার সিনিয়র জজ আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক মাঝেরপাড়া নিবাসী মৃত বদিউর রহমান এর চার পুত্র মৃত নুর আহমদ, হাজী লাল মোহাম্মদ, নুরুল ইসলাম ও নুরুল আলম এবং দুই পুত্রবধূ সুফিয়া খাতুন ও আনোয়ারা বেগম তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ঐতিহ্যবাহী পালের দোকানের পার্শ্ববর্তী ছয় গন্ডা জমি কিনে উক্ত চার ভাইয়ের নামে খতিয়ান সৃজন করেন। পরবর্তীতে তাদের সৎ ও মেধাবী বড় ভাই মৃত নূর আহমদ পূবালী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে উক্ত জায়গায় আল আমিন নামে আবাসিক হোটেলটি নির্মাণ করেন। কিন্তু ১৯৮৭ সালে নূর আহমদ অকাল মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তী বছর হাজী লাল মোহাম্মদের স্ত্রী ৫ ছেলে ও ১ কন্যার জননী আনোয়ারা বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এতে লাল মোহাম্মদের সন্তানদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। মায়ের মৃত্যুর পর বড় চাচী সুফিয়া খাতুন সিরাজ কামাল ও আবুল হাশেমকে কক্সবাজার আল আমিনের বাসায় নিয়ে এসে সন্তানের স্নেহে লালন-পালন করেন।

এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর ৪০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই লাল মোহাম্মদ দ্বিতীয় স্ত্রী শামসুন্নাহার বেগম এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বড় ভাই নূর আহমদ এর মৃত্যুর কারণে পূবালী ব্যাংকের অপরিশোধিত ১৪ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে জটিলতা কক্সবাজার জজ কোর্ট হয়ে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে মৃত নূর আহমদ এর বড় ছেলে কামাল পাশাকে এতিম দেখিয়ে হোয়ানক ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ সাতলক্ষ টাকা ঋণ মওকুফ করানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তবুও বাকি সাত লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য আল আমিনের স্বত্বাধিকারীরা বিচলিত হয়ে পড়েন। এসময় তাদের নামীয় বিএস খতিয়ান নং ৬০২, ৩৫৮, ৫২৫, ৫২৭, ১৭৪, ১৭৫, ৪২৮, ৪৭৯, ১৭৬, ১০, ৫৮, ৬০, ১৮, ২৬, ৩৮, ৩৩৫, ১৭৭, ৩৬০, ৭৭২, ১৭৫, ৫২৬, ৮১ ইত্যাদি জমি বিক্রি না করে ২য় স্ত্রী শামসুন্নাহারের কুপরামর্শে প্ররোচিত হয়ে হাজী লাল মোহাম্মদ মৃত প্রথম স্ত্রীর এতিম সন্তান সিরাজ কামাল, আশরাফ জামাল, আবুল হাশেম, এহেছান উল্লাহ, মোঃ রুবেল ও কুলসুমা বেগমের কিছমত প্রাপ্ত ৭৪ শতক সম্পত্তি হিতৈষী দিয়ে ২৪/০১/১৯৯০ ইং বিক্রি করে দেন যার খতিয়ান নং ২৭৫। প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে আল আমিনের লাল মোহাম্মদের অংশের ঋণ পরিশোধ করেন। ঐসময় নাবালক সন্তানদের মিথ্যা শান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “যেহেতু তোমাদের সম্পত্তি বিক্রি করে আল আমিনের ঋণ পরিশোধ করেছি সেহেতু তোমাদের দুই ভাইকে আল আমিনের পিছনের বাসায় রেখে পড়াশোনা করাবো, এবং তোমাদের ছয়জনের নামে আমার নামীয় ৯ কড়া (দেড় গণ্ডা) রেজিস্ট্রি করে দিব।” কিন্তু তিনি ২য় স্ত্রীর কুমন্ত্রণায় আজ দেব, কাল দেব করে করে টালবাহানা করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, তিনি ১৯৯৮ সালে ১ম স্ত্রীর সন্তানদের কোন সম্পত্তি ও অর্থ না দিয়ে আলাদা করে দেন। অপরদিকে তিনি ২য় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আয়েশী জীবনযাপন করতে থাকেন। পরবর্তীতে জমিজমা বিক্রি করে ২য় স্ত্রীর অন্য স্বামীর কন্যা কামরুন্নাহারকে বিয়ে দেন এবং নিজের ১ ছেলে ও ১ মেয়ের বড় আয়োজন করে বিবাহ সম্পন্ন করান। এতকিছুর পরও তিনি ক্ষান্ত হননি। বরং ২য় পক্ষের মেঝ ছেলে শিবির ক্যাডার ও দালাল শওকত ওসমান ওরফে মনিম এর সহায়তায় কয়লা বিদ্যুতের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির (খতিয়ান নং ১৭৪, ৬০২) বাবদ প্রায় ৪২,০০,০০০ (বিয়াল্লিশ লক্ষ টাকা) আত্মসাৎ করেন। মনিমের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে অন্য লোকের জমির টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আছে।

প্রথম পক্ষের সন্তানেরা জন্মদাতা পিতা, সৎ মা ও সৎ ভাইদের এমন নিষ্ঠুর অবিচারে চরমভাবে ব্যথিত হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দেন। অবশেষে বিগত ১৭/০৮/২০২০ ইং বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শরীফ বাদশাহর অফিসে একটি শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে হাজী লাল মোহাম্মদের পক্ষে তাঁর ভায়রা নূরুল ইসলাম ও বেয়াই মোঃ জাফর এবং ১ম পক্ষের সন্তানদের পক্ষে মেম্বার জাকের হোসাইন ও নূরুল হক শালিসকার ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লাল মোহাম্মদের ছোট ভাই নূরুল ইসলাম ও ভাতিজা কামাল পাশা। কিন্তু সেখানে শালিসের রায়ে হেরে গেলে তিনি ১ম স্ত্রীর সন্তানদের কয়লা বিদ্যুতের টাকা ও তাঁদের বিক্রিত জমি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরে অনেকবার বৈঠকে বসবে বসবে করে টালবাহানা করতে থাকেন। উপায়ন্তর না দেখে ১ম স্ত্রীর সন্তানেরা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেন। কক্সবাজার সহকারী জজ আদালতে ৬ সন্তান বাদী হয়ে আল আমিনে পিতা লাল মোহাম্মদের অংশের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় বিবাদীগণ হলেন ১। হাজী লাল মোহাম্মদ পিতাঃ মৃত বদিউর রহমান, ২। মোস্তফা কামাল, ৩। শওকত ওসমান, ৪। মোশাররফ হোসেন, ৫। সাজ্জাদ হোসেন, ৬। তোফাজ্জল হোসেন, ৭। উম্মে হাবিবা, ৮। মর্জিনা মোবারক সর্ব পিতাঃ লাল মোহাম্মদ ৯। শামসুন্নাহার বেগম স্বামীঃ লাল মোহাম্মদ ও ১০। সাব রেজিস্টার অফিস, কক্সবাজার। গত ২৬/০৮/২০২০ ইং দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত ১-১০ নং বিবাদীর উপর রুল জারি করেন এবং নোটিশ প্রাপ্তির ২০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। সেই সাথে আগামী ২০/১০/২০২০ ইং মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মোস্তাক আহমদ।

বাদীগণ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ও সর্বসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তফশীলঃ মৌজা- কক্সবাজার, বিএস সৃজিত খতিয়ান নং ৭৪৭/১, জমি- ৯ কড়া বা দেড় গণ্ডা, বিএস দাগ ২৩৯৮, বিরোধীয়।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!