এইমাত্র পাওয়া

x

হারবাং-আজিজ নগরের চিহ্নিত মাদক সম্রাট তোফাইল ফের বেপরোয়া

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫:৪৬ অপরাহ্ণ | 80 বার

হারবাং-আজিজ নগরের চিহ্নিত মাদক সম্রাট তোফাইল ফের বেপরোয়া

চকরিয়া উপজেলার নিকটবর্তী পার্বত্য এলাকা লামা উপজেলার আজিজ নগর ও চকরিয়ার পাহাড়ী ইউনিয়ন হারবাং এর চিহ্নিত মাদক সম্রাট ও বনখেকো তোফাইল আহমদ ফের বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি একটি মামলায় দুই বছর সাজা ভোগ করে জেল থেকে বেরিয়ে সে আবারো অপরাধ স¤্রাজের একছত্র আধিপত্য দখল করেছে। মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদে নিরাপদ আশ্রয় দিতে তৈরি করেছে বার্মাইয়া পাড়া। হারবাং ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনে তোফাইলের গড়ে তোলা ওই বার্মাইয়া পাড়ায় ইতিমধ্যে দুই শতাধিক রোহিঙ্গা বসতি স্থাপন করেছেন।
এছাড়া অস্ত্রধারী সস্ত্রাসীদের মাধ্যমে পাহাড়ের গাছ নিধন অব্যাহত রেখেছে সে। এসব অপরাধে ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে চকরিয়া-কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে অর্ধশত বন ও মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এত মামলার আসামী হয়েও সে পুলিশের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা ও পাহাড়ের গাছ নিধন অব্যাহত রেখেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অর্ধ শতাধিক মামলার আসামী তোফাইল ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কয়েকবার পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগদেয়া হয়। কিন্তু এব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাই এতকিছুর পরেও তার বাহিনী সদস্যরা বেপরোয়াভাবে তাদের অপরাধ কর্মকান্ড চালিয় যাচ্ছে। তাছাড়া তোফাইল বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত ভোক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করলে তাদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়ক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও বনখেকো হারবাং কলাতলি এলাকার তোফাইল আহমদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন আইনে ৫টি মামলা, চকরিয়া আদালতে ১৬টি বন মামলা, লোহাগাড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন আইনে ৪টি মামলা, লামা থানায় ৩টি মামলা, চন্দনাইশ থানায় ১টি, চট্টগ্রাম আদালতে ৯টি বন মামলাসহ আরো ডজনাধিক চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে সংরক্ষিত বনের গাছগুলো কেটে চকরিয়া, পেকুয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা ও চট্টগ্রামে পাচার করে তোফাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি চক্র। যার কারণে হারবাং আজিজনগরের সংরক্ষিত বনভূমি এখন বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও গাছের গাড়ীতে মাদকের বড় ধরণের চালান সরবরাহ দেন মাদক স¤্রাট তোফাইল। তার এসব অবৈধ কাজে প্রশাসনের এক শ্রেণীর দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, মাদকদ্রব্য হাতের নাগালে পেয়ে ধ্বংসের দ্বারপান্তে পতিত হচ্ছে যুব সমাজ। মাদক সেবন করে অনেক কিশোর, তরুণ ও যুবকরা জড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন অপরাধে। হারবাং-আজিজনগর একই সীমা রেখায় অবস্থিত হওয়ায় আজিজনগর মগপাড়ায় তৈরি বাংলা মদের ডিপো থেকে সড়ক পথে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া, কর্ণফুলী, বাঁশখালী ও আনোয়ারাসহ চট্টগ্রাম মহানগরের মাদকের বিভিন্ন আখঁড়ায় পাচার করা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এসব মাদকের চালান পুলিশের হাতে মাঝপথে আটকও হয়।
তারা আরো জানান, মাদকের গডফাদার ও অর্ধ শতাধিক মামলার আসামী তোফাইল আহমদ মাদকসহ পুলিশের হাতে কয়েকবার হাতেনাতে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে আসলে ফের নির্ভয়ে প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা করে। এসব মাদকের চালান থেকে মাসে কোটি টাকার বানিজ্য করছে এ সিন্ডিকেট। আজিজনগর থেকে দীর্ঘদিন ধরে তোফাইলের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা অব্যাহত থাকায় এলাকায় নিত্যদিন বেড়ে চলছে নানা অপরাধ। এতে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাই যেকোন মূল্যে হারবাং ইউনিয়নের কলাতলী ৯নং ওয়ার্ডের মাদকের গডফাদার বহু অপকর্মের হোতা তোফাইলকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। র‌্যাবের অভিযানে তোফাইলসহ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হলে হারবাং-আজিজনগর এলাকার মাদকের হাট বন্ধ হবে বলে মনে করেন উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ।
এদিকে বন কর্মকর্তাদের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও কক্সবাজার জেলার চকরিয়া বনভূমিতে তোফাইলের একচ্ছত্র আধিপত্য। এসব বনভূমিতে গাছ ও পাহাড় কেটে পাচার করা, বন্যপ্রাণী শিকার ও হত্যা করা তার নিত্যকাজ। বনবিভাগের মামলায় তার সাঁজা হলেও অপকর্ম বন্ধ হয়নি। এছাড়াও সরকারী বনভূমি দখল করে হাজার হাজার একর ভূমিতে অবৈধ বসতি গড়ে তুলছে সে। যার কারণে উজাড় হচ্ছে সরকারী বনভূমি। লিখিত অভিযোগে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় তোফাইলকে আইনের আওতায় আনাতে পুলিশের সহযোগিতা চান।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে তোফাইল আহমদের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগ চেষ্টা করা হলে, তার ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।
চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসাযীদের কোন প্রকার ছাড় নেই। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালাবে।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!