এইমাত্র পাওয়া

x

সড়কের বেহাল দশার অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | 117 বার

সড়কের বেহাল দশার অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক উপ-সড়কের বেহাল দশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে চলাচলকারি রিক্সা ও টমটম যাত্রীদের কাছ থেকে পৌরসভার নির্ধারিত তালিকার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ও।

এ নিয়ে যথেচ্ছা ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে ঘটছে প্রতিনিয়ত তর্কাতর্কি আর বচসার ঘটনা; এমন অভিযোগ সাধারণ যাত্রী ও পৌরবাসীর।

তবে পৌর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পৌরসভার অভ্যন্তরে চলাচলকারি রিক্সা ও টমটম গাড়ীর জন্য একটি ভাড়া তালিকা রয়েছে। চালক সাধারণকে যাত্রীদের কাছ সেই তালিকা মতে ভাড়া আদায় করার নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও উপ-সড়কের সংস্কার কাজ না হওয়ায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এসব সড়কের অধিকাংশ স্থানে খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে পরিণত হওয়া যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া বৃষ্টির সময় এসব সড়কে পানি জমে থাকায় সড়কের গর্তে পড়ে ঘটছে প্রতিনিয়ত ছোটখাট নানা দুর্ঘটনা। এতে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের ফলে লাগামহীন যানজটকে আরো বিষিয়ে তুলেছে সড়কের এ বেহাল দশা।
একে পুঁজি করে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে রিক্সা ও টমটম গাড়ীর চালকরা আদায় করছে পৌরসভার নির্ধারিত তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া। এতে দীর্ঘ যানজটের দুর্ভোগের পাশাপাশি যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের হয়রানিরও শিকার হচ্ছে। এ নিয়ে চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঘটছে তর্কাতর্কি আর বচসার ঘটনাও।

কক্সবাজার পৌরসভার টেকপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মুবিন বলেন, পর্যটন শহর কক্সবাজার প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার হলেও নাগরিকরা যথার্থ সেবা হতে বঞ্চিত। প্রধান সড়কসহ শহরে অধিকাংশ সড়ক ও উপসড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে ভরপুর এসব সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ এখন পৌরবাসীর নিত্যসঙ্গী।

দিন দিন এ দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হলেও এ পৌর কর্তৃপক্ষের কোন ধরণের ভ্রুক্ষেপ নেই বলে মন্তব্য করেন এ পৌর বাসিন্দা।

এদিকে যানজটের পাশাপাশি সড়কের বেহাল দশাকে পুঁজি করে রিক্সা ও টমটম চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেন পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন।

ফারুক বলেন, শহরের কালুর দোকান থেকে পৌরসভা কার্যালয় পর্যন্ত পৌরসভার নির্ধারিত তালিকা মতে ভাড়া রিক্সার ২০ টাকা এবং টমটমের ৫ টাকা। কিন্তু চালকরা আদায় করছে রিক্সার ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং টমটমের ৫ টাকার স্থলে ১০ টাকা।

এ চিত্র শুধুমাত্র কালুর দোকান থেকে লালদিঘীর পাড়ের নয়; শহরের অন্যান্য দূরুত্বে যাতায়তের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এখন নৈমত্তিক ঘটনা। ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে রিক্সা ও টমটম চালকরা পৌরসভার নির্ধারিত তালিকার কোন ধরণের তোয়াক্কা করছে না।

এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে রিক্সা ও টমটম চালকের সঙ্গে যাত্রী সাধারণের মধ্যে প্রতিনিয়ত তর্কাতর্কি এবং বচসার ঘটনা ঘটছে বলে জানান শহরের ঘোনার পাড়ার বাসিন্দা রুবেল দাশ।

রুবেল বলেন, পৌর এলাকার বাসিন্দারা সহ সাধারণ যাত্রীরা এখন রিক্সা ও টমটম চালকদের হাতে এক প্রকার জিন্মি হয়েে পড়েছে। শহরে অল্প দূরুত্বের এলাকায় আর কোন গণপরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের বাধ্য হয়ে এসব যানবাহনে চলাচল করতে হয়। এতে যাত্রীদের প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

পর্যটন শহর কক্সবাজারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে এর বিরূপ প্রভাব পর্যটন শিল্পের উপর পড়বে বলে মন্তব্য করেন বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা কল্লোল ভৌমিক।

কল্লোল বলেন, পর্যটন শহর হিসেবে পরিবহনসহ সার্বিক ক্ষেত্রে কক্সবাজারে একটি সু-ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত। পৌরসভার নির্ধারিত ভাড়া তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত আদায় করা হলে পর্যটকদের কাছে কক্সবাজার সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হবে।

এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিয়ত তদারকি ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন এ পৌর নাগরিক।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা নিয়ে কথা হয় করিম উল্লাহ, দিদারুল আলম ও আবুল কালাম নামের কয়েকজন রিক্সা চালকের সঙ্গে।

তারা বলেন, শহরে যানজট এখন নিত্যসঙ্গী। তীব্র যানজটে পড়ে সড়কে তাদের দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করতে হয়। এছাড়া প্রধান সড়কসহ শহরের বিভিন্ন সড়ক ও উপসড়কগুলো এখন যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সড়ক খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে ভরপুর। এতে গাড়ী চলানো তাদের জন্য খুবই কষ্টকর।

তাই পৌরসভার নির্ধারিত তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না হলে তাদেয় পোষায় না বলে মন্তব্য করেন এসব রিক্সা চালক।

একই ধরণের মন্তব্য করে টমটম চালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, শহরের প্রধান সড়কসহ অধিকাংশ রাস্তা খানাখন্দ আর গর্তে পরিণত হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছে গাড়ী চালকরা। এতে প্রতিনিয়ত গাড়ী যন্ত্রাংশ বিকল ও নষ্ট হচ্ছে। যানজটে দীর্ঘ সময়ক্ষেপন আর দুর্ভোগের কারণে ভাড়া একটু বাড়িয়ে না নিলে মালিকের চাহিদা মিটিয়ে পরিবারে চাহিদা মেটানো তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
সড়কের বেহাল দশা আর অতিরিক্ত আদায়ের ব্যাপারে কথা হয় কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের সঙ্গে।

মুজিবুর বলেন, প্রধান সড়কের উন্নয়ন কর্মকান্ডের দায় নিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে রশি টানাটানি চলছে। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষে পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের কয়েকবার তাগাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সমস্যার কোন ধরণের সমাধান হচ্ছে না।
এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করা হবে বলে জানান কক্সবাজার পৌর মেয়র।

তবে পৌরসভার নির্ধারিত ভাড়া তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত আদায়কে নির্দেশনা অমান্য করে চালকরা গর্হিত কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন মুজিবুর।

পৌর মেয়র জানান, এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!