পেকুয়ার উজানটিয়া করিমদাঁদ মিয়ার ঘাট সড়ক

সড়কের ইট খুলে লাপাত্তা ঠিকাদার, দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ | 110 বার

সড়কের ইট খুলে লাপাত্তা ঠিকাদার, দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ

সরকারী কার্যাদেশে নাজুক সড়কের ইট খুলে সংস্কারকাজের উপযুক্ত করা হয়েছিল সাত মাস আগে। সেসময় ঘটা করে সড়কটির উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন করেছিলেন স্থানীয় সাংসদ। তবে উদ্বোধনের পর সড়কটিতে আর কোনো কাজ করা হয়নি। এখন বৃষ্টি হলে পুরো সড়ক কাদায় ভরপুর থাকে। রোদ হলেও সড়কের এবড়েথেবড়ো অবস্থার কারণে চলতে পারে না যানবাহন। তাই বাধ্য হয়ে সড়কের দেড় কিলোমিটারের ভাঙা অংশটি নিয়মিত হেঁটে পার হয় পশ্চিম উজানটিয়ার ও এর আশেপাশের এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসীরা।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের প্রিজম সাইক্লোন শেল্টার থেকে করিমদাঁদ মিয়ার ঘাট এলাকা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কটির এমনই বেহাল দশা। এই দেড় কিলোমিটার সড়ক দিয়ে উজানটিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিমাংশের অন্তত ১০ হাজার মানুষ চলাফেরা করেন। ১২ বছর ধরে সড়কটি এবড়োথেবড়ো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের পেকুয়া উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-২ প্রকল্পের অধিনে উজানটিয়ার প্রিজম সাইক্লোন শেল্টার থেকে করিমদাঁদ মিয়ার ঘাট পর্যন্ত ১৪৫০ মিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয় এক কোটি ৯২ লাখ ৩৪হাজার ২০৩ টাকা। গত বছরের মে মাসে চকরিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জেএস এন্টারপ্রাইজকে এ কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজ শেষ করার কথা ছিল একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। কিন্তু কাজ বাস্তবায়ন এখনো হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সাংসদ জাফর আলম সড়কটির উন্নয়ন কাজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর ঠিকাদার সড়কটিতে আর কোনো কাজ করেননি। উদ্বোধনের আগে সড়কের যা ইট ছিল তাও খুলে নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জেএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মাইনউদ্দিন হাসান বলেন, আগামী সপ্তাহে সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে। এতোদিন বৃষ্টি থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, কাজ না করার কোনো সুযোগ নেই। সড়কটির পূর্বের ইট খুলে ফেলা হয়েছে। ইটের খোয়া ও বালু নিয়ে সড়কের পাশে রাখা হয়েছে। এতোদিন কাজ শুরু করতে না পারায় বরং নিজের ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, মো. এহেছান ও রহিম উদ্দিনসহ অনেকে বলেন, পাঁচ বছর ধরে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে না। করিমদাঁদ মিয়ার ঘাট স্টেশনের ব্যবসায়ীরা মালামাল নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা হেঁটেই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছে।

উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, উজানটিয়ার এ সড়কটি নিয়ে মানুষ খুব কষ্টে আছে। এতোদিন টেন্ডার না হওয়ায় দৌঁড়াদৌঁড়ি করেছি। এখন টেন্ডার হয়েও সড়কটির উন্নয়ন কাজ চলছে না।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করতে ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি বারবার সময় চেয়েছেন। সর্বশেষ স্থানীয় সাংসদ সড়কটির উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন করেছিলেন। এরপরও ঠিকাদার কাজ করেননি। এখন কার্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!