স্থবির কক্সবাজার জেলা বিএনপি

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১:১৮ অপরাহ্ণ | 159 বার

স্থবির কক্সবাজার জেলা বিএনপি

স্থবির হয়ে পড়েছে কক্সবাজার জেলা বিএনপি। কোনভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না তারা। দলীয় কোন আন্দোলনের কর্মসূচিতে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের তেমন চোখে পড়েনা। বড় কোন শোডাউন করতে দেখা যায়না, তারা অনেকটা চার দেওয়ালের ভেতরেই তাদের রাজনীতি সীমাবদ্ধ রেখেছে। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।
গত সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসন আওয়ামীলীগের পকেটে যাওয়ায় জেলার পদ প্রত্যাশি নেতারা রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। সিনিয়রদের উপস্থিতি কম দেখে এবং পুলিশের ধরপাকড় এর ভয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল মিটিং থেকে আপাতত নিজেদের জড়াতে চাচ্ছেন না বলে অনেকে জানান। তবে এটাকে অনেকে সাংগঠনিক দুর্বলতা বলেও মনে করছেন।
সূত্রে জানা যায়, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব বর্তমানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহামদ কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রন করতেন। তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার কারনে দলের এ অবস্থা বলে মনে করেন অনেকেই। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমে কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র আহবায়ক এবং পরে পর পর দু’বার কাউন্সিলের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ২০১০ সালে বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিলে সালাহ উদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ভারতের মেঘালয়ের সিলং শহরে নির্বাসিত থাকাবস্থায় বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। একটানা তিনবার কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট সরকার গঠন করলে সালাহ উদ্দিন আহমদ ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর মন্ত্রীপরিষদে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার ইনচার্জ মিনিস্টার হিসাবেও দায়িত্বপালন করেন তিনি। ২০০৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ বছর ২ মাস ওয়ান ইলাভেন সরকারের কারাগারে বন্দী থেকে ২০০৯ সালের ২৯ মার্চ তিনি কারামুক্ত হন। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকাস্থ উত্তরার একটি বাড়ী থেকে অচেনা মুখোশধারীরা নিয়ে যায়। প্রায় ৬২দিন গুম থাকার পর একই বছরের ১১ মে সালাহউদ্দিন আহমেদ’কে সর্বপ্রথম মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং এর গলফ লিংক মাঠে পাওয়া যায়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি বর্তমানে শিলং একটি রেস্ট হাউসে আছেন। এর পর থেকে নেমে এসেছে কক্সবাজার জেলা বিএনপির হতাশা।
জেলা বিএনপি কমিটি: দীর্ঘদিন প্রতিক্ষার পর মো: শাহজাহান চৌধুরী সভাপতি ও অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে কক্সবাজার জেলা বিএনপির ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ২২ নভেম্বর ২০১৭ ইং নতুন কমিটি অনুমোদন দেন। তবে কমিটিতে নতুন অনেক মূখ যুক্ত হয়েছেন আবার অনেক আলোচিত ব্যক্তি বাদ পড়েছেন। কমিটিতে ঠাঁই হয়নি মহেশখালী- কুতুবদিয়া আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ এবং কক্সবাজার সদর-রামু আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শহিদুজ্জানের। এর ফলে দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। এর ফলে দলের একটি বৃহৎ সমর্থক গোষ্টি বিএনপি’র রাজনীতি থেকে সড়কে পড়েন। দলের ভিতরেও অনেকে পদ প্রত্যাশি ছিলেন তারা এক প্রকার দলীয় কর্মকান্ডে থেকে নীরব। সাবেক এক সাংসদ’র দলীয় কর্মকান্ড ও বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে নীরব থাকায় অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে।
জেলা যুবদল কমিটির দ্বন্দে আন্দোলনে মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না সম্মুখ ভাগের কিছু নেতাদের। যারা মুলত শহরে যুবদলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করতো এবং মিছিল মিটিং থেকে শুরু করে দলীয় কর্মসুচি বাস্তবায়ন করতো। উজ্জ্বলকে সভাপতি এবং জিশানকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করার কারণে শহরে বার বার আন্দোলনের ডাক দিলেও তারা যাচ্ছে না বলে জানান যুবদলের একাধিক নেতাকর্মী।
একটি মাধ্যমে জানা যায়, ছৈয়দ আহমদ উজ্জ্বলকে সভাপতি এবং জিশান উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের জেলা কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রিয় কমিটি। ২০১৪ সালের ১৯ জুলাই আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেযার দীর্ঘ ১৮মাস কক্সবাজারে যুবদলের পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মিরা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল। এসময় বিক্ষুব্ধ নেতা-কমিরা ১০ টির বেশী ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। তখন পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এ ঘটনার আগে যুবদলের শতাধিক বিক্ষুব্দ নেতা-কর্মি জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ আবুর সভাপতিতে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার পৌর যুবদলের সভাপতি মসউদুর রহমান মাসুদ ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল, জেলা যুবদল নেতা মসিউর রহমান জুয়েল, জসিম উদ্দিন সহ বিভিন্ন ইউনিটের শতাধিক বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মি উপস্থিত ছিলেন।
জেলা ছাত্রদল: শাহাদৎ হোসেন রিপনকে সভাপতি ও ফাহিমুর রহমান ফাহিমকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রদলের কমিটি করার পর থেকে একটি পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। তারা তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রপ্রগন্ডা ছড়িয়ে সংগঠনকে দুর্বল করেছে। ফলে তাদের মিছিল মিঠিং এ সায় দেয়না ছাত্রদলের কিছু অংশ। গত ১৯ আগষ্ট ২০১৮ ইং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আকরামুল হাসান এ নতুন কমিটির অনুমোদন দেন। শাহাদৎ হোসেন রিপনকে সভাপতি ও ফাহিমুর রহমান ফাহিমকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত এ কমিটিতে সাইফুর রহমান নয়নকে সিনিয়র সহসভাপতি, মিজানুল আলমকে যুগ্ম সম্পাদক ও আনিসুর রহমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক ইউছুপ বদরী জানান, জেলায় মোট ১৪ টি সাংগঠনিক উপজেলা আছে। প্রতিটি উপজেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমরা সেখানে নতুন কমিটি দিচ্ছি। যারা বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন তাদেরকে নতুন কমিটিতে মূল্যায়ন করছি। ইতিমধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে অনেক কমিটি দেয়া হয়েছে এবং পর্যাক্রমে বাকীগুলো শেষ করা হবে। এর পর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন গোছানোর জন্য উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের তাগিত দেয়া হবে। মুলত আমরা সাংগঠনিকভাবে খুবই ভাল অবস্থায় আছি। সরকারের দমন পীড়ন উপেক্ষা করে যেভাবে পারছি আমরা সংগঠন ঘুচাচ্ছি। দলীয় কোন কর্মসুচি ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করতে চাইলে সরকার আমাদের রাস্তায় নামতে দিচ্ছেনা, সারা দেশব্যাপী এই সরকার যে ভাবে বি এনপি নেতা কর্মীদের মামলায় জড়াচ্ছে তাতে নেতাকর্মীরা ঘরে ও থাকতে পারছেনা। দলের এই চরম মুহুর্তে কক্সবাজার জেলা বিএনপির মধ্যে কোন বিভেদ নেই।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!