জেলা প্রশাসনের ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

সৈকত জুড়ে বর্জ্য, মারা যাচ্ছে কাছিম

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | 61 বার

সৈকত জুড়ে বর্জ্য, মারা যাচ্ছে কাছিম

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসছে প্লাস্টিক বর্জ্য, বোতল ও ছেড়া জাল। এসব বর্জ্যে আটকা পড়ে মারা গেছে ২০টির অধিক সামুদ্রিক কাছিম। আর উদ্ধার করে সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে শতাধিক কাছিমকে। বর্জ্যের ঘটনার কারণ জানতে জেলা প্রশাসনের পক্ষে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠণ করা হয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী সহ বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা মিলেছে এসব বর্জ্য। শনিবার রাত থেকে হঠাৎ এসব বর্জ্য ভেসে আসতে শুরু করে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব বর্জ্য পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার উপকূলে এসেছে। আর বর্জ্যের আঘাতে আহত জলজপ্রাণী গুলোকে বাঁচাতে সরকারের কোন দপ্তরই এগিয়ে আসেনি বলে জানিয়েছেন পরিবেশবাদিরা।
পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য নেচারের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম রিয়াদ বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে এসব বর্জ্য আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিক বর্জ্য আর ছেঁড়া জাল দেখা গেছে। আমরা কক্সবাজারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কেউ এসব বর্জ্য সরিয়ে নিতে এগিয়ে আসেনি।’
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ) আবু নাছের মো. ইয়াছিন বলেন, ‘প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্যে আটকা পড়েছে কাছিম। আমরা ঘটনাস্থলে একটা টিম পাঠিয়েছি। তারা কাছিমগুলোর চিকিৎসা নিশ্চিত করবে এবং সুস্থগুলোকে সাগরে ফিরিয়ে দেবে।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সাগরে শক্ত মনিটরিং না থাকায় বিদেশি জাহাজ থেকে বর্জ্য ফেলা হয়। এর কারণে আমাদের সমুদ্রের যে বাস্তুসংস্থান সেটি ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এসব প্লাস্টিক মাইক্রো প্লাস্টিকে (প্লাস্টিক কণা) রূপান্তরিত হয়ে মাছের খাদ্য শৃংখলে প্রবেশ করে শেষ পর্যন্ত মানবদেহে চলে আসছে।’
সংগঠনগুলোর ধারণা, সৈকতের ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৫০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য ভেসে এসেছে। আর বর্জ্যের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে ২০টি সামুদ্রিক কাছিমের। আর উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে শতাধিক।
অপরদিকে, বনবিভাগের কলাতলীর বীট কর্মকর্তা মো. সোহেল হোসেন জানান, যেসব প্রাণী মারা গেছে তা মাটিতে পুঁতে ফেলার কাজটি বনবিভাগ করছে।
এদিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বর্জ্য ভেসে আসার কারণ জানতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
বিষয়টি নজরে আসার পর রোববার বিকালে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি দল সমুদ্র সৈকত পরিদর্শনে যান। এর প্রেক্ষিতে সৈকতে বর্জ্যসহ মৃত জলজপ্রাণিগুলো ভেসের আসার কারণ জানতে তদন্তের জন্য প্রশাসন ৫ সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সমুদ্র সৈকতে নানা ধরণের বর্জ্য ও সামুদ্রিক মৃত প্রাণি ভেসে আসার কারণ জানতে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসন ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে প্রতিবেদন আকারে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিবে।
“কমিটিতে জেলা প্রশাসন ছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তর ও বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। রোববার রাতের মধ্যেই কমিটির সদস্যদের নাম চুড়ান্ত করা হবে। ”
প্রতিবেদন পাওয়ার পর করণীয় নির্ধারণ এবং ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ আকারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠি প্রেরণ করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!