সৈকতের ঝুঁপড়ি : আন্দোলনকারি ও দখলদার মুখোমুখি

শনিবার, ২২ জুন ২০১৯ | ৭:৩১ অপরাহ্ণ | 777 বার

সৈকতের ঝুঁপড়ি : আন্দোলনকারি ও দখলদার মুখোমুখি

কক্সবাজারের সৈকতের অবৈধ স্থাপনা ও ঝুঁপড়ি দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারি এবং দখলদাররা মুখোমুখি হচ্ছেন। একই সময় একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও আন্দোলন ডাক দিয়ে এ অবস্থান নিয়েছে তারা।

সূত্র মতে, আগামী ২৪ জুন সকাল ১০টার দিকে ‘আমরা কক্সবাজার বাসি’ নামে একটি সংগঠন গণজমায়েত ও প্রধানমন্ত্রী বরবার স্মারকলিপি দেয়ার ঘোষনা দেন। পূর্ব নির্ধারিত এক কর্মসূচি ঘোষণার পর এর বিপক্ষে ‘বৃহত্তর সুগন্ধ্যা বিচ ক্ষুদ্র ঝিনুক ব্যবসায়ী’ নামের ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসুচি ঘোষনা দিয়েছেন।

সুত্র জানায়, গত ১৮ জুন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে ঝুঁপড়ি দোকান নির্মাণ বন্ধ করে পর্যটকদের জন্য সব দোকান উচ্ছেদ করে সৈকত দখল মুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনের ঘোষনা দেন ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’ নামের একটি সংগঠন। এর তিনদিন পরে সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেয়ার পাল্টা কর্মসুচি ঘোষনা দেন। দুই পক্ষই আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে ২৪ জুন সকাল ১০টায়। এতে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে দুটি পক্ষ।

আমরা কক্সবাজারবাসী’ সংগঠনের নেতা করিম উল্লাহ বলেন, সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে যেসব দখলদার অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে তুলেছেন, দখলকৃত স্থাপনা উচ্ছেদ করে উচ্চ আদালতের রায়কে বাস্তায়ন করা ও বির্তকিত বিচ ম্যানেজমান্টে কমিটি বাতিল করার দাবিতে কর্মসুচি ঘোষণা করা হয়। আমাদের আন্দোলনের কর্মসুচি পূর্ব নির্ধারিত। আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই। আমরা চাই সৈকতে সৌন্দর্য রক্ষা হোক। যারা এ কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করছেন তার প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদানে প্রতিবন্ধকতাকারি। যেহেতু আমরা আগে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি আমরা পালন করবো।

সুগন্ধা পয়েন্ট ঝিনুক ব্যবসায়ীদের নেতা জালাল উদ্দিন বলেন, সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় উচ্ছেদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে যারা চাঁদা আদায় করে আসছিল, তারাই আজকে এসব চাঁদা না পেয়ে উচ্ছেদের জন্য আন্দোলন করছে। আমরা সাধারণ ব্যবসায়ী মানুষ। আমাদের পরিবার চালনোর শেষ সম্ভল সৈকতের দোকানটুকু রক্ষা করতে কর্মসুচি ঘোষনা করেছি।

আপনাদের পাল্টাপাল্টি আরো একটি সংগঠন একই স্থানে একই সময় কর্মসুচি ঘোষনা করেছে, একই সময় হওয়ায় আপনারা কোন সংঘাতের আংশকা করছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে এ ব্যবসায়ী বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত তেমন কিছু হওয়ার আশংকা করছি না। যদি আপনার মনে করেন সংঘাত হওয়ার আশংকা রয়েছে, তবে আমরা সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, আজ (গতকাল শুক্রবার) পর্যন্ত আন্দোলনের কর্মসুচি ঘোষনা করা দুইটি সংগঠনের মধ্যে কেউ পুলিশকে অবহিত করেনি। যেহেতু দুই সংগঠন পাল্টাপাল্টি কর্মসুচি ঘোষনা করেছে, এ বিষটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!