এইমাত্র পাওয়া

x

সার্ফিংয়ে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দুই বান্ধবীর

শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৯ | ১:০৭ অপরাহ্ণ | 249 বার

সার্ফিংয়ে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দুই বান্ধবীর

সাগরের স্বচ্ছ নীলাভ জলরাশি। পানির নিচে নেই ধারালো কিছু কিংবা প্রবাল। সেই সঙ্গে নেই ভয়ঙ্কর সামুদ্রি প্রাণীর কোনো ঝুঁকি। আর এসব সুবিধাই কক্সবাজারকে করে তুলেছে সার্ফিংয়ের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আদর্শ জায়গা।

সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন জাহানার বেগম ও তার বান্ধবী শবে মেহরাজ। শত বাঁধা উপেক্ষা করে এ দুই কিশোরী সার্ফিং করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে আয়োজিত অনেক প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করে বিজয়ের স্বাদও পেয়েছে তারা। কিন্তু এবার বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখছেন কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়া এলাকার গোলাম হোসেনের মেয়ে জাহানারা ও জাফর আলমের মেয়ে মেহরাজ।

সার্ফার জাহানারা বেগম বলেন, সামাজিক অনেক বাঁধা পার হতে হয়েছে। যা শুনলে আপনার চোখে জ্বল আসবে। সেদিকে ফিরে থাকাতে চাই না। এখন শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। দেখিয়ে দিতে চাই আমরাও পারি। সেই ছোট বেলায় ঝিনুক বিক্রি করতাম সৈকতে, সেখান থেকেই সার্ফিংয়ে মন যায়। দীর্ঘ আট বছর ধরে পরিবার ও সমাজের সাথে সংগ্রাম করে আজকের আমি। যদি সরকার আমাদের একটি ক্লাব করে দেয় তাহলে আমরা আরও বড় ধরণের টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণ করতে পারবো।

একই সুর জানারার প্রিয় বান্ধবী শবে মেহরাজের কন্ঠেও। মেহরাজ বলেন, সার্ফিংয়ের জন্য অনেক কিছু বিসর্জন দিয়েছি। এখন শুধুই দেখিয়ে দিতে চাই মেহরাজ এখন অনেক ভাল সার্ফার। বাবা-মা দুইজনই বাঁধা দিয়েছিল। সামাজিকভাবেও অনেক হেনস্থা হতে হয়েছে। কিন্তু বাবা-মা‘ তখন সার্ফিং সম্পর্কে জানতো না তাই হয়তো বাঁধা দিয়েছিল। এখন সবকিছু পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাই বহুদূর।

জানাযায়, উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন সমদ্র সৈকতে বহু আগে থেকেই সার্ফিং চালু থাকলেও বাংলাদেশে সার্ফিংয়ের শুরুটা ২০০০ সালে। তবে দেরিতে হলেও এখন বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে আসা বিদেশি মাত্রই মূল ঝোঁক থাকে সার্ফিংকে ঘিরে। এ সার্ফিং নিয়ে বেশ সম্ভাবনাও দেখছেন সার্ফাররা। সম্ভাবনার কথা বলছেন ঘুরতে আসা বিদেশি পর্যটক ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তারাও।

সাধারণত কক্সবাজার বিচের কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণী ও শৈবাল পয়েন্টে দিনভর সার্ফাররা মগ্ন থাকেন জলক্রীড়ায়।
গর্জন তোলা সমুদ্রের ঢেউ বেয়ে লাফিয়ে ওঠার রোমাঞ্চকর জলনৃত্য উপভোগ কিংবা সৈকতে আসা পর্যটকদের চিত্তবিনোদন খোরাকই শুধু নয়, সমুদ্রে নামা মানুষের জীবন রক্ষাকারী হিসেবেও কাজ করছেন সার্ফাররা। কেউ কেউ আবার একেবারেই লাইফ সেভিংয়ের কাজ করছেন। অল্প সময়েই কক্সবাজারের শতাধিক সার্ফার জাতীয়ভাবে পরিচিত করে তুলেছেন নিজেদের।

তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সৈকতের সীগাল্ড পয়েন্টে পঞ্চম বারের মতো জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনদিন ব্যাপী এ প্রতিযোগীতায় প্রায় ৫০ জন সার্ফার অংশ নিচ্ছে। সেখানে ১৬ নারী রয়েছে। এছাড়াও বেলজিয়াম, জার্মানিসহ ১৩ দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

সিনিয়র সার্ফার রাসেদ বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় একদিন আমরা বিশ^ জয় করবো। সেদিনের স্বপ্ন নিয়ে সার্ফিং করে যাচ্ছি। আশা করি আগামীতেও ভাল কিছু করতে পারবো।
উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির বলেন, বাংলাদেশের সার্ফিং এখন অনেকদূর এগিয়েছে। আমরা আসা করছি আগামীতে আরও ভাল করবে। সরকারের উচ্চ মহলকে অবহিত করা হচ্ছে। এখানে যেন একটা সার্ফিং ক্লাব করা হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আবছার বলেন, সৈকতে আসা পর্যটকদের চিত্তবিনোদন খোরাকই শুধু নয়, সমুদ্রে নামা মানুষের জীবন রক্ষাকারী হিসেবেও কাজ করছেন সার্ফাররা। আমরা মনে করছি আগামীতে একটি ক্লাব করা গেলে এ সার্ফাররা একদিন দেশের হয়ে বিদেশের মাটিতে আলোছড়া।

উল্লেখ্য যে, কক্সবাজারে সার্ফিংয়ের যাত্রা শুরুর গল্পটাও নেহায়েত মন্দ নয়। ১৯৯৬ সালে সার্ফিং বোট নিয়ে কক্সবাজারের উত্তাল তরঙ্গে দোল খেয়ে অভিভূত হয়েছিলেন লোন সার্ফার টম বাওয়ার্ডে নেতৃত্বে আসা একদল অসি-মার্কিন সার্ফার, তারা এদেশীয়দেরও অভিভূত করেছিলেন সেসময়। বিদেশি সার্ফারদের এই ঢেউয়ের নৃত্য দেখেই শখ জাগে বর্তমানে সার্ফিং আইকন হিসেবে পরিচিত জাফর আলমের। তারপর সাধনায় তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রথম সার্ফার। পরে ২০০০ সালের দিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সৈকতের অনেক শিশু হকার সার্ফিংয়ে যোগ দেয়। এরপর থেকে এগিয়ে যাচ্ছে জাহানারা মেহরাজরা।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!