এইমাত্র পাওয়া

x

পরিবারের কাছে ৭ জনের লাশ হস্তান্তর

সাগরে ভেসে আসা মৃতদেহ সংখ্যা বেড়ে ১০

শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯ | ৪:৪০ অপরাহ্ণ | 102 বার

সাগরে ভেসে আসা মৃতদেহ সংখ্যা বেড়ে ১০

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভেসে আসা ১০ জেলের লাশের মধ্যে ৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাতে এসব লাশ ট্রলার মালিক ওয়াজ উদ্দিনের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর হওয়া লাশের মধ্যে, ভোলার চরফ্যাশনের পুর্ব মাদ্রাস এলাকার তরিফ মাঝির ছেলে কামাল হোসেন (৩৫), চরফ্যাশনের উত্তর মাদ্রাস এলাকার নুরু মাঝির ছেলে অলি উল্লাহ (৪০), একই এলাকার ফজু হাওলাদারের ছেলে অজি উল্লাহ (৩৫), মৃত আব্দুল হকের ছেলে মো. মাসুদ (৩৮), শহিদুল ইসলামের ছেলে বাবুল মিয়া (৩০) ও নজিব ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত বুধবার থেকে এ পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সীগাল পয়েন্ট থেকে ৬ জন, মহেশখালী ধলঘাটা থেকে ১ জন, হিমছড়ি সৈকত, সমিতিপাড়া ও সায়মান বীচ থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

জীবিত উদ্ধার হওয়া মনির আহমদ মাঝি জানান, গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ভোলা চরফেশনের শামরাজ ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে পাড়ি দেয়। তারা মোট ১৪ জন এই ট্রলারে ছিলেন। গত ৬ জুলাই (শনিবার) ভোরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি থেকে ছিটকে পড়ে জেলেরা। পরে ট্রলারটিও উল্টে যায়। এরপর কে কোথায় হারিয়ে গেছে তা জানা যায়নি। কিন্তু ট্রলার ধরে রাখেন অনেকে। ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটি বার বার উল্টে যায়। তবুও আমরা ট্রলার ধরে রাখার চেষ্টা করি। সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় একবার ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে, আবার ধরে। তবে এই সময় প্লাস্টিকের বেশ কয়েকটি পানির বোতল ড্রামের সাথে বেঁধে ফেলি। দুয়েকটি বোতলের পানি রেখে অন্য সব বোতলের পানি ফেলে দেয়। এরপর এগুলো খেতে খেতে এতদিন ছিলাম।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘দুপুরে কক্সবাজার শহরের ভেলী হ্যাচারি সমুদ্র পয়েন্টে ১জন জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার (১০ জুলাই) সকালে শহরের সী-গাল সমুদ্র পয়েন্ট থেকে ৬জন ও বৃহস্পতিবার ৩জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ভোলা জেলার চরফ্যাশন এলাকার ওয়াজেদ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (১৭) ও মকবুল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ মনির (৩৮) কে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে স্বজনদের মাধ্যমে বাড়িতে ফিরে গেছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, ‘দুর্যোগপুর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে বিধ্বস্ত ট্রলারটির মালিকের নাম হচ্ছে ওয়াজেদ উদ্দিন ওরফে পিটার। তিনি কক্সবাজার আসলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের পরিবার আসছে, পরবর্তী ব্যবস্থা শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ভোলা চরফ্যাশনের শামরাজ ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে পাড়ি দেয়। তারা মোট ১৪ জন এই ট্রলারে ছিলেন। গত ৬ জুলাই (শনিবার) ভোরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি থেকে ছিটকে পড়ে জেলেরা। পরে ট্রলারটিও উল্টে যায়। এরপর ট্রলারে থাকা সব জেলে নিখোঁজ হয়ে যায়।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!