এইমাত্র পাওয়া

x

সমুদ্রপথে গরুর স্রােত

রবিবার, ০৪ আগস্ট ২০১৯ | ৬:৩৬ অপরাহ্ণ | 71 বার

সমুদ্রপথে গরুর স্রােত

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে আসছে বিপুলসংখ্যক গরু-মহিষ। গত দুদিনে বৈধ পথেই দুই হাজার ২২৮ গবাদিপশু শাহপরীর দ্বীপ করিডরে এসেছে। এর বিপরীতে প্রচুর রাজস্বও আদায় হয়েছে। আমদানির পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বেপারিরা এসব গরু-মহিষ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারি দামে। শুল্ক স্টেশন তথ্যমতে, বৈরী আবহাওয়া ও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের ঘাটতির কারণে বেশ কিছু দিন পশু আমদানি বন্ধ ছিল। তবে কোরবানি ঘিরে সমুদ্রপথে স্রােতের মতো গরু ও মহিষ আসছে।

শুল্ক স্টেশন তথ্য মতে, চলতি জুলাই মাসে বৈরি আবহাওয়া ও মিয়ানমারের সমস্যার কারনে বেশকিছুদিন পশু আমদানী বন্ধ থাকার পর ফের পুরোধুমে সমুদ্রেপথে ঝাঁকে ঝাঁকে মিয়ানমার থেকে আসছে কোরবানি পশু। গত দুই দিনে মিয়ানমার থেকে ২ হাজার ২২৮ টি গবাদি পশু এসেছে। তার মধ্যে ২ হাজার ২১২ গরু, ৬১৬টি মহিষ। তার বিপরীতে ১৩ লাখ ১৪ হাজার রাজস্ব পেয়েছেন সরকার। সর্বশেষ গেল জুলাইয়ে ১০ হাজার ৯৫টি গরু-মহিষ আসে। অথচ গত বছর জুলাইয়ে মিয়ানমার থেকে গরু-মহিষ আসে প্রায় ৫ হাজার। অর্থাৎ গত বছর জুলাইয়ের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে দ্বিগুণ গরু-মহিষ আমদানি হয়েছে। এছাড়া সরকার চলতি বছরে ৭ মাসে আমদানি করা পশু থেকে ২ কোটি ২১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা রাজস্ব পায়। গরু, মহিষ আমদানির পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বেপারীরা শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকে পাইকারি দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন

পশু আমদানীকারক শহিদুল ইসলাম জানান, শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে সারাবছর মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু আমদানী হয়ে থাকে। তবে ঈদ উল আযহার সময় বাড়তি চাহিদা থাকায় অধিক সংখ্যক গবাদি পশু আমদানী করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এখানকার গবাদি পশু স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-কুমিল্লাসহ সারাদেশে সরবরাহ হয়ে থাকে।

গতকাল দুটি ট্রলারে প্রায় আড়াই’শ গরু-মহিষ এসেছে পশু আমদানি কারক মোহাম্মদ সোহেল এর কাছে। তিনি জানান, ‘দেশের চাহিদা পুরনে ঝাঁকে ঝাঁকে কোরবানির পশু আমদানি করছি। এছাড়া ঈদ আসতে আরো কয়েকদিন সময় রয়েছে তার ভেতরে আরও কয়েক হাজার পশু আমদানি করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

টেকনাফ শুল্ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ময়েজ উদ্দীন বলেন, মিয়ানমারের পশু দআমদানী করে এই করিডোর রাজস্বে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। ঈদকে সামনে রেখে আমদানিকারকদের আরো বেশি মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস জানান, ‘কোরবানীর পশুর হাটে চাঁদাবাজি, জাল টাকার ব্যবহারসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের যাতে কোন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না হয় সেবিষয়ে পুলিশ নজরদারি রেখেছেন।

টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল ফয়সল হাসান খান জানান, সমুদ্রপথে মিয়ানমার থেকে পশু বোঝাই ট্রলারে যাতে কোন সমস্যা না হয় সেদিকে বিজিবির সদস্যরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে পশু আমদানী নির্বিঘœ করতে বিজিবি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ করিডোরটি শুল্ক স্টেশনের আওতাধীন একটি জোন। ২০০৩ সালে ২৫শে মে মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে গবাদি পশু আসা রোধে সাবরাং এর শাহপরীরদ্বীপ বিজিবির চৌকি সংলগ্ন এলাকায় এ করিডোর চালু করা হয়। আমদানীকৃত গবাদি পশু প্রথমে বিজিবির তত্বাবধানে রাখা হয়। পরে সোনালী ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে রাজস্ব জমা এবং স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের অনুমতি নিয়ে গবাদি পশু গুলো করিডোর থেকে ছাড় পত্র দেওয়া হয়

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!