দুর্নীতির অভিযোগ

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বদলীর আদেশপ্রাপ্ত জাকিরকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০ | ২:৩৭ অপরাহ্ণ | 90 বার

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বদলীর আদেশপ্রাপ্ত জাকিরকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

নিন্মমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কেন্দ্রিয় ঔষুধাগারের (সিএমএসডি) উপ-পরিচালক ডা. মো. জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন; যিনি সম্প্রতি কিছুদিন আগে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের নতুন তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে বদলীর আদেশ প্রাপ্ত হয়েছেন।
এদিকে দুর্নীতির অভিযোগ উঠা ঔষুধ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ এ কর্মকর্তার কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক হিসেবে বদলী করায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। স্থানীয়রা দুর্নীতিগ্রস্ত এ কর্মকর্তার বদলী আদেশ প্রত্যাহারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছে।
এছাড়াও একই সঙ্গে সিএমএসডি এর আরো ২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। এরা হলেন, জ্যেষ্ঠ স্টোর কিপার মো. ইউসুফ ফকির ও সাবেক মেডিকেল অফিসার ( চিফ কো-অডিনেটর) ডা. জিয়াউল হক।
সোমবার দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ১২ জুলাই কেন্দ্রিয় ঔষুধাগারের ছয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদে অন্য তলব করে দুদক।
রোববার প্রতিষ্ঠানটির সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান, ডেস্ক অফিসার ডা, সাব্বির আহম্মেদ ও স্টোর অফিসার কবির আহম্মেদকে একই ধরণের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
এর আগে গত ৮ জুলাই একই অভিযোগে জেএমআই হাসপাতাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং তম কনস্ট্রাকশনের সমন্বয়কারি (মেডিকেল টিম) মো. মতিউর রহমানকে পাঁচ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদকের এ অনুসন্ধান টিম।
তাদের সাথে ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান ও লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু ও এলান করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তারা দুদকে আসেননি।
এর আগে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, “ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার নিমিত্তে নিন্মমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে অন্যান্যদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত পূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। ”
এদিকে করোনাকালীন সময়ে মাস্কসহ কোভিড-১৯ এর সরঞ্জামাদি কেলেংকারির ঘটনায় অভিযুক্ত ডা. মো. জাকির হোসেনকে গত ৭ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ-সচিব শারমিন আক্তার জাহার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক (সুপার) হিসেবে আদেশ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে একই প্রজ্ঞাপনে আগে থেকে তত্ত¡াবধায়কের দায়িত্ব পালনকারি ডা. মো. মহিউদ্দিনকে ঢাকাস্থ মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর কিপার (সিএমএসডি) এর উপ-পরিচালকের পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
এ নিয়ে কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, জরুরি চিকিৎসাসহ সংকটাপন্ন রোগীদের স্বাস্থ্যসেবায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এখন স্বয়ং-সম্পূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতাল এখন বাংলাদেশের অন্য জেলাগুলোর হাসপাতালের মডেল হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ঠিক এ সময়ে মাস্ক কেলেংকারির মত আলোচিত দুর্নীতির ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাকে (চিকিৎসক) কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক করা হলে কক্সবাজার জেলাবাসীর জন্য ক্ষতি হওয়ারই সম্ভাবনা বেশী।
তাই দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠা এ কর্মকর্তাকে কক্সবাজারে বদলীর আদেশ প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন নাগরিক আন্দোলনের এ সংগঠক।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!