এইমাত্র পাওয়া

x

সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ আধুনিক ও বিশ্ব মানের

রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ | ৬:১২ পূর্বাহ্ণ | 82 বার

সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ আধুনিক ও বিশ্ব মানের

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগকে সংস্কার করে আধুনিক ও বিশ্ব মানের চিকিৎসাসেবায় পরিণত করা হয়েছে। দাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক রেডক্রস (আইসিআরসি’র) ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রাণালয়ের যৌথ উদ্যোগে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামাধি যুক্ত করা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে শনিবার (২০ জুলাই ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও পরে ফিতা কেটে জরুরী বিভাগের উদ্বোধন করে কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। এসময় তিনি বলেছেন, ‘গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবায় শেখ হাসিনার সরকার সারাদেশে ১৪ হাজার কমিউনিটি হাসপাতাল চালু করেছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ণের জন্য ইতিমধ্যে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ আধুনিক ও বিশ^মানের চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে নেয়া হবে। ‘আইআরসিআরসি’ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগকে সংস্কার করে চিকিৎসাসেবায় আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে। তাই আমাদের সকলের উচিত সকলের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই হাসপাতালকে রক্ষাণাবেক্ষন করা। এতে আমার-আপনাদের পাশাপাশি আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই হাসপাতালের মাধ্যমে বিশ^মানের চিকিৎসাসেবা পাবেন।

জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, দাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক রেডক্রস (আইসিআরসি’র) বাংলাদেশের গেড অফ ডেলিগেশন জেরার্ড পেট্রিকনেট। এসময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাধীনতার যুদ্ধচলাকালিন সময় থেকে ‘আইআরসি’ এখনও কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দেখেছি দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে সহিংসতা করে। আমরা চাই না বাংলাদেশে এমনটি হউক। আমরা চাই এখানকার মানুষ বিশ^মানের স্বাস্থ্যসেবা পেতে। এজন্য ‘আইসিআরসি’ কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠি ও রোহিঙ্গাদের চিকিৎসার মান উন্নত করতে কাজ করে যাচ্ছে’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘আইসিআরসি’ কক্সবাজার অফিসের প্রধান সাবরিনা ডিনংক বলেন, এটা শুধু আন্তর্জাতিক মানের বিষয় নয়, এটি জীবন বাঁচানোর জন্য। যদি রোগীদেরকে সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেয়া যায় তাহলে তাদের বাঁচানোর হার অনেক বেশি বাড়ানো সম্ভব। এর জন্য জরুরি বিভাগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম সবার জানা উচিত। যেমন গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সবার আগে চিকিৎসা দেয়া এবং রোগীদের সাথে পরিবারের একজনের বেশি সদস্য না থাকা, তখনই জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা রোগীদের ভালোভাবে সেবা দিতে পারবেন’।

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক ডা: মাহবুবুর রহমান, রেডক্রিসেন্ট কর্মকর্তা ছৈয়দ আলী নাসির খালেকুজ্জামান, সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল সালেহীন, সহকারি আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া, আবাসিক ফিজিসিয়ান মোহাম্মদ শাহজাহান ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির প্রমুখ।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগকে সংস্কার করে আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমানের রূপ দিতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি ‘আইসিআরসি’ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরি বিভাগে নতুনভাবে সংস্কার কাজে অর্থান ও বাস্তবায়ন করছে। এ উপলক্ষে আইসিআরসি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। হাসপাতালটি জেলার স্থানীয় জনগণ ও রাখাইন থেকে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া মানুষদের উন্নত চিকিৎসার ভরসাস্থল। তাই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বীকৃত মানন্ড অনুযায়ী জরুরী স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘আইসিআরসি’ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করছে।

জরুরী বিভাগকে নতুনভাবে সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘আইসিআরসি’ অবকাঠামো পুনর্বাসন আসবাসপত্র বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম সহায়তা হিসেবে দিয়েছে। পাশাপাশি জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যেন রোগীরা সর্বোচ্চ সেবা পেতে পারেন। এছাড়াও দেশের যেকোন মানুষ সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যদি ব্যাপকভাবে হতাহতের ঘটনা ঘটলে সে ক্ষেত্রে রেফারেন্স সিস্টেম ব্যবস্থাপনার জন্য কক্সবাজার কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করবে ‘আইসিআরসি’।

কক্সবাজার জেলার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগকে সহায়তা দিতে হাজার ২০১৮ সালের ১২ই আগস্ট ‘আইসিআরসি’ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সাথে ৩ বছর মেয়াদী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। মিয়ানমার রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা জনগোষ্ঠীর কারণে উখিয়া ও টেকনাফে স্বাস্থ্য সেবার উপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে সেটি মোকাবেলায় ‘আইসিআরসি’ ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ‘বিডিআরসি’ সাথে নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্প এবং সীমান্ত এলাকা যেমন- তমব্রু সীমান্তের

কোনারপাড়ার ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিমের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছে। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ সেবা পেয়েছে। পাশাপাশি ২০১৪ সাল থেকে ‘আইসিআরসি’ ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ‘বিডিআরসি’ উখিয়া ও টেকনাফে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল নিয়োগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সরঞ্জাম সহ অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!