এইমাত্র পাওয়া

x

সদর সাব-রেজিষ্টার অফিস দুর্নীতির আখড়া

রবিবার, ১৪ জুলাই ২০১৯ | ৩:২৭ অপরাহ্ণ | 152 বার

সদর সাব-রেজিষ্টার অফিস দুর্নীতির আখড়া

কক্সবাজার সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস যেন অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া। এ অফিসে সেবার নামে চলছে নানা অনিয়ম ও মোটা অংকের বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসা। একারণে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে জেলার দূর-দুরান্ত থেকে আসা সেবা প্রার্থীরা। আর এই অফিসকে জমি রেজিষ্ট্রি করতে সেবাপ্রার্থীদের ঘিরে তৈরী হয়েছে সজীব-ধনন জয় নামে দুই ‘মোহরার’ সিন্ডিকেট। রেজিষ্ট্রির প্রয়োজনীয় দলিল পত্র তাদের হাত দিয়ে যেতে হয় সাব-রেজিষ্ট্রারের কাছে। আর সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ভূক্তভুগীদের। এমন কি চাহিদা মতো টাকা না দিলে হয়রানীর শিকার হতে হয় এসব দূর-দুরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রার্থীদের।

এদিকে জানা যায়, সরকারীভাবে একজন জেলা রেজিষ্ট্রার ও আটটি উপজেলায় ৮জন সাব-রেজিষ্ট্রার থাকার কথা। তার মধ্যে ৮ উপজেলায় ৪জন সাব রেজিষ্ট্রার, সেদিকেও নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজর। আর সদরে রয়েছে সাব-রেজিষ্ট্রার ও সহকারী কর্মকর্তা-রেকর্ড কীপার ও সহকারী রেকর্ড কীপার সহ দুইজন ‘মোহরার’ নিয়োগ দেয়া হয়। আর সেই দুইজন সজীব ও ধনন জয়। কিন্তু তারা ছাড়া আরও অন্তত ৩০জন অস্থায়ী মোহরার রয়েছে এ অফিসে। নিজ তলা থেক উপর তলা পর্যন্ত সব জায়গায় নাকি টাকা আর টাকা, শুরুতেই নিজ তলা। মানি ধনন জয় আর সজীবের হাতে জিম্মি সাধারণ মানূষ। একটি জায়গা রেজিষ্ট্রারে প্রায় মোজার মুল্য অনুযায়ী শতকরা হিসাবে অর্ধেক দিতে হয় এই সিন্ডিকেটকে।

সেবা প্রার্থীরা জানান, আর একই সাথে তৃত্বীয় তলায় নকল বিভাগে কয়েকজন কর্মচারী সংশ্লিষ্টরা সরকারী নিয়মে ৭ দিনের মধ্যে নকল দেয়ার ক্ষেত্রে ২৫২ টাকা সরকারী ফিঃ রয়েছে। এই নির্ধারিত ফিসকে পুঁজি করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পৃষ্টা অনুযায়ি। সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে জমি ক্রেতার কাছ থেকে প্রতি পৃষ্টা ১শত টাকা খরচ বলে অতিরিক্ত আদায় করছে প্রকার ভেদে ১২শত থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে এরজন্য দীর্ঘদিন সময় অপেক্ষা করতে হয় সংশ্লিষ্ট জমি ক্রেতাকে।
সূত্রে জানাযায়, রেজিস্ট্রি অফিসে কিন্তু এরকম কোন টাকা আদায় বা নিয়মতো সরকার করেনি। নিয়ম রয়েছে যদি কোন ব্যক্তি হেবাপত্র (দানপত্র) দেয় তাহলে সে কেত্রে ১হাজার টাকা খরচ হয় রেজিষ্ট্রার অফিসে। কোন জমি মালিক যদি অন্য ব্যক্তিকে এটর্নি পাওয়ার দিতে চাই। সে ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা মতো রেজিষ্ট্রার অফিসে নেয়ার নিয়ম রয়েছে বলে জানেন ক্রেতারা। ১ হাজার টাকার বেশি লেনদেন ওই অফিসে তাকে না বলেও জানান তারা। বাকি সব সরকারী লেনদেন হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। কিন্তু সজীব-ধনন জয় কিসের টাকা নিচ্ছে তারা।

এদিকে মরিচ্যা থেকে সেবা নিতে আসা মশিউর রহমান নামে এক বৃদ্ধা জানান, ‘দলিল কার নামে আছে বা দলিলের তথ্য যাচাই করার জন্য তল্লাশি করতে প্রতি বছরের নেয় ১শ’ টাকা করে দিতে হবে। এই ১শত টাকা মুল্য অনেক আগে থেকে জানি আমরা। যদি তা দিতে না পারি তবে রেজিষ্ট্রার ভলিয়ম থেকে তা দেখাবে না। কিন্তু সরকারীভাবে টাকা দেয়ার নিয়ম আছে বলে মনে হয়না। কিছুই করার নাই জমির জন্য দাড়িয়ে না থেকে সেবা নিয়ে চলে যাওয়াই ভাল মনে করি’।

কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার আবদু রহমান জানান, ‘ব্যাংকে লোন নেয়ার জন্য কাগজ পত্র অনুযায়ী ১২ বছরের নির্দায় সনদ দরকার হয়। আর তা রেজিষ্ট্রার অফিসে নিতে গেলে ওই অফিসের নিচ তলার বিদ্যুৎ নামের এক কর্মকর্তা পনের শত টাকা লাগবে বলে দাবী করেন। সরকারি নিয়মে কয় টাকা লাগে তা জানতে চাইলে তৃতীয় তলায় যাওয়ার পরামর্শ দেন’।
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল বঙ্গবন্ধু বাজার এলাকা থেকে রেজিষ্ট্রার করতে আসা বাদল অভিযোগ করে জানান, আমি একটা রেজিষ্ট্রি করেছি আমার থেকে সরকারী টাকার চেয়ে সব মিলিয়ে অতিরিক্ত শতকরা ১টাকা বেশি দিতে হয়েছে তাদের। কিন্তু এরকম কোন নিয়ম নেই জেনেও প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে হতবাক হন ওই বৃদ্ধ।

রেজিষ্ট্রি করার পূর্বে দলিল যাচাই বাচাই করার দায়িত্বে থাকা (মোহরার) সজিবের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে সদর সাব-রেজিষ্ট্রার মাজেদা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। যদি পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া যায় তাহলে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!