এইমাত্র পাওয়া

x

সক্রিয় হচ্ছে ছাত্র শিবিরের ‘ফুলকুড়ি আসর’

রবিবার, ৩০ জুন ২০১৯ | ৪:৩০ অপরাহ্ণ | 303 বার

সক্রিয় হচ্ছে ছাত্র শিবিরের ‘ফুলকুড়ি আসর’

কক্সবাজার শহরে প্রগতিশীল শিশু কিশোর সংগঠন রয়েছে প্রায় ডজনেরও বেশি। এ সব শিশু-কিশোর সংগঠন গুলোর মধ্যে দু-একটি দায় সাড়া ভাবে নিজেদের কাজ চালিয়ে গেলেও বাকি সংগঠন গুলোর দেখা মেলা ভার। আর এই সংকটে জেলার প্রায় অর্ধ-লক্ষ শিশুদের মননশীল হয়ে ওঠা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে সংখ্যার দিক থেকে প্রগতিশীল শিশু সংগঠনের আধিক্য থাকলেও কার্যক্রমে এগিয়ে রয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী শিশু সংগঠনগুলো। শুধু দিবস পালন আর হাতেগুনা কয়েকটি অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শিশু সংগঠনগুলো। আর তাদের ওই নিস্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নিয়ন্ত্রণাধীন শিশু কিশোর সংগঠন “ফুলকুড়ি আসর”। সুন্দর ব্যবহার আর ধর্মীয় লেবাসকে কাজে লাগিয়ে কোমলমতি শিশুদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত এই শক্তিরা।

প্রগতিশীল শিশু কিশোর সংগঠনের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে স্বীকার করে কক্সাবাজার জেলা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ বলেন, কক্সবাজার খেলাঘরের কমিটি পূর্ণগঠিত হওয়ার পর থেকে শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে। কক্সবাজারে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শিশু কিশোর সংগঠন রয়েছে হাতে গুণা কয়েকটি। এর মধ্যে প্রায় নিষ্কিয় হয়ে পড়েছেন। স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন “ফুলকুড়ি আসর” মূলত স্কুল ভিত্তিক সক্রিয় থাকে। তবে আমাদের স্কুল ভিত্তিক কোন প্রোগ্রাম করা হয় না।

তাদের কার্যক্রম চালানোর ব্যাপারে এই সংগঠক বলেন, স্বাধীনতার এতো বছর পরও স্বাধীনতা বিরোধীরা এদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এটা খুবই দুভাগ্যজনক।
এদিকে একটি আইনশৃংখলা বাহিনীর বিশ^স্ত সুত্রের তথ্য মতে, বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির পরিচালিত ফুলকুড়ি আসরের প্রকাশ্যে কোন কার্যক্রম নেই। তবে ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে মাসিক কিশোর কন্ঠ নামের একটি ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। আর এই ম্যাগাজিন প্রকাশের অজুহাতে ছাত্রশিবিরের ফুলকুড়ি আসরের কার্যক্রম গোপনে চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্কুলের ৬ষ্ট ও ৭ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের টার্গেট করছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরী উচ্চ বিদ্যালয় ও সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক ছাত্রদের সংগঠিত করেছে এরা। আর ওই ছাত্রদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, কোমলমতি শিশুদের ইনডোরে খেলাধূলার ব্যবস্থা করেছে সংগঠনটি। এর জন্য শহরের ভেতরে অবস্থান করা একটি স্কুলে বহুতল ভবনের একটি কক্ষ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া প্রায় প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার একদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানা প্রতিযোগীতার আয়োজন করেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এসব প্রতিযোগীতা বেশীরভাগ সময় অনুষ্ঠিত হয় শহরের একটি মসজিদের দ্বিতীয় তলায়।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাম মোহন সেন বলেন, আমার স্কুলে ফুলকুড়ি আসরের কোন কার্যক্রম নেই। তবে বাইরে যদি কেউ কাযক্রম চালিয়ে থাকে সে বিষয়ে আমার জানা নেই। সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হচ্ছে সম্পূর্ণ রাজনীতি মুক্ত। স্কুলে ফুলকুড়ি আসরে কোন কার্যক্রম চোখে পড়লে ছাত্ররা লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া।

নাম প্রকাশে অনিশ্চুক ওই স্কুলের ৭ষ্ঠ শ্রেণীর এক মেধাবী ছাত্র জানান, তাদের শ্রেনীর প্রায় ৩০/৪০ জন ছাত্র নিয়মিত ফুলকুড়ির নানা আয়োজনে উপস্থিত থাকেন। কারণ ওখানে গেলে তাদেরকে নাস্তা দেওয়া হয়, নানা ধরনের খেলা ধূলা ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া তাদেরকে নানা ধরনের গল্পের বই বাড়িতে নিতে দেওয়া হয়।
ওই ছাত্র অভিযোগ করে আরো বলেন, ফুলকুড়ি আসরের ওইসব বড় ভাইরা ছাড়া তাদের কাছে অন্য কোন শিশু কিশোর সংগঠনের নেতাকর্মীরা আসেনি।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন কবির স্বীকার করে বলেন, স্বাধীনতা স্বপক্ষের শিশু কিশোর সংগঠনগুলো কোমলমতি ছাত্রদের কাছে যায়না। যদি কোন শিশু তাদের কাছে আসে তবেই তাকে নিয়ে কাজ করে সংগঠন। এভাবে চলতে থাকলে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা আরো বেশী বেপোরোয়া হয়ে উঠবে।
স্বাধীনতা স্বপক্ষের শিশু কিশোর সংগঠনের শিথিলতার কারণ হিসেবে তিনি জানান, ফুলকুড়ি আসরের দায়িত্বপালনকারী বেতন পায়। পক্ষান্তরে স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তি শিশু কিশোর সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোন ধরনের পৃষ্টপোষকতা পান না। এ বিষয়টিই স্বাধীনতা স¦পক্ষের শিশু কিশোর সংগঠনের শিথিলতার মূল কারণ।
এদিকে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের এভাবে তৎপরতা চলতে থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থী বিপথে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে জেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি আবুল কাশেম বাবু জানান, কক্সাবাজার জেলা খেলাঘর আসর শিশু কিশোরদের মননশীল বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করে থাকে। এর মধ্যে পথশিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র ও ঈদের কাপড় বিতরণ ছাড়াও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্রগতিশীল নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। ফুলকুড়ি আসর হচ্ছে ছাত্রশিবিরের কর্মী তৈরি করার প্রথম ধাপ। মিষ্টি ব্যবহার আর ধর্মীয় কথাবার্তা বলে প্রথমে শিশুদের ব্রেন ওয়াশ করা হয়। এর পর এদেরকে উগ্রবাদী হিসেবে তৈরি করা হয়। এক কথায় জঙ্গি তৈরির কারখানা। জেলা শহরে গোপনে ফুলকুড়ি আসরের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।

আর বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সভাপতি ফরহাদ ইকবাল জানান, শহরে অবস্থান করা কথিপয় স্কুলের শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির কর্তকর্তার উদাসিনতা ও আশ্রয় প্রশ্রয়ে জামাত শিবির তৈরির প্রথম ধাপ কুলকুড়ি আসর আবারও সক্রিয় হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। এরা কুমলমতি শিশুদের টার্গেট করে কার্যক্রম চালায়। জামাত-শিবিরের এসব কর্মকান্ড অবিলম্বে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না গেলে আবারও জঙ্গীবাদ মাথা ছাড়া দিয়ে উঠবে।
বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা জেলায় শিশু কিশোরদের নিয়ে কাজ করে তাদের সংগঠন। এ সংগঠনের আওতায় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় ১০২ টি ইভেন্টের প্রতিযোগীতা। এছাড়া তাদের নিজস্ব অর্ধশতাধিক শিশু শিল্পী রয়েছে। যারা জাতীয় অনেক পুরষ্কার পেয়েছে।

আর এ থেকে উত্তোরণের উপায় হিসেবে তিনি আরো জানান, শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলায় শিশু সংঘঠনগুলোর ভূমিকা অনেক বেশি তাই প্রগতিশীল শিশু সংঘঠনের কার্যক্রম আরো বাড়াতে হবে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির শিশু সংগঠনগুলোকে একত্রিত হতে হবে। একযোগে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির বিরদ্ধে কাজ করতে হবে।

কক্সবাজার শিশু একাডেমীর কর্মকর্তা সুদিপ্তা চক্রবর্তী বলেন, শিশু একাডেমী নিয়মিত শিশু কিশোরদের জন্য নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। আর তাদের সমস্ত আয়োজনে স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তির শিশু সংগঠনগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, ভবিষ্যত প্রজন্ম তৈরির মাধ্যম শিশু কিশোর সংগঠনগুলো। তাই মুক্তিযুদ্ধের ভবিষ্যত প্রজন্ম তৈরি করতে হলে স্বপক্ষের শিশু কিশোর সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এছাড়াও আমরা পথশিুদের নিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করার উদ্যোগ গ্রহন করেছি।

কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, বিষয়টা আপনার কাছে শুনলাম। কোন কোন স্কুলে ফুলকুড়ি আসরের কার্যক্রম চলছে তা খতিয়ে দেখা হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রতিটা শিশু সংগঠনের দরকার তাদের নিজেদের কার্যক্রম বাড়ানো। সরকারের পক্ষ থেকে শিশু সংগঠনের সাথে বসে তিনি নিজে বিষয়টি নিয়ে তদারকি করবেন বলে জানান।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!