এইমাত্র পাওয়া

x

সক্রিয় নকল আচার ব্যবসায়ীরা

বুধবার, ০৩ জুলাই ২০১৯ | ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ | 157 বার

সক্রিয় নকল আচার ব্যবসায়ীরা

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নগরী কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল গুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না পর্যটন মৌসুমে। সাগরের নোনা জলে গা ভেজাতে বিশ্বের সর্ব বৃহত্তম এই সৈকত এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়। কিন্তু চলমান বর্ষা মৌসুমেও হাজারো পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছে। সে সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে কিছু অসাধু নকল বার্মিজ আচার ব্যবসায়ী। কারণ যারাই সমুদ্র দর্শনে আসেন। তারাই বার্মিজের আচার কিনতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখান। কিন্তু ক্রেতা ঠকাতে বার্মিজ নকল পণ্যের সয়লাব। আর সেগুলোই বাজারে বিক্রি হচ্ছে দেদারছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার শহরে ভেজাল আচার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয়। সমৃদ্র সৈকতসহ শহরের বিভিন্ন মার্কেটে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল আচার। এসব আচারের স্থায়িত্ব রক্ষার জন্য ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর ফরমালিন। শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কারখানা খুলে বসে করছে রমরমা ব্যবসা।

এদিকে মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল থেকে সৈকত নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে, বার্মিজ মার্কেট, সৈকতের লাবণী, সৃগন্ধা পয়েন্ট ও হোটেল-মোটেল জোন পরিদর্শন করে দেখা গেছে অর্ধশতাধিক দোকানে ভেজাল আচার বিক্রি হচ্ছে। আকর্ষণীয় ও রঙিন মোড়কে আচারের প্যাকেটে মায়ানমারের (বার্মিজ) স্টিকার থাকলেও সেগুলো নগরীতেই নোংরা পরিবেশে তৈরি করা হয়। চাকচিক্য প্যাকেটের ভেতরে রয়েছে পঁচা আচার।

সকালে সুগন্ধা পয়েন্ট এর মাথায় ছাঁয়া স্টোর হাউজে পঁচা আচার নিয়ে অভিযোগ করতে শোনা গেছে আব্দুল মালেক নামের এক পর্যটককে। তিনি অভিযোগ করেন, প্যাকেটে মেয়াদ ঠিক থাকলেও প্যাকেট থেকে বের করা আচার দুর্গন্ধ। বিষয়টি আমলে নিয়ে করা এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, সৈকত নগরীর কমপক্ষে ২০ টি অবৈধ আচার কারখানা রয়েছে। শহরের বাজারঘাটার জমজম মার্কেটে মান্নান, রাজু দাশ। বিডিআর ক্যাম্প এলাকায় মনুু, বউ করিম, এনাম, ডিককুল এলাকায় আলী হোসেন, নেজাম। বাহারছড়া এলাকায় খাইরুল আমিন, জাহাঙ্গীর। চরপাড়ার ফদনার। ডেইল এলাকার করিম। বায়তুশ শরফ রোডের শরিফ। লাইট হাউসপাড়ায় মো. মহিব উল্লাহ, কুলিয়াপাড়ায় ছুরত আলম। কারখানাগুলোতে ভেজাল আচার তৈরি করছে। মৌসুম শেষ হলেও ভেজাল আচার তৈরী কারখানা বন্ধ না হওয়ায় এ ভেজার আচার সাড়া দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছে সংশ্লিষ্ট্যরা।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পচা বরই, তেঁতুল, কেমিক্যাল, গুড়, চিনি, রংসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে আচার তৈরি করা হচ্ছে। তৈরি আচার প্যাকেটজাত করা হয় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মায়ানমার ভাষায় ছাপানো নকল প্যাকেটে ভরা হচ্ছে। আর সেগুলোই পর্যটন এ নাগরীর বিভিন্ন দোকানে ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শহরে কুতুবদিয়াপাড়া, চরপাড়া, গাড়ির মাঠ, এস এম পাড়া ও বিশেষ করে বাস টার্মিনাল আশপাশেও ভেজাল আচার তৈরি হয়। এসব এলাকায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত একাধিকবার অভিযান চালালেও বন্ধ হয়নি নকল আচার তৈরির কারখানা। সম্প্রতি সহকারী কমিশনার (ভুমি)’র নেতৃত্বে সুগন্ধা পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানাও করেন।

বিষয়টি এ প্রতিবেদকের কাছে অস্বীকার করেননি জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। তিনি বলেন, পর্যটকদের ঠকানো ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। আমরা ভেজাল পণ্য ও ক্রেতা ঠকানো প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবো। সে লক্ষ্যেই কাজ করছি আমরা।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!