সংসদের বাজেট অধিবেশনে সদ্য প্রয়াত অ্যাড. জহিরুল ইসলামকে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২০ | ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ | 218 বার

সংসদের বাজেট অধিবেশনে সদ্য প্রয়াত অ্যাড. জহিরুল ইসলামকে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

গতকাল বুধবার সংসদের বাজেট অধিবেশনের শোক প্রস্তাবে সদ্য প্রয়াত অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামকে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের দেশে দেশে ব্যাপক প্রাণহানি, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান মোল্লা, আটজন সাবেক সংসদ-সদস্য ও সাবেক গণপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের মৃত্যুতে আজ সংসদে সর্বসম্মতভাবে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জহিরুল ইসলাম সাহেব, কক্সবাজার। ষাটের দশকে যখন রাজনীতি একদম নিষিদ্ধ ছিল তখন আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগার থেকে মুক্তি পান। ‘৫৮ সালে মার্শাল ল হওয়ার পর তিনি গ্রেপ্তার হন। এবং তারপর থেকে প্রতিবছরই, তখন রাজনীতি যেহেতু নিষিদ্ধ কক্সবাজার যেতেন, আমরা যেতাম। এবং তখন উনি (অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম) ছাত্র ছিলেন। এবং তার পরবর্তীতে… আমার মনে হয় ‘৬৮ সালে আমি কক্সবাজার গেলাম। সেই সময়, আমি তখন রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলাম তখন উনি একটা প্রশ্ন করেন।

সংসদ নেতা বলেন, বিয়ের পরপরই আমি কক্সবাজার যাই, তখন উনি আমার স্বামীকে জিজ্ঞেস করেন, জাতির যখন কোন প্রয়োজন হবে আপনি আপনার স্ত্রীকে অনুমতি দিবেন কিনা। তখন আমি ঠাট্টা করে বললাম অনুমতির কি আছে, আমি তো বিয়ের দিন থেকেই, সারাক্ষণই রাজনীতির সাথে জড়িত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আমি, আমি তো ছাত্রলীগ করি এবং ছাত্রলীগের একজন কর্মী। তো এখানে অনুমতির কি আছে? আমি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে হিসেবে আমার তো অন্য কোন কিছু নাই। আমার আব্বা যখন জেলে, আব্বাকে তখন ষড়যন্ত্র মামলায় কারাগারে রেখেছে, সেই সময় ১৮-১৯ নভেম্বরে আমরা গিয়েছিলাম। ঐ সময় জহিরুল ইসলাম সাহেব, তখনো আমাকে সবসময় উৎসাহ দিতেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যদিও পরবর্তীতে উনি কামাল হোসেন সাহেবের সাথে চলে যান। সবসময় আমার সাথে সাথে উনার যোগাযোগ ছিল। এবং আমি উনাকে বলতাম, যে আপনার দরজা আওয়ামী লীগের জন্য সবসময় খোলা থাকবে। ঠিক মৃত্যুর কিছুদিন আগে, খুব অসুস্থ ছিলেন। খালি বললেন নেত্রীকে একটু বলো, আমি একটু আওয়ামী লীগ হয়ে মরতে চাই। আমি তো উনাকে কখনো বের করে দেইনি। উনি নিজেই যান উনি আসেন, উনি আছেন, উনি থাকবেন। বলেন আমি যেন আওয়ামী লীগ হিসেবে একটু জানাজা পাই। এবং এভাবে আরো অনেকে যারা মারা গেছেন তাঁদের যে একটা অবদান আমাদের সংগঠনের পেছনে।

একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা ছাড়া মৃত্যুবরণকারী সাবেক সংসদ সদস্যরা হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউর রহমান রেজা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক খন্দকার আসাদুজ্জামান, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ বেগম, আলহাজ্ব মকবুল হোসেন, কামরুন নাহার পুতুল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আনোয়ারুল কবির তালুকদার, এম এ মতিন ও সৈয়দ রাহমাতুর রব ইরতিজা আহসান।

এছাড়া, এমিরেটাস অধ্যাপক ও উপমহাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামান, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সহধর্মিণী আনোয়ারা রাব্বী, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ এমপির সহধর্মিণী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগম, অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের পুত্রবধূ, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এ কে ফাইজুল হকের স্ত্রী মোসাম্মৎ মরিয়ম বেগম, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির বড় ভাই এবিএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী, সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের পিতা সুশান্ত সরকার, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ড. সাদাত হুসাইন, জাতীয় অধ্যাপক ও খ্যাতিমান প্রকৌশলী জামিলুর রেজা চৌধুরী, স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুর, একুশে পদক প্রাপ্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. মজিবর রহমান, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট আলেম কাজী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী, সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের পরিচালক গোলাম রাব্বানী হেলাল, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত সুরকার, সংগীত পরিচালক এবং কণ্ঠশিল্পী আজাদ রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মোনেম লি. এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মোনেম এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নারী ক্যামেরাম্যান রোজিনা আক্তারের মৃত্যুতে সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

এছাড়া, প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে-বিদেশে যে সকল ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসন, পুলিশের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মৃত্যুতে সংসদ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তা-বে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন স্থানে নিহতদের স্মরণে জাতীয় সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা আক্রান্ত ও দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে জাতীয় সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করে। এসময় সকল বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।

এর আগে শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের বেগম মতিয়া চৌধুরী, আ স ম ফিরোজ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, জাসদের হাসানুল হক ইনু ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ।

শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনা শেষে মৃত্যুবরণকারীদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এর আগে তাদের স্মরনে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সংসদে অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামকে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!