শুভ নববর্ষ: ‘তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে’

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ১:০৬ অপরাহ্ণ | 182 বার

শুভ নববর্ষ: ‘তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে’

রবীন্দ্রনাথের গানের এই কথাগুলো যেন এখনকার পৃথিবীর জন্য। করোনার প্রকোপে একদিকে লাখো মৃত্যু, আরেকদিকে নিয়ম মেনে জীবনের এগিয়ে চলা। তারই ধারাবাহিকতায় এরমধ্যেই বাংলা নববর্ষের শুরু। বরীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেই বাঙালি মন গেয়ে উঠবে— ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে। তবু প্রাণ নিত্যধারা, হাসে সূর্য চন্দ্র তারা, বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে॥’

দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি আর লকডাউনের মধ্যে এবারের নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান, চারুকলায় মঙ্গলশোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণের চিরাচরিত যে নিয়মে বাংলাদেশের মানুষ বাঁধা পড়েছিল, সে নিয়ম এবার নেই— যেন জনসমাগম না হয়।

সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, আমরা নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শপথ নিই— সামাজিক ভাইরাস প্রতিহত করার। পুরনো বৈষম্য ও অধিকারহীনতা যেন জেঁকে না বসে, সেটি মনে রাখতে হবে। সামাজিক সমাজতন্ত্র যেন কায়েম করতে পারি নতুন বছরে সেই নতুন প্রত্যাশা দিয়ে শুরু করি। এবারের প্রত্যয় যেন ব্যক্তিগত না হয়ে সমষ্টিগত হয়। নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারলে আবারও লাল-সাদা কাপড় পরে নতুন বছরকে আহ্বান জানানোর দিন আসবে। মনে রাখতে হবে এক বৈশাখে শেষ হবে না। আগামী বৈশাখে আমরা আবারও আগের মতো উদযাপন করবো।

নাট্যজন হাসান ইমাম ‘এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ আমাদের হাতে নেই’ উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সার্বিকভাবে উত্তরণ না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো না। যে কারণে এবারের উদযাপন সব জায়গায় বন্ধ, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ। আগে তো মানুষ।’ তিনি আরও  বলেন, ‘মানুষকে বাঁচানোর জন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত রাখতে হবে। সেটা ভেবে কষ্ট লাগছে। কারণ, নতুন বছরকে আবাহনের সঙ্গে প্রথম থেকে জড়িত ছিলাম। সেই যখন বলধা গার্ডেনে হতো, পরবর্তীতে রমনাতে আসলো। পুরো সময়ই এর সঙ্গে আমি ছিলাম। এবার কোথাও থাকবো না ভেবে কষ্টকর লাগছে।’ এর আগেও একবার বৈশাখের সব অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হয়েছিল উল্লেখ করে এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, ‘সেবার বৈশাখে টর্নেডো হয়েছিল। ডেমরাতে দুটো গ্রামে ত্রাণকাজ পরিচালনা করেছিলাম আমরা। সেবারও বন্ধ ছিল সব। এবারতো বাইরেও বের হতে পারছি না।’ তবে তিনি এও বলেন, ‘অনুষ্ঠান পালন করা মনের ব্যাপার। সেই মনকে বাঙালি জাতীয়তাবাদে আরেকবার ঝালিয়ে নিই নিজেরা। সেটাই হোক এবারের প্রত্যয়।’

সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম এবারের বর্ষবরণের বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেন, ‘প্রথমত তথাগতভাবে যেভাবে বরণ করি, সেই উদযাপন যেন না করি। ব্যক্তিগতভাবে পরিবারের সঙ্গে যেন থাকি। জনসমাগম ঘটালে পরিস্থিতি আরও  প্রতিকূল হবে এবং আমরা আরেক বছরের জন্য হয়তো পিছিয়ে যাবো। নতুন বছরের কয়েক মাসের মধ্যে নতুন করে বিশ্ব গড়বো। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে আগামীকাল উদযাপন না করার মধ্য দিয়েই শুরুটা হোক।’

উদযাপন হয় কতগুলো কারণে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুরনো যা শিক্ষা তা যেন গ্রহণ করি এবং এগিয়ে যাই। করোনাভাইরাস শিখিয়ে দিলো— মানুষ একা জীবনযাপন করে না। বড় বড় দেশ এক কাতারে এসে গেছে এই ভাইরাসের প্রকোপে। অফিসের মালি থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এখন এসে আমরা বুঝতে শুরু করেছি শেষ বিচারে আমরা মানুষ। যত বিত্তশালী প্রভাবশালী হোক না কেন একইরকম অরক্ষিত। এই শিক্ষা যদি সমাজের কাজে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে আগামী অন্যরকম হবে। বিত্ত ক্ষমতার প্রতি যে মোহ তা যেন পরিত্যাগ করি।’ চাল নিয়ে খেলাধুলা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গরিবকে কষ্ট দিচ্ছি। এই সামাজিক ভাইরাস প্রতিহত করতে হবে। এই ধরনের ভাইরাস উৎখাতের জন্য ভ্যাকসিন দরকার, আর সেটি হলো শক্ত প্রতিরোধ।’

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!