এইমাত্র পাওয়া

x

শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ফণী

বৃহস্পতিবার, ০২ মে ২০১৯ | ৯:০৩ অপরাহ্ণ | 207 বার

শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ফণী

ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে এবং কক্সবাজার সমূদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার সমুদ্রবন্দরের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। ঘূর্ণিঝড় ফণীর কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার যা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার (৩ মে) বিকেলে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ফণি।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২ মে) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার (৩ মে) বিকেল নাগাদ আঘাত হানতে পারে। আমরা ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে মাঠে নামানো হয়েছে। ৮ নম্বর সংকেত হলেই লোকজনকে সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে আসবে। ৪ হাজার ৪৭ টি শেল্টার তৈরি রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক জেলায় ২০০ টন করে চাল, ৫ লাখ নগদ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। ওয়াটার ট্রাক মাউন্টেন রেডি রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে খবর পেয়েছি বাংলাদেশ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। ঘণ্টায় ২৭ কিলোমিটার গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। খবর পেয়েছি ফণী ওড়িশা উপকূলে আঘাত হেনেছে। এরপর যদি পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানে, তাহলে দুর্বল হয়ে যাবে, তাতে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কমে যাবে। আর যদি উত্তরে সরে যায় তাহলে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে।’

ফণী মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগকে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যেনো জনগণের পাশে দাঁড়ায়। বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মাধ্যমে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর সারাদেশে বিশেষ মোনাজাত করার অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমের সময় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০-১১০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ফণীকে কেন্দ্র করে দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার দুরুল হুদা বলেন, `বন্দরে জাহাজ আগমন-নির্গমন ও অবস্থানরত জাহাজগুলোতে পণ্য বোঝাই-খালাস কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্দরের ফেয়ারওয়ে, হাড়বাড়িয়া ও পশুর চ্যানেলে অবস্থানরত সকল বিদেশি জাহাজসহ দেশি নৌযানগুলোকে নিরাপদে অবস্থান নিতে নিদের্শনা দিয়েছে বন্দরের হারবার বিভাগ। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ডের বড় জাহাজগুলো বন্দর চ্যানেলে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। সুন্দরবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি নিয়ে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন বিভাগ।’

এদিকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর থেকে পৌর এলাকার প্রত্যেক ওয়ার্ডে মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় কক্সবাজারেরর উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিভিন্ন সংস্থার ১০ হাজারের বেশি কর্মী। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮৯ টি মেডিকেল টিম।

আরও পড়ুন:-ফণী: বিশেষ নজরে সেন্টমার্টিন

আরও পড়ুন:-ঘুর্ণিঝড় ফণী: কক্সবাজারে ৪শ মেট্রিক টন চাল মজুদ

আরও পড়ুন:-‘ফোনি’ মোকাবিলায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী

আরও পড়ুন:-৪-৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে উপকূল

আরও পড়ুন:-কক্সবাজারে ‘ফনী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত ১০ হাজার কর্মী

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!