একনেক অনুমোদিত প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি

শাহপরীর দ্বীপ ভাঙা সড়কের জোড়া লাগবে কবে ?

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৬:২২ পূর্বাহ্ণ | 158 বার

শাহপরীর দ্বীপ ভাঙা সড়কের জোড়া লাগবে কবে ?

টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপের সড়ক পথের দূরত্ব মাত্র ১৩ কিলোমিটার। বিগত ২০১২ সালে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের হানায় দ্বীপের পশ্চিমের বেড়িবাঁধ ভেঙে অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে নিয়মিত জোয়ারের পানি ঢুকে টেকনাফ-সাবরাং হারিয়াখালী থেকে শাহপরীর দ্বীপ উত্তর পাড়া পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক বিলীন হয়ে যায়। তখন থেকে ভাঙা ওই ৫ কিলোমিটার সড়কে যাতায়ত বন্ধ হয়ে দ্বীপবাসীকে বিকল্প খাল পথে নৌকায় চড়ে পাড়ি দিতে হয়। এতে জোয়ার ভাটার বৃত্তে বন্দি দ্বীপের ৪০ হাজার মানুষের ভোগান্তিও বেড়ে যায়।

দ্বীপবাসী জানান, ব্যবসায়ি, চিকিৎসা সেবা গ্রহীতা, নারী, বৃদ্ধ, শিশু, সাধারণ মানুষ ও কলেজ পড়–য়াদের উপজেলা সদরে যাতায়তের একমাত্র পথ টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক। কিন্তু এ সড়কের ৫ কিলোমিটার অংশ দীর্ঘ ৭ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নিত্যদিনের যাতায়তকারীদের নানা ধরনের দূর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় ভাটার টানে খালে পানি শুকিয়ে গেলে যাতায়তকারীদের দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয়।

দ্বীপে প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক মাস্টার জাহেদ হোসেন বলেন, সড়ক বিচ্ছিন্ন থাকায় সারা বছর দ্বীপের মানুষের যাতায়তে দূর্ভোগ লেগে থাকে। বর্ষাকাল এলে ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। বিলীন হয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হয়ে বাঁধের খালের মুখ বন্ধ হলে সড়কের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেড়িবাঁধে কাজ শেষ পথে, তারপরও সড়কের সংস্কার কাজ এখনো শুরু হয়নি। কবে নাগাদ বিচ্ছিন্ন এই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

শাহপরীর দ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কলিম উল্লাহ বলেন, এক সময় জোয়ারের পানি ঢুকার কারণে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করা যায়নি। আমরা শুনেছি, সড়ক সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু অনুমোদিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখনো দ্বীপবাসী আলোর মুখ দেখছেনা।

গবাদিপশু আমদানিকারক সোহেল রানা বলেন, মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু আমদানির করিডোরটিও শাহপরীর দ্বীপে অবস্থিত। কিন্তু সড়ক বিচ্ছিন্ন থাকায় দ্বীপে কোন ধরনের পশুবাহী যানবাহন ঢুকতে পারেনা। তাই আমদানিকৃত পশু গুলো দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার দূরত্বে সাবরাং এনে পরিবহন করাতে হয়। এতে ব্যয় যেমন বেড়ে যায়, তেমনি ভোগান্তিও বাড়ে।

কলেজ শিক্ষার্থী সাদিয়া আকতার বলেন, জোয়ার এলে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়, ভাঙনের পর থেকে শাহপরীর দ্বীপ থেকে হারিয়াখালী পর্যন্ত পথ নৌকায় পাড়ি দিতাম, কখনো কখনো ভাটার সময় পুরো এলাকা শুকিয়ে যেত, তখন নৌকা যেমন চলতনা, তেমনি ভাঙা সড়কে গাড়ি চলাচলও অসম্ভম ছিল। তাই ভাটার সময় নিরুপায় হয়ে পথচারীদের ৪ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হতো। কিন্তু বেড়িবাঁধ হওয়ায় এখন জোয়ারের পানি ঢুকেনা, তবু ভঙ্গুর এই সড়কে যাতায়তে ভোগান্তি আগের মতোই রয়ে গেছে।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্র জানায়, টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ সড়কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশসহ শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট পর্যন্ত ৫.১৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ৬৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গত ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় প্রকল্প অনুমোদনের দীর্ঘ এক বছর পার হয়ে গেলেও এখনো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। কবে নাগাদ এই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে তাও অনিশ্চিত। ফলে সড়ক সংস্কারের বড় প্রকল্প পাওয়ার পরও শাহপরীর দ্বীপাবাসীকে আরো একটি বছর ভোগান্তিতে কাটাতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সওজ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, টেকনাফ-সাবরাং হারিয়াখালী থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৫.১৫ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটির দরপত্র একদফা বাতিল হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় একটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছেন। তবে তারাও যাতায়াত খরচের জন্য ৯ শতাংশ টাকা দেখিয়েছে। দরপত্রটি সুপারিশ কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশ কমিটি অনুমোদন দিলে কাজটি দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে।

এদিকে শাহপরীর দ্বীপে ৪০ হাজার মানুষের ভাগ্য দোল খাচ্ছে সুপারিশ কমিটির হাতে। দ্বীপবাসীর একটি প্রশ্ন দ্বীপের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি শাহপরীর দ্বীপের বিচ্ছিন্ন সড়কের সংস্কার আদৌ কি হবে ?

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!