শহরের নালা-নর্দমা ভরাট: বৃষ্টি হলে হাটু পরিমাণ কাঁদা

সোমবার, ০১ জুলাই ২০১৯ | ৬:২৬ অপরাহ্ণ | 320 বার

শহরের নালা-নর্দমা ভরাট: বৃষ্টি হলে হাটু পরিমাণ কাঁদা

চলতি বর্ষা মৌসমের শুরুতেই কক্সবাজার পৌরসভার নালা-নর্দমার করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শহরের পর্যটন এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলির নালাগুলো ভরাট হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি চলাচল করছে রাস্তার ওপর দিয়ে। ফলে এক অস্বাস্থ্যকর ও পরিবেশ দূষণের চরম আকার ধারণ করেছে বিশে^র দীর্ঘতম এ সমুদ্র সৈকতের শহরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাসময়ে পৌরসভার নালা-নর্দমাগুলো পরিষ্কার ও সংস্কার না করার কারণে বর্তমানে এ বেহাল পরিস্থিতির মূখোমুখি হতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। তাছাড়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় যে যার মতো নালা দখলের কারণে অনেক স্থানে নালার চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর খেসারত দিতে হবে শহরবাসীকে।

পৌর শহরের বাজারঘাটার ব্যবসায়ী নুরুল আমিন জানান, যদি পৌর কর্তৃপক্ষ বর্ষা শুরুর পূর্বেই দ্রুতগতিতে নালা-নর্দমা পরিষ্কারসহ সংস্কার না করে তাহলে বাজারের কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর কোটি কোটি টাকার মালামাল ও প্রতিষ্ঠান পানির ওপর ভাসবে। পাশাপাশি পৌরবাসীকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হবে।
কলাতলী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দেশব্যাপী বর্তমানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি পর্যটকদের দ্বিতীয় আর্কষণ হল মেরিন ড্রাইভ। এ মেরিন ড্রাইভ সড়কের কলাতলীর সংযোগ সড়কটি সংস্কারের নামে বন্ধ রয়েছে অনেক দিন। পাশাপাশি এ এলাকার নালা-নর্দমার কি বেহাল পরিস্থিতি তা বলার ভাষা নেই। বৃষ্টি হলে মনে হয় সাগর যেন কূলে চলে এসেছে।

গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে পর্যটন নগরীর এ শহরে। তবে গত কয়েক বছর ধরে কিছুটা স্বস্তি পান শহরের বাজারঘাটাসহ আশপাশ এলাকার লোকজন। কিন্তু বরাবরের মতো বৃষ্টি হলেই ডুবে যেত সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, পর্যটন এলাকার কলাতলী, এসএম পাড়া, টেকপাড়া, হাঙ্গরপাড়া, জনতা সড়ক, নুনিয়ারছড়া, বাহারছড়াসহ বিভিন্ন এলাকা। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণের কষ্টের শেষ থাকত না। শুধু দুর্ভোগই সৃষ্টি হয় না পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতি হয় শহরের পরিবেশ এবং অর্থনীতির।
সরেজমিন দেখা যায়, শহরের বার্মিজ মার্কেটস্থ এলাকায় ইতিমধ্যে নালা ভরাট হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি রাস্তার ওপর জমে আছে। আর এ চিত্র গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে। এছাড়া বেশকিছু জায়গায় পাহাড়ের মাটি আর আবর্জনার কারণে বৃষ্টির পানি অপসারণের মাধ্যম নালা-নর্দমাগুলো ভরাট হয়ে আছে অনেক আগে থেকেই। একই চিত্র পর্যটন এলাকার হোটেল-মোটেল জোনেও।

বার্মিজ মার্কেট এলাকার ফাহিমুর রহমান বলেন, ‘এমন একটা জায়গায় বাস করি যেখানে বর্ষাকালে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হয়। বাচ্চারা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না। বৃষ্টি হলেই চারদিকে জলাবদ্ধতা আর নোংরা পানিতে ভরে যায়। এর কারণ হল পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকা।

একইভাবে সি-কক্স ব্যায়ামাগারের পরিচালক নাহিদ রেজা খান সুজন জানান, বর্ষা তো দূরের কথা এ শুষ্ক মৌসূমেই নালার পানি রাস্তায় উঠে জমে আছে গত ৬ মাস ধরে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো খবর নেই।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার কলেজের অধ্যক্ষ একেএম ফজলুল করিম বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। নয়তো কখনও এ সমস্যা সমাধান হবে না। কারণ নালাগুলো বেশি ভরাট হয়ে যায় আবর্জনা ও পাহাড়ের মাটির কারণে। বর্ষাকালেই বেশি পাহাড় কাটা হয়। তাই পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যন লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করতে পারে। যে যার প্রাপ্ত দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হবে। একে অন্যের ঘাড়ে দোষ না চাপিয়ে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এ শহর মুক্তি পাবে জলাবদ্ধতা থেকে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান জানান, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় নালা সংস্কার কাজে ধীরগতি হচ্ছে। তবে কাজ চলছে। আর আশা করা যাচ্ছে বর্ষা মৌসুমের আগেই নালা সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হবে এবং মুক্ত হবে জলাবদ্ধতা।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!