নতুন আরআরআরসি মাহবুব আলম তালুকদার, অতিরিক্ত আরআরআরসি খলিল

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং ৭ ক্যাম্প ইনচার্জের বদলি

মঙ্গলবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬:১৫ অপরাহ্ণ | 236 বার

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং ৭ ক্যাম্প ইনচার্জের বদলি

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালামকে বদলি করা হয়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার হিসেবে নতুন পদায়ন হয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো: মাহবুব আলম তালুকদার। একই সঙ্গে উখিয়া ও টেকনাফে কর্মরত ৭ জন ক্যাম্প ইনচার্জকেও বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক আদেশে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়। এর সাথে অতিরিক্ত শরাণাথী ত্রাণ ও প্রত্যাসন কমিশনার হিসেবে খলিলুর রহমানকে নতুন করে পদায়ন করা হয়েছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, তিনি বদলি সংক্রান্ত আদেশটি পেয়েছেন। তাকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৭ জন ক্যাম্প ইনচার্জকেও বদলি করা হয়। তবে তিনি এ ৭ জনের নাম জানাননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বদলি হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কুতুপালং ৪ ও ৫ নং ক্যাম্পের ইনচার্জ শামীমুল হক পাভেল, কুতুপালং ক্যাম্পের সহকারী ক্যাম্প ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, টেকনাফ নয়াপাড়া ১৪ ও ১৫ ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুল ওয়াহাব রাশেদ এবং অপর চারজনের নাম জানা যায়নি।

কেন হঠাৎ একযোগে ৮ জনের এ বদলি এবিষয় নিয়ে কেউ কিছু নিশ্চিত করে না বললেও নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে তাদের বদলি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে বদলীকৃত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এনজিওকে অনৈতিক সুবিধা প্রদান এবং রোহিঙ্গাদের সমাবেশ করতে অনুমতি প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র মতে, উখিয়া টেকনাফে ৩৪ টি ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এই সংকটের ২ বছর অতিবাহিত হলেও প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। দিন যতই গড়াচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রোহিঙ্গারা জড়িয়ে যাচ্ছে নানা অপরাধে। ক্যাম্পে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের লোকজনও হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছু অপরাধি গ্রুপ প্রত্যাবাসন বিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদেরকে উস্কানি প্রদানের অভিযোগ রয়েছে দেশী বিদেশী কিছু এনজিও সংস্থার বিরুদ্ধে। এদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে ক্যাম্পের প্রশাসন। কয়েকটি ক্যাম্প ইনচার্জের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। এই অবস্থায় গত রবিবার ও সোমবার ২ দিনে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: আবুল কালাম এবং ৭জন ক্যাম্প ইনচার্জকে বদলী করে নেয়া হলো। তাদেরকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কক্সাবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: আবুল কালাম বলেছেন, একসাথে ৭জন ক্যাম্প ইনচার্জ বদলী হওয়ায় ক্যাম্পে প্রশাসনিক কাজ কর্ম যেন ব্যাহত না হয় তা লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উখিয়ার কুতুপালং ৪ ও ৫ নম্বর ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি) শামিমুল হক পাভেল কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি রপ্তানি প্রকল্পের উপ পরিচালক পদে বদলী করা হয়েছে। বদলীকৃত সিআইসি শামিমুল হক পাভেলের বিরুদ্ধে গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশের অনুমতি প্রদান সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশ করার অনুমতি দিলেও বিষয়টি তিনি আইন প্রয়োগকারি সংস্থাকে অবহিত করেনি। সমাবেশে বিদেশী বিভিন্ন দাতা সংস্থার লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। এসব সংস্থা রোহিঙ্গাদের সমাবেশ করার জন্য বিপুল অর্থও বরাদ্দ দিয়েছে। সমাবেশ থেকে রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসন বিরোধী বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে আন্দোলনের হুমকি দেয়।

টেকনাফের নয়াপাড়া ১৪ ও ১৫ নম্বর ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুল ওয়াহাব রাশেদ এর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ। এই কর্মকর্তাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতাধীন মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের উপ পরিচালক পদে বদলী করা হয়ছে।

কুতুপালং ক্যাম্পে সহকারী ক্যাম্প ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালনকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম কে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলী করা হয়েছে। মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকটি ক্যাম্পের ইনচার্জদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠায় তা তদন্ত করা হচ্ছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!