লকডাউনে তৎপর মাদক ও হুন্ডি চক্রের সদস্যরা

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২০ | ৬:৩৯ অপরাহ্ণ | 71 বার

লকডাউনে তৎপর মাদক ও হুন্ডি চক্রের সদস্যরা

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে লকডাউনকে পুঁজি করে নতুন কৌশলে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে মাদক ও হুন্ডি চক্রের সদস্যরা। আর এ কাজে ব্যবহার করছে টেকনাফ ও কক্সবাজার শহর কেন্দ্রিক এক শ্রেণীর সাংবাদিক নামধারী কতিপয় লোকজনকে; যারা আবার ওই চক্রটিরই সদস্য।
মাদক ও হুন্ডি কারবার অব্যাহত রাখতে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানোয় সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের কারণে করোনাকালীন লকডাউন বাস্তবায়নেও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের।
এমনটি তথ্য পাওয়া গেছে, পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।
আইন-শৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, করোনা মহামারীর লকডাউনের এসময়ে মাদক ও হুন্ডি চক্রের সদস্যরা পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিতে কৌশলে ব্যবহার করছে সাংবাদিক নামধারী এক শ্রেণীর লোকজনকে। যারা মোটর সাইকেলে যোগে পাচার করছে ইয়াবার চালান ও হুন্ডির টাকা বিতরণ।
সাংবাদিক নামধারী মাদক ও হুন্ডি চক্রের এসব সদস্যরা পেশাগত কাজের তথ্য সংগ্রহের মাঠ পর্যায়ে তৎপরতাকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। চক্রটির সদস্যরা মোটর সাইকেল যোগে ইয়াবার চালান নিয়ে এসে টেকনাফ উপজেলার প্রশাসনিক এলাকা থেকে উখিয়ার প্রশাসনিক এলাকায় তুলে দিচ্ছে কক্সবাজার শহর কেন্দ্রিক সদস্যদের কাছে। আর টাকার লেনদেন করছে হুন্ডির মাধ্যমে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু এখন নয়। মাদক বিরোধী অভিযানের শুরুর আগে থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সর্বশেষ তৈরী করা ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসায়িদের তালিকায় নাম রয়েছে টেকনাফের ১৫ জন সর্বস্তরে পরিচিত সাংবাদিকের। এদের মধ্যে কয়েকজন আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার আতংকে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তবে অন্যরা রাজনৈতিক প্রভাব ও সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত থাকায় বহাল তবিয়তে এলাকায় অবস্থান করে ইয়াবা কারবার ও হুন্ডির মাধ্যমে টাকা লেনদেন অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু সাংবাদিকতাকে পুঁজি করে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তির ফাঁদে ফেলায় এ পর্যন্ত তাদের কাউকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।
বিগত ২০১৮ সালের ৪ মে থেকে সারাদেশে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, মাদক ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় এ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় প্রায় আড়াই শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমান ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র।
মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার হলে অনেক ইয়াবা কারবারি পরিবারের সদস্যরা কৌশল হিসেবে নানা অজুহাতে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে সাংবাদিকতা পেশার আশ্রয় নেয়। তারা টেকনাফের স্থানীয় ও জেলা কেন্দ্রিকসহ বিভিন্ন স্থানের নামে-বেনামের অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক নামপরিচয়ে ব্যবহার করছে দ্রুতগামী মোটর সাইকেল।
প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে মাদক ও হুন্ডি চক্রের এসব সদস্যরা সাংবাদিকতাকে পুঁজি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের।
টেকনাফের সচেতন মহলের প্রশ্ন, সাংবাদিকতার আড়ালে যেসব লোকজন দ্রুতগামী মোটর সাইকেল ব্যবহার করছে তাদের আয়ের উৎস কি?
তাদের দাবি, কথিত সাংবাদিক পরিচয় দানকারি এসব লোকজনসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা ইয়াবা কারবারের সাথে সংশ্লিষ্ট কিনা এবং তারাও তালিকাভূক্ত কিনা তা যাচাই-বাছাই করা প্রশাসনের গুরু দায়িত্ব রয়েছে।
অথচ এক ধরনের অসাধু ইয়াবা ব্যবসায়ি টাকার বিনিময়ে জেলা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে নামেই বেনামী পত্রিকাও বিভিন্ন ধরনের অনলাইনের নামে সাংবাদিক হিসেবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ সুযোগে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তারা ইয়াবা কারবার ও হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে টেকনাফ পৌরসভাকে উপজেলা প্রশাসন পৌর এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এটাকে পুঁজি করে সংবাদ সংগ্রহের নামে বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সংবাদকর্মী নামধারী এক শ্রেণীর মোটর সাইকেল আরোহী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফের একজন সাংবাদিক বলেন, টেকনাফের মতো ছোট্ট একটি উপজেলায় শতাধিকের মতো সাংবাদিক তৎপর রয়েছে। এদের মধ্যে অল্প কিছু সংখ্যক প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিক থাকলেও অধিকাংশই ভূঁয়া।
গত কয়েক বছরে হঠাৎ করে কেন এত সংখ্যক সাংবাদিক বেড়ে গেল সেটা বোধগম্য হচ্ছে না বলে মন্তব্য করে টেকনাফের এ সাংবাদিক বলেন, “ টেকনাফে সাংবাদিকতা পেশাটি আসলে কি ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাচ্ছে। টেকনাফে সাংবাদিক হিসেবে তৎপর কেউ কেউ তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে কোন ধরনের বেতন-ভাতা বা পারিশ্রমিক না পেলেও তারা কেন এ পেশায় জড়িত রয়েছে? ”
টেকনাফে সাংবাদিকতায় কেন এতো মধু রয়েছে তা খোঁজ-খবর নিয়ে বের করার জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফের এ সাংবাদিকের।
এ ব্যাপারে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, পুলিশের কাছেও তথ্য রয়েছে ইয়াবা কারবার ও হুন্ডির টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত লোকজনের কতিপয় আত্মীয়-স্বজন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করছে। একই সঙ্গে করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন কার্যকরে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করছে।
তবে বিষয়টি নজরে রেখে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান ওসি।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!