এইমাত্র পাওয়া

x

রোহিঙ্গা ক্যাম্প : সন্ধ্যা নামলেই চলে আধিপত্য নিয়ে নানান ঘটনা

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ | ৪:২৫ অপরাহ্ণ | 138 বার

রোহিঙ্গা ক্যাম্প : সন্ধ্যা নামলেই চলে আধিপত্য নিয়ে নানান ঘটনা

রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি, ইয়াবার প্রচলন, মানব পাচার ও ক্যাম্প ছেড়ে লোকালয়ে মিশে যাওয়া নিয়ে রীতিমত বিপাকে স্থানীয় প্রশাসন ও তাদের হাই কমান্ড। ক্যাম্পের পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখার পরিকল্পনা আঁকছে পুলিশ র‌্যাব-বিজিবি।
জানা যায়, সন্ধ্যার পর পরই উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প হয়ে যায় নিরব, নিস্তব্ধ। ক্যাম্পে অবস্থান নিতে পারেন না এনজিও কর্মীরা। সন্ধ্যার পরে এমন ভূঁতূড়ে পরিবেশে ক্যাম্প জুড়ে শুরু হয় দুর্বৃত্তদের আনাগোনা।

ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গারা বলছেন, রাতের অন্ধকারে প্রায় সময় কিছু দুষ্কৃতকারী রোহিঙ্গা ক্যাম্প জুড়ে চালায় তান্ডব। আধিপত্য নিয়ে মারামারি, যৌন নির্যাতন, প্রতিপক্ষ হামলা এমনকি হত্যার মতো ঘটনাও ঘটানো হয় সেখানে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সুত্রে জানা যায়, গত দুই বছরে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে হত্যাসহ ২৩০টির মতো অপরাধমূলক কর্মকান্ড হয়েছে। তার মধ্যে ২৫টির মত খুন হয়েছে। এসব ঘটনায় দু’শ’ রোহিঙ্গাকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে অস্ত্র আইনে ২৫টি মামলায় ৫৫ জন, মাদক আইনে ১০০ মামলায় ১৫০ জন, পাসপোর্ট আইনের ৬৫ মামলায় ৫০ জন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দুই মামলায় দু’জন, অপহরণের পাঁচ ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া চোরাচালান আইনের সাত মামলায় ১৫ জন, চুরির কয়েকটি মামলায় ১০ জন এবং ডাকাতির আট মামলায় ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও, গত দেড় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাড়িসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫৬ হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত আনা হয়।

কুতুপালং ডি-৫ এর মাঝি সেলিম উদ্দিন বলেন, দিনে তেমন কোন ঘটনা নেয়। তবে রাতে এক প্রকার আতঙ্কে রাত কাটে রোহিঙ্গাদের। কারণ রাত হলেই কয়েকটি গ্রুপ এখানে মহড়া দেয়। যারা এলাকার দখলে নিতে এমন মহড়া দেয়।

বালুখালী ক্যাম্প ১৪ এর মাঝি রহমত উল্লাহ বলেন, রাত হলেই ক্যাম্প জুড়ে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বাড়ে। যার ফলে সাধারন রোহিঙ্গারা আতঙ্কে থাকে। এ জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আরও বাড়ানো দরকার। তাহলে ক্যাম্পর মাঝিদের পাশাপাশি রোহিঙ্গারাও নিরাপদে থাকবে।

টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ডেভলপমেন্ট কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আলমের মতে, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রোহিঙ্গাদের এ কাজে জড়াচ্ছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এনজিও সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যাম্পে অপরাধীদের দৌরাতেœর জন্য এনজিওগুলো কাজ করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে রোহিঙ্গাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরীতে কাজ করছে বলে জানান ইউএনএইচসিআর এর কর্মকর্তারা।

পুলিশ স্বীকার করে বলেছে, রোহিঙ্গাদের কয়েকটি গ্রুপ অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার পাশাপাশি ইয়াবা ও মানবপাচারের মতো ঘটনাতেও জড়াচ্ছে তারা।
সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশ পুলিশের মহা-পরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগে তা নিয়ন্ত্রনে আনতে সরেজমিনে পরির্দনে এসেছে তিন বাহিনীর প্রধান। ক্যাম্পের অপরাধ কমাতে আরও জনবল বৃদ্ধি করতে চাই আমরা। আগামীতে যাতে নিরাপত্তা হুমিকর মুখে না পড়ে সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!