রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হিউম্যানিটেরিয়ান একসেস প্রজেক্ট শুরু

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২০ | ১:১৬ অপরাহ্ণ | 59 বার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হিউম্যানিটেরিয়ান একসেস প্রজেক্ট শুরু

কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি উপশমের লক্ষ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গাড়ি ও কর্মীর সংখ্যা কমানোর উদ্দেশ্যে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং পদ্ধতি তৈরি করেছে যেন মানবিক সহায়তা দানকারী সংস্থাগুলো সময়মতো জরুরি সেবাগুলো চালিয়ে যেতে পারে।

আরআরআরসি অফিস, লজিস্টিকস্ সেক্টর এবং ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি)-এর সাথে সম্মিলিতভাবে হিউম্যানিটেরিয়ান একসেস প্রজেক্ট চালু করেছে ডব্লিউএফপি, যা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্যাম্পে গাড়ির প্রবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে।

এপ্রিল মাসের শুরুতে ক্যাম্পে প্রবেশ সীমিত থাকাকালীন সময়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) প্রতিদিন গাড়ির একটি তালিকা অনুমোদন করতেন। সেই তালিকা অনুযায়ী স্থানীয় ও জাতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রতিটি গাড়ির অনুমোদনপত্র ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যাচাই করে দেখতো, যার ফলে দুই ঘণ্টা পর্যন্তও গাড়িগুলোকে অপেক্ষা করতে হতো এবং ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে কম সময় পাওয়া যেত। এই প্রক্রিয়াটিকে দ্রুততর করতে ও একে আরও সুদক্ষ করে তুলতে হিউম্যানিটেরিয়ান একসেস প্রজেক্ট-এর আওতায় ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে, যাতে করে গাড়িগুলোর দেরি না হয় এবং চেকপয়েন্টে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা যায়।

এছাড়াও, যাত্রী ও চালকদেরকে এখন গাড়ি থেকে নেমে নির্ধারিত বইয়ে স্বাক্ষর করতে না হওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষের পক্ষে শারীরিক দূরত্বের ব্যাপারটি চর্চা করতেও সহায়ক হচ্ছে। চেকপয়েন্টে কোন সংস্থার কোন গাড়ি ক্যাম্পে যাচ্ছে তা চিহ্নিত করতে কর্তৃপক্ষকে গাড়িগুলোর জন্য নির্ধারিত কিউআর কোড স্ক্যান করার কাজে সহায়তা করছেন ডব্লিউএফপি-এর কর্মীরা, যার ফলে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গাড়িগুলোকে চিহ্নিত করে ক্যাম্পে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, “যেহেতু বাংলাদেশের অন্যান্য শহর ও নগরে কোভিড-১৯ এর বিস্তার শুরু হয়ে গেছে, তাই আরআরআরসি অফিস থেকে আমরা এমন একটি সমাধান বের করতে চেয়েছি যেন আমরা ক্যাম্পে জরুরি সেবাগুলো দেয়ার পাশাপাশি সেখানে কোভিড-১৯ এর বিস্তার বন্ধ করতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, “ডব্লিউএফপি, আইএসসিজি ও লজিস্টিক সেক্টর সীমিত সংখ্যক কিছু গাড়ির জন্য কিউআর কোডসম্পন্ন গাড়ির পাস-এর আইডিয়াটি নিয়ে এসেছিল। গাড়ি মনিটরিংয়ের এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এখন আমরা প্রতিদিন কতগুলো গাড়ি ও কতজন যাত্রী যাচ্ছেন, তা যাচাই করে দেখতে পারি। এই প্রক্রিয়ার সাথে যারা সরাসরি যুক্ত আছেন, তাদের প্রতি আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।”

বাংলাদেশে নিযুক্ত ডব্লিউএফপি-এর প্রতিনিধি রিচার্ড রেগান বলেন, “জরুরি অবস্থার মতো দ্রুত গতিশীল পরিবেশে প্রকল্প হাতে নেওয়া ও সেগুলোকে চালু রাখার জন্য সংস্থাসমূহ ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “ক্যাম্পে গাড়ি ও কর্মীর সংখ্যা কমিয়ে আনার মাধ্যমে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা দেওয়া ও ক্যাম্পে কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি কমানোর জন্য গোটা মানবিক সহায়তা গোষ্ঠী কঠোরভাবে পরিশ্রম করছে”। বর্তমানে ৮টি চেক পয়েন্টে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও স্থানীয় পুলিশের সাথে ডব্লিউএফপি-এর ১২ জন কর্মী গাড়িগুলোকে চিহ্নিত করছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!