এইমাত্র পাওয়া

x

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু

বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট ২০১৯ | ২:৫০ অপরাহ্ণ | 119 বার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ চালিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কার্যত্রম। বুধবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উখিয়ার ১২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো: হেলাল উদ্দিন আহমদ। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় ‘আইওএম’ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তরা জানিয়েছেন, শুস্ক মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলো বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দেয়। এতে অনেকে নানা রোগে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সৌর বিদ্যুৎ এর মাধ্যমে গভীর নলকুপ স্থাপন করে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের অর্থায়নে এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করেন আইওএম। যা বিশ্বের যেকোন মানবিক সংকটে স্থাপিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কার্যক্রমের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫লাখ ৮০ হাজার লিটার পানি উত্তোলন সম্ভব। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সী (জাইকা) এই পানি সরবরাহ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এই প্রকল্প দুটি সংস্থার সম্মিলিত কাজের সুফল। এর মাধ্যমে ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মিটবে। ইতিমধ্যে বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশে^র বুকে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পটি মাইলফলক হয়ে থাকবে’।

জাপান দূতাবাসের মিনিষ্টার তাকেসী-ইতো বলেন, ‘বাংলাদেশ সাত লাখেরও বেশি শরণার্থীদের গ্রহণ করেছে এবং আমরা এখন লাখ লাখ লোকের পানির চাহিদা মিটাব। এর মাধ্যমে আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ছয় নম্বর শর্ত ‘সবার জন্য বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ’ এট নিশ্চিত হবে’।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: আবুল কালাম বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের এই নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বড় এবং খুবই সাশ্রয়ী। যৌথ প্রচেষ্টার একটা বড় সাফল্য এটি। এই প্রকল্প দেখা শুনা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। এটি আমরা রক্ষানাবেক্ষণ করব’।

আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান জর্জ গিগৌরী বলেন, ‘এই পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কটির সাথে পরিচিতি করানোর জন্য আমরা রোহিঙ্গা ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে শরণার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্যো কাজ করছে আইওএম। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এখানকার অধিবাসীরা এই প্রযুক্তির সাথে নিজের খাপ খাওয়াতে পারে সেজন্যো কাজ করবে আইওএম’।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের এই নেটওয়ার্ক-এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২ এবং ১৯ নম্বর ক্যাম্পের ৮৭ পানি সরবরাহ পয়েন্টে ৩৫৮টি পানির ট্যাপের ২৪-ঘন্টাব্যাপী পানি সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি এই পানির নেটওয়ার্কের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য রয়েছে একটি পরিশোধক প্লান্ট।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!