রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোভিড-১৯: সেনাবাহিনীর ‘ডিজইনফেকশন বুথ’

রবিবার, ১৭ মে ২০২০ | ২:৩৪ অপরাহ্ণ | 55 বার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোভিড-১৯: সেনাবাহিনীর ‘ডিজইনফেকশন বুথ’

কয়েকজন রোহিঙ্গা করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পে যাতায়তকারি যানবাহনগুলোকে জীবানুমুক্ত করতে উখিয়াতে ‘ডিজইনফেশন বুথ’ স্থাপন করেছে সেনাবাহিনী।

এছাড়াও মাইকিংসহ নানা সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা এবং পুলিশসহ অন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ টহল জোরদার করেছে সেনা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার সকালে শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়কের (কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক) উখিয়া ডিগ্রী কলেজ গেইট এলাকায় জীবানুনাশক ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে জানান সেনাবাহিনীর রামুর ১০ পদাতিক ডিভিশনের গণমাধ্যম সমন্বয়কারি মেজর তানজিলুর রহমান।

এ সেনা কর্মকর্তা জানান, গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মত উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে ১ জন রোহিঙ্গা করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার শনাক্ত হয়েছে আরো ২ জন রোহিঙ্গা। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো।

মেজর তানজিলুর বলেন, করোনা সংক্রমণের উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া ডিগ্রী কলেজ গেইট সংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত সেনাবাহিনীর তল্লাশী চৌকিতে সংযুক্ত করা হয় জীবানুনাশক তথা ‘ডিজইনফেকশন বুথ’। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাতায়তকারি যানবাহনগুলোকে স্প্রে করে জীবানুমুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

” উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪ টি ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশী রোহিঙ্গার বসবাস রয়েছে। খাদ্য ও ত্রাণ এবং জরুরী প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের নানা সহায়তার কাজে প্রতিদিনই যাতায়ত করে ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন। ফলে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা এসব যানবাহনকে জীবানুমুক্ত রাখতে সেনাবাহিনী ‘ডিজইনফেকশন বুথ’ স্থাপন করে এ ব্যবস্থা নিয়েছে। ”

তবে এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত যানবাহনগুলোকে বারকোড স্ক্যান করে জীবানুমুক্ত করার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে বলেন সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের এ গণমাধ্যম সমন্বয়কারি।

মেজর তানজিলুর বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নানা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। ক্যাম্পে সেনা সদস্যরা মাইকিংসহ নানা সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্যাম্পের বিভিন্ন প্রবেশ পথে তল্লাশী চৌকি বসিয়ে বিনা প্রয়োজনে কাউকে ভেতরে প্রবেশ এবং বাহির হতে নিষেধের পাশাপাশি নজরদারী অব্যাহত রেখেছে।

” এছাড়া সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মত সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে চলাচলের উদ্ভুদ্ধকরণসহ পুলিশসহ অন্যান্য আই-শৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ টহল চালাচ্ছে সেনা সদস্যরা। তাছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি (কমিউনিটি নেতা) এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আয়োজন করা হয়েছে সচেতনতামূলক কমিউনিটি সভা। ”

এ সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত হওয়া রোহিঙ্গারাসহ তাদের সংস্পর্শে আসা রোহিঙ্গাদের ১২৭৫ টি বাড়ী ও মসজিদসহ নানা স্থাপনা প্রশাসন লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করেছে। এতে সেনা সদস্যরা আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে অবরুদ্ধ এলাকায় নজরদারীসহ বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

এসব বাড়ী ও স্থাপনাগুলোতে ‘লাল চিহ্ন’ অংকিত করে লাল পতাকা ঝুলানো হয়েছে বলে জানান মেজর তানজিলুর।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!