এইমাত্র পাওয়া

x

আরো অনেক সংস্থা ফেঁসে যাচ্ছে

রোহিঙ্গা উস্কানী : আন্তর্জাতিক ২ সংস্থা নিষিদ্ধ

বৃহস্পতিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১০:০৮ অপরাহ্ণ | 198 বার

রোহিঙ্গা উস্কানী : আন্তর্জাতিক ২ সংস্থা নিষিদ্ধ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিরোধী উস্কানি এবং সমাবেশ আয়োজনে সহায়তার অভিযোগে আন্তর্জাতিক দুইটি সংস্থাকে এনজিও ব্যুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্প সহ সারাদেশে সবধরণের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি সংস্থার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে গোয়েন্দা তদন্তের কাজ। এসব তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেছেন, সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ৪১টি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধের কথা বললেও এব্যাপারে তিনি জানেন না। শরানার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা দাবি, জনবল সংকটের কারণে এনজিও কার্যক্রম গোয়েন্দা তথ্যের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আর স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, এনজিও প্রত্যাবাসন বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত এতে মিয়ানমারের ইন্ধন রয়েছে। পুলিশও স্বীকার করেছেন সেই কথা। তবে এনজিও ফোরামের পক্ষে অভিযোগের তীর আন্তর্জাতিক সংস্থার দিকে। লোকাল এনজিও রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারকে সহায়তা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিরোধী উস্কানি এবং সমাবেশ আয়োজনে গোপন সহায়তার অভিযোগে আন্তর্জাতিক দুইটি সংস্থাকে এনজিও ব্যুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্প সহ সারাদেশে সবধরণের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে চিঠি পাঠিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে। একই সঙ্গে সংস্থা ২ টির ব্যাংক লেনদেনও স্থগিত করা হয়েছে। সংস্থা ২ টি হচ্ছে আল মারকাজুল ইসলামী ও আদ্রা।

বুধবার দুপুরে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাওয়ার তথ্য স্বীকার করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার।
গত ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার জন্য সরকারি প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহল থেকে কিছু এনজিও সংস্থার অপতৎপরতাকে দায়ী করা হয়। এছাড়া প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া গত ২৫ আগস্ট বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে রোহিঙ্গারা।
জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত চালানো হয়। এতে রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রত্যাবাসন বিরোধী উস্কানির ইন্ধন এবং সমাবেশ আয়োজনের গোপন সহায়তার জন্য কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার অপতৎপরতার অভিযোগ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন এনজিও ব্যুরোর সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার বলেন, আন্তর্জাতিক ২ টি সংস্থাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ সারাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার তথ্য জানিয়ে বুধবার দুপুরে এনজিও ব্যুরোর পাঠানো একটি চিঠি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে পৌঁছে।
এতে আল মারকাজুল ইসলামী ও আদ্রা’র সবধরণের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ব্যাংক লেনদেন বন্ধ রাখারও নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এনজিও ব্যুরো’র চিঠির বরাত দিয়ে আশরাফ বলেন, আন্তর্জাতিক এ সংস্থা ২ টির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রত্যাবাসন বিরোধী উস্কানি এবং গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সহিংসতার ২ বছর পূর্তিতে বিশাল সমাবেশ আয়োজনে গোপন সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে সংস্থা ২ টির সবধরণের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে এনজিও ব্যুরো। নির্দেশনা মত প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।

সূত্র মতে, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গা শিবিরে ১২০টির অধিক এনজিও কাজ করছে। তারা রোহিঙ্গাদের আবাসন, খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করছে। কিন্তু সম্প্রতি প্রত্যাবাসন ইস্যু, ২৫ আগস্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এনজিওর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪১ টি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ করার কথাও বলেছেন। তবে এ ব্যাপারে কোন তথ্য জানেন না জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ১২০ টির অধিক এনজিও কাজ করছেন। কিছু এনজিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠায় এব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, যে সব সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এব্যাপারে এনজিও ব্যুরোর কাছে লেখা হবে। এর পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও কিভাবে কাজ করছে তা পুরোটাই জানেন না সদ্য বদলীকৃত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম। তিনি জানালেন, জনবল সংকটের কারণে তাকে গোয়েন্দা তথ্যের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় বাঁধা এনজিও। তারা নিজের স্বার্থে এ অপকর্ম করছে। পুলিশও স্বীকার করেছেন এ কথা। এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন।
এব্যাপারে এনজিও ফোরামের কো-চেয়ারম্যান আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা জানান, সকল এনজিও রোহিঙ্গাদের উস্কানী বা ইন্ধন দিচ্ছে কথাটা সত্য নয়। সকল এনজিও এই সক্ষমতা রাখে না। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বা সরাসরি ইস্যুতে কাজ করে ইউএন সংস্থা সমুহ। যদি কোন সংস্থা এরকম কাজ করে থাকে তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!