এইমাত্র পাওয়া

x

রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত

মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট ২০১৯ | ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ | 100 বার

রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত

উখিয়া ও টেকনাফে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়দের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উধর্বগতি, যানজট, শ্রমবাজার মন্দা সহ নানা কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠির উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় অধিবাসিদের চেয়ে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের মানুষ। নিত্যপণ্যের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি ধংস হয়ে গেছে শ্রম বাজার। ধংস হয়ে গেছে অধিকাংশ এলাকার বনভূমি।

উখিয়া ও টেকনাফের মোট জনসংখ্যা ৫লাখ ৯৪ হাজার। এরমধ্যে উখিয়ায় ২লাখ ৫৮হাজার ৬শ’ এবং টেকনাফ উপজেলায় ৩লাখ ৩৫হাজারেরও বেশী। এরমধ্যে গত ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনার পর থেকে পালিয়ে আসা সাড়ে ৭ লাখ সহ মোট ১১ লাখ ১৮ হাজার ৪১৭জন রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় ১০হাজার একর বনভূমি ধংস করে ঝুঁপড়ি বসতি গড়ে তোলেছে। একারণে এই বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির জনগোষ্টির চাপে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে উখিয়া-টেকনাফের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ। রোহিঙ্গা আশ্রিত ক্যাম্প গুলোর সাথেই রয়েছে স্থানীয়দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতি ও চাষযোগ্য জমি সহ বিভিন্ন স্থাপনা। এ কারণে অনেকের ভিটে-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও চাষাবাদের জমি অঘোষিতভাবে দখলে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। একইভাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের পাশাপাশি ব্যবসা-বানিজ্যে ধ্বস ও দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতির কারণে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় দরিদ্র লোকজন। একইভাবে শ্রম বাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অবশ্য, রোহিঙ্গাদের কারণের এক শ্রেণীর শিক্ষিত কিছু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

নিত্যপণ্যের বাজার গরম:

মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারি রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বাজার গুলোতে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপন্যের দাম। লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। উখিয়ার কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গারা বেশীর ভাগ ত্রাণ হিসাবে চাউল পাচ্ছে। এ কারণে চাউলের বাজার এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বেশী কাঁচা মরিচ এক কেজি ২৪০টাকা, টমেটো এক কেজি ১৬০ টাকা, বেগুন কেজিতে ৮০টাকা, চিচিঙ্গা কেজিতে ৫০টাকা বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মাছ তো সময় মতো পাওয়াও যাচ্ছে না। এ কারণে স্থানীয় রয়েছে বেকায়দায়। একদিকে রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ বিচরণ, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের বাজার গরম হওয়ায় বিপাতে পড়ছে স্থানীয়রা। উখিয়া উপজেলা সদরস হাট বাজার, কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালী, টেকনাফের সদর হাটবাজার, শামলাপুর, হ্নীলা, সাবরাং বাজার সহ বিভিন্ন হাটবাজারে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের কারণে কাঁচা বাজারে দেশী আলু কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা মরিছ কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পটল কেজি ৪৫ টাকা, চিচিঙ্গা কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাকরুল ৪৫টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৫০ টাকা, বয়লার মুরগী ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন কেজি ১২০ টাকা, আদা প্রতি কেজি ১২০ টাকা ও পাম্প অয়েল কেজি ১১৫ টাকায়, সুয়াবিন ১০০টাকা। এছাড়াও গুড় কেজি ৭০ টাকা, ছোলা কেজি ৮০ টাকা, গরুর মাংস কেজি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটা এক কেজি ৪০, ময়দা এক কেজি ৪৫, চাউল কেজিতে ৪০ থেকে ৬০টাকা পর্যন্ত।

বনাঞ্চল ধ্বংস:

রোহিঙ্গাদের বসতির কারণে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ নিয়ন্ত্রণাধীন উখিয়া ও টেকনাফে ৬ হাজার ১৬৩ হাজার একর বনভূমি ধংস হয়েগেছে। এরমধ্যে ২ হাজার ২৭ একর সৃজিত বন (প্রধানত সামাজিক বনায়ন) এবং ৪ হাজার ১৩৬ একর প্রাকৃতিক বন রয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ লাখ ৭২ হাজার ৮৮০ জন রোহিঙ্গা বনাঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছে। রোহিঙ্গাদের জন্য ২ লাখ ১২ হাজার ৬০৭টি গোসলখানা, ত্রাণ সংরক্ষণের জন্য ২০টি অস্থায়ী গুদাম, ১৩ কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন, ৩০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ এবং ২০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক একটি অবকাঠামো তৈরি করবে। এসব বনভূমির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকার বন ধ্বংস হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে সেখানকার পরিবেশ, বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য। এ ছাড়া বসতি স্থাপন করতে গিয়ে এশিয়ান হাতির আবাসস্থল ও বিচরণ ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষিতদের কর্মসংস্থান বাড়লেও শ্রম বাজারে মন্দা:

রোহিঙ্গাদের আগমনে স্থানীদের যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি আবার লাভও হয়েছে। স্থানীয় কিছু শিক্ষিত যুবকের ক্যাম্পে কর্মসংস্থান হয়েছে। ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১০৫টি এনজিও’র অধিনে স্থানীয় ২হাজার শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে পুরো কক্সবাজার জেলায় শ্রমবাজারে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।

জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘উখিয়ার জনসংখ্যা ২লাখ ৫৮ হাজার ৬শ’। কিন্তু এর বিপরীতে রোহিঙ্গা রয়েছে তিন গুন। কাজেই স্থানীয়দের চেয়ে রোহিঙ্গার সংখ্যা বেশী। এই বাড়তি জনসংখ্যার চাপে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুন। তবে চাল, ডাল ও তেল সহ কিছু কিছু পণ্যের দাম কম। অন্যদিকে জেলার শ্রমবাজারে মন্দাভাব দেখা দিলেও বেশ কিছু শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!