রামুতে হাফেজ বাহিনীর আতঙ্কে অতিষ্ট গ্রামবাসী

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৯ | ১:০৫ অপরাহ্ণ | 357 বার

রামুতে হাফেজ বাহিনীর আতঙ্কে অতিষ্ট গ্রামবাসী
রামুতে হাফেজ বাহিনীর আতঙ্কে অতিষ্ট গ্রামবাসী

আতঙ্ক আর ভয়ের জনপদে পরিণত হয়েছে কক্সবাজারের রামু্র জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মিঠাছড়ি এলাকা। ওই এলাকার দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও চৌধুরীপাড়ার হাজার হাজার মানুষ ‘হাফেজ বাহিনী’ আতঙ্কে ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কথিত আছে, সন্ধ্যা হলেই এ বাহিনীর ভয়ে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে পানি খায়। তারা এতই বেপোরোয়া যে তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রভাবশালীরাও থাকে তটস্থ। হেন কোনো অপকর্ম নেই যা এ বাহিনী করে না। সন্ধ্যা হলেই এ বাহিনীর ভয়ে মানুষ ঘরে ফিরে খিল আটকে দেন। এলাকায় নেমে আসে সুনসান নীরবতা। তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলবে এমন সাহস নাকি ওই তলাটে কারও নেই। এ এলাকায় সমানতালে রাতে-দিনে হাফেজ আহমদ ও তার বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে চলেফেরা করেন।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝুলি ভারি হলেও প্রশাসন তাদের টিঁকিটি ছুঁতে পারে না।

জানা গেছে, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার সুলতান আহমদের বখাটে ছেলে হাফেজ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। তার গড়ে তোলা বাহিনীতে অনেকে অস্ত্র চালাতে পারেন।

এদের মধ্যে তাঁর ভাই নূর মোহাম্মদের পাশাপাশি সাদ্দাম ও বাহাদুর অপরাধ জগতের সাম্রাজ্য দেখভাল করে। এ বাহিনী এলাকার সাধারণ মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বাহিনী দিনে ছিনতাই, চাঁদাবাজি আর জমি জবর দখলে ব্যস্ত থাকে। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার পর শুরু হয় তাদের অন্ধকার জগতের কারবার। সন্ধ্যা হলেই জমে উঠে নেশা নিয়ে ফূর্তি। স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর বন্ধ হয়ে যায় মানুষের চলাচল। সন্ধ্যা নামলেই এলাকায় নেমে আসে সুনসান নীরবতা। ভয়ে কেউ ঘরের বাইর হয় না। ভয় ও আতঙ্কের মাঝে কয়েকজন এ প্রতিবেদকের কাছে মুখ খোলার সাহস করেন। তাদেরই একজন কলেজ ছাত্র জুবাইরুল হক।

তিনি বলেন, ‘হাফেজ ও তার লোকজন অহেতুক তিন তিন বার তাঁর ওপর হামলা করেন। টাকাও ছিনতাই করেছে। এ ব্যাপারে এখনো আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বর্তমানেও হাফেজ হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে।’

একই গ্রামের শহিদুল্লাহ, মোহাম্মদ জুয়েল, মো.রফিক ও আব্দু করিম বললেন- তাঁদের ওপরও অহেতুক হাফেজ বাহিনী অত্যাচার চালিয়েছে।

এলাকার মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন- হাফেজ আহমদের উগ্রতা বেশি। সময় অসময়ে গ্রামে মাতলামি করে। যার কারণে অনেক সম্মানি মানুষের অসম্মানি হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবদু সালাম জানিয়েছেন- হাফেজ ও তাঁর সঙ্গীরা এলাকায় যা করছে তা বন্ধ করা উচিত। তারা সন্ধ্যার পর কলেজ পড়ুয়া ছেলেদের মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। শিক্ষকদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন। সম্মানি ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দেন। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাফেজ আহমদ মুঠোফোনে বলেন- ছোটখাট ঘটনা হতেই পারে। এসব বড় কিছু নয়। অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন বলে তার দাবি।

জানতে চাইলে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স বলেন- হাফেজ আহমদের মাতলামি এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়টি লোকমূখে শুনা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!