এইমাত্র পাওয়া

x

উখিয়ার ‘৪ খুন’

রহস্যের জট খুলেনি

সোমবার, ০৭ অক্টোবর ২০১৯ | ৭:৪২ অপরাহ্ণ | 38 বার

রহস্যের জট খুলেনি

উখিয়ার রত্নাপালংয়ে চাঞ্চল্যকর ‘চার খুনের’ রহস্য ঘটনার ১২ দিন পরও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি; ফলে ঘটনায় জড়িত বা সন্দেহজনক কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ নিয়ে খুনের ঘটনায় জড়িতরা আত্মগোপন বা বিদেশে পালিয়ে যেতে পারে শংকা তৈরী হয়েছে নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীসহ নানা মহলের।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত এবং গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে নানাভাবে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে এখনো নিরাশ হওয়ার মত কিছু নেই।

গত ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতের যে কোন সময় উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং গ্রামের বাসিন্দা প্রবীন বড়–য়ার ছেলে কুয়েত প্রবাসী রোকেন বড়ুয়ার বাড়ীতে একই পরিবারের ৪ সদস্যকে জবাই করে খুনের ঘটনা ঘটে। এতে নিহতরা হল, রোকেনের মা সুখী বালা বড়ুয়া (৬৫), স্ত্রী মিলা বড়ুয়া (২৬), ছেলে রবীন বড়ুয়া (২) এবং ভাই শিপু বড়ুয়ার মেয়ে সনি বড়ুয়া (৬)।

এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট রাতে রোকেনের শ্বাশুড় শশাংক বড়ুয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামীদের করে উখিয়া থানায় মামলা করেন। বর্তমানের মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন ওসি (তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার।

ঘটনার দিন প্রবাসী রোকেন বড়–য়া কুয়েতে অবস্থান করছিলেন। খবর শুনে তিনি ঘটনার পরদিন দেশে ফেরেন।

এদিকে খুনের ঘটনার পরপরই পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পিবিআই এবং সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মামলার বাদী ও স্বাক্ষী এবং নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও ঘটনার ১২ দিন পরও খুনের ঘটনার কোন ধরণের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।

নিহতের স্বজনদের ভাষ্য মতে, একতলা পাকা বাড়ীটিতে প্রধান দরজা ও উত্তর দিকের দরজাসহ ভিতর থেকে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠার একটি দরজা ছিল। দিনের অধিকাংশ সময়ই এসব দরজা বন্ধ থাকত। কিন্তু খুনের ঘটনা জানাজানির পর বাড়ীটির প্রধান দরজা ও উত্তর দিকের দরজা ভিতর থেকে আটকানো থাকলেও ছাদে উঠা-নামার দরজাটি অক্ষত অবস্থায় খোলা পাওয়া যায়।

পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, খুনিরা বাড়ীতে যেভাবেই প্রবেশ করুক হত্যাকান্ডের পর ছাদে উঠানামার সিঁড়ি দিয়েই বের হয়েছে এটা নিশ্চিত।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা ঘটনার ১২ দিন পরও খুনিরা চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার না হওয়ায় পার পেয়ে যাওয়ার আশংকা তৈরী হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নিহতদের প্রতিবেশী অনিন্দ বড়–য়া।

অনিন্দ বলেন, ঘটনার পর নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশী অনেককে থানায় নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়টি খুনিরা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু ঘটনার ১২ দিন পরও কোন ধরণের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

এতে খুনের ঘটনায় জড়িতরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন বা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার মত সুযোগ পেয়েছে অভিমত এ প্রতিবেশীর।

একই ধরণের মন্তব্য করে আরেক প্রতিবেশী সুরেশ বড়ুয়া বলেন, খুনের ঘটনায় জড়িতদের বাড়ীটিতে ‘প্রবেশের’ বিষয়টিকে তদন্তকাজে অগ্রাধিকার দিলে রহস্য উদঘাটনা করা সহজতর হতে পারে।

ঘটনার পর থেকে মা ও স্ত্রী-সন্তানকে হারিয়ে এখনো হতবাক কুয়েত প্রবাসী রোকেন বড়ুয়া। ঘটনার ১২ দিন পরও রহস্য উদঘাটন না হওয়া এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে না পারায় তিনি অনেকটা হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

রোকেন বলেন, পরিবারের কারো (ভাইয়েরা সহ) সঙ্গে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটানোর মত সম্পর্ক নেই। এছাড়া এক প্রতিবেশীর সঙ্গে বসত ভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও এ রকম ঘটনা সংঘটিত করতে পারে ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে।

তবে পুলিশসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার বিষয়টি নিয়ে তার কোন প্রশ্ন নেই মন্তব্য করে রোকেন বলেন, ঘটনার ১২ দিন পরও খুনের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে না পারায় তিনি হতাশ।

এদিকে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, চাঞ্চল্যকর এ খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। ঘটনার ব্যাপারে পুলিশের উর্ধ্বতন মহল নিয়মিত তদারকি ও খোঁজ খবর নিচ্ছে।

“ খুনের ঘটনাটি পরিকল্পিত। খুনের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। ঘটনায় পরিবারটির ঘনিষ্ট কেউ জড়িত থাকতে পারে। ”

মামলার এ তদন্তকারি কর্মকর্তা বলেন, “ ঘটনাটি জানাজানির পর বাড়ীতে প্রবেশের দরজাগুলো বন্ধ থাকলেও ভেতর থেকে ছাদে উঠানামার দরজাটি খোলা পাওয়া যায়। তাই খুনিরা যেভাবেই প্রবেশ করুক হত্যাকান্ডের পর ছাদে উঠানামার দরজা দিয়ে বের হয়ে গেছে এটা নিশ্চিত। ”

নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, ঘটনার ব্যাপারে জানতে পুলিশ মামলার বাদী, স্বাক্ষী এবং নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীসহ অন্তত ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পরপর যাকেই প্রয়োজন মনে করেছে তাকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনেছে।

তবে খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকারিদের চিহ্নিত করার ব্যাপারে এখনো নিরাশ হওয়ার মত কিছুই ঘটেনি বলে মন্তব্য করেন মামলার এ তদন্তকারি কর্মকর্তা।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!