এইমাত্র পাওয়া

x

মিয়ানমার থেকে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি: সংকটের আশংকা নেই

বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৪:৩৫ অপরাহ্ণ | 64 বার

মিয়ানমার থেকে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি: সংকটের আশংকা নেই

পেঁয়াজ সংকট সৃষ্টির মোকাবেলায় পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছে আমদানিকারকরা। এছাড়াও আরো হাজারো মেট্রিকটন পেঁয়াজ বোঝাই নিয়ে মিয়ানমার থেকে টেকনাফের স্থলবন্দরের ভিড়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব পেঁয়াজ খালাস হলে দেশের পেঁয়াজের কোন ধরণের সংকট সৃষ্টির আশংকা নেই। এদিকে পেঁয়াজ সংকট মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হচ্ছে। প্রতি কেজি ৭০ টাকা করে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

গত এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় পাশ্ববর্তীদেশ ভারত। এ কারণে পেঁয়াজের সংকট সৃষ্টি হয় কক্সবাজারসহ সারাদেশে। এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে দেশের একশ্রেণীর পেঁয়াজের আড়তদাররা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখলেও পাশ্ববর্তীদেশ মিয়ানমার থেকে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে ব্যবসায়ীরা। এ কারণে প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে আসছে পেঁয়াজ বোঝাই ট্রলার। ইতিমধ্যে এসব পেঁয়াজ কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে খালাস হয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছে যাচ্ছে। গত দুই দিনে পেঁয়াজ ভর্তি ১০টি ট্রলার মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌছেছে। গত দুইদিনে ১ হাজার ১৩০ মেট্রিকটন পেঁয়াজ খালাস হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী দুয়েকদিনে মধ্যে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌছানোর কথা রয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়িরা মিয়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণের পেঁয়াজ আমদানি করলেও টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষে অবহেলার কারণে সঠিক সময়ে তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বন্দরে জেটি, শ্রমিক সংকট ও মালামাল খালাসের জেটিতে চাউনি না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে পণ্য খালাস বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের নানান ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবং নোঙ্গর করা ট্রলারে বৃষ্টিতে পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পেঁয়াজ আমদানিকারক এমএ হাশেম জানিয়েছেন, ‘বুধবার সারাদিন আমার ৪০০টন পেঁয়াজ খালাস হয়েছে। শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টির কারণে জেটিতে চাউনি না থাকায় পেঁয়াজ খালাস করতে বিলম্ব হয়েছে। ফলে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজ সরবরাহ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা টেকনাফ বন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবে’।

টেকনাফ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুল বলেন, ‘দেশে পেঁয়াজের সংকটময় মুহুর্তে মিয়ানমার থেকে আরো পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ কারণে মিয়ানমারের আকিয়াব সমুদ্র বন্দর থেকে কয়েক হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ভর্তি জাহাজ টেকনাফের উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে রয়েছে। সেগুলো কয়েকদিনের মধ্যে টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব পেঁয়াজ সঠিক সময়ে পৌছানো সম্ভব হলে দেশে পেঁয়াজের কোন সংকট হবে না’।

টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টম সুপার মো: আবছার উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘চলতি বছরের গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। ইতিমধ্যে গত এক মাসে ৩হাজার ৫৭৩ দশমিক ১৪১ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। যার আমদানিমূল্য ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ২৪ হাজার ৩৫৭টাকা। এরআগে গত জুলাই মাসে ৮৪ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। সর্বশেষ গত দুইদিনে পেঁয়াজ ভর্তি ১০টি ট্রলার মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌছে ১হাজার ১৩০ মেট্রিকটন পেঁয়াজ। এছাড়াও মিয়ানমার থেকে আরো পেঁয়াজ আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব পেঁয়াজ সুষ্ঠুভাবে টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌছালে দেশে কোন ধরণের পেঁয়াজ সংকট হবে না’।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজারে পেঁয়াজের মুল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই। আমরা বাজারে গিয়ে পেঁয়াজের মুল্য কেজিতে ৭০ টাকা করে নির্ধারণ করে দিয়েছি। এই নির্ধারিত মুল্যের বাইরে কোন ব্যবসায়ী যদি বেশী দামে বিক্রি করলে খবর নিয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করছি। প্রতিদিন বাজার মনিটরিংয়ের কাজ করছে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা’।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!