মিয়ানমারের সিদ্ধান্তে বিস্মিত অনেক রোহিঙ্গা

রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৮:৩৫ অপরাহ্ণ | 277 বার

মিয়ানমারের সিদ্ধান্তে বিস্মিত অনেক রোহিঙ্গা

বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মত প্রতিনিধি দল পাঠায় মিয়ানমার। প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রতিনিধি দলটি দফায় দফায় বৈঠক করেন মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্টান রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে। এ বৈঠকে তেমন ভাল ফলাফল আসেনি, উল্টো মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসন নিয়ে তামাশা করার অভিযোগ তুলে রোহিঙ্গা নেতারা।

হঠাৎ গত ১৬ আগস্ট বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক বক্তব্যে আগামী ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে বলে জানান মিয়ানমারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালু করতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে বলেও জানানো হয়। প্রথম দফায় ৩ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে চাই তারা।

এদিকে, এ ঘোষণার পরপরই রোহিঙ্গা নেতারা বলছে, রাখাইনে পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়ার কথা ছিল গত বৈঠকে। পাশাপাশি আরো আলোচনার কথা দিয়েও রাখেনি মিয়ানমার সরকার। এ পরিস্থিতি আদও প্রত্যাবাসন চালু হওয়া নিয়ে সংখ্যা থেকে যায় বলে দাবি করেছে তারা।

তুমব্রু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, গত বৈঠকে মিয়ানমার প্রতিনিধিরা সেই পুরনো গল্প শুনিয়েছে। আমরা বার বার বলেছি, আমাদের নাগরিত্ব না দিলে মিয়ানমার যাবো না। কিন্তু তারা দ্বিতীয়বারে মত তামাশা করছে। তারা বলছেন, নাগরিত্ব দেয়া হবে-তারা চাইলে যেকোন মুহুর্তে আবার নিয়েও নিবে। এ শর্তে আমরা কখনো রাজি নয়।

তিনি বলেন, হঠাৎ মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের যে ঘোষণা দিয়েছে তাতে আমরা বিস্মিত। কারণ যেখানে আমাদের সাথে আলোচনা অরও করার কথা ছিল এবং মিয়ানমার সরকার তাতে রাজিও ছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কখনো ভাল ফলাফল ভয়ে আনবে না।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের আমরা স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চাই। কোন ধরণের ক্যাম্প জীবন আর চাই না। যদি ফেরত যেতে হয় তাহলে নাগরিকত্ব নিয়ে যাবো। একই কথা আমরা বার বার জানিয়েছি।

আরেক নেতা আব্দুর রহিম বলেন, মিয়ানমারের এ প্রতিনিধিরা আগেরবারও একই কথা বলেছিল। কিন্তু আমরা যে দাবি জানিয়েছি তা তারা সম্মতি দেয় না। এবারও একই কথা বলেছিল, কিন্তু হঠাৎ এমন ঘোষণা কি কারণে জানি না। তাহলে আমাদের ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। কারণ, নাগরিকত্ব ছাড়া সে দেশে যাওয়া খুবই কঠিন।

খ্রিষ্টান রোহিঙ্গাদের নেতা আবু তাহের বলেন, শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এসে জিজ্ঞেস করেছিলেন। স্ব-ইচ্ছেই কেউ যেতে রাজি কিনা। তখন আমি জানিয়েছি, আমার এখানে কেউ এমবিসি কার্ড নিয়ে যেতে রাজি নয়, তখন তারা চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে বসে কোন সিদ্ধান্ত না দিয়ে হঠাৎ ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি হবাক হয়েছি। এভাবে তো যাওয়া হয়না। আমাদের সাথে আরও আলোচনার কথা বলেছিল মিয়ানমার প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেটি না করে তারা প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত অবান্তর।

প্রসঙ্গত যে, গত ২৭ জুলাই মিয়ানমার সরকারের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন। কিন্তু কোন সঠিক সিদ্ধান্ত না দিয়েই ফিরে যায় তারা। পরে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া মিন্ট থোয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, রোহিঙ্গাদের বিদেশী নাগরিকের মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার।
এরআগেও, কয়েক দফা প্রতিনিধি দল পাঠায় মিয়ানমার। কিন্তু প্রত্যাবাসন হয়েও হয়ে উঠেনি। রোহিঙ্গাদের শর্ত পূরণ না হওয়ায় কেউ রাজি না থাকায় সে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও ব্যস্তে যায়। উল্টো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে ক্যাম্পগুলো।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ২৪ আগষ্টের পর থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১১ লাখের বেশী রোহিঙ্গা। এরপর দফায় দফায় চেষ্টা করেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!