এইমাত্র পাওয়া

x

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার ভুলের খেসারত দিলেন ‘শামীমা’

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ | 210 বার

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার ভুলের খেসারত দিলেন ‘শামীমা’

কক্সবাজার বিমানবন্দর হয়ে নিয়মিত যাতায়ত করেন ‘এক্সসিলেন্ট ওয়াল্ড’ নামে একটি এনজিও সংস্থার জেনারেল ম্যানেজার সুলতানা রাজিয়া শামীমা। বরাবরের মত সোমবার (২২ জুলাই) বেলা ১১ টার নভোএয়ারের একটি বিমানের যাত্রী ছিলেন তিনি।

নিয়ম অনুযায়ী সব চেকআপ পারও করেছেন। হঠাৎ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) কক্সবাজারের ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক তালুকদারের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে থাকে। এক পর্যায়ে টেনে-হেঁছড়ে তাকে উঠিয়ে নেয় ওই টিম।

তারপর খতিব আল-ফুয়াদ হসপিটালে নিয়ে যায়। সেখানে পর পর দুইবার এক্স-রে করা হয়। কিন্তু কিছুই আসেনি সেখানে। এক্স-রে রত অবস্থায় তাকে ছবি তুলতে থাকে ইন্সপেক্টর মালেক। কান্নাজড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদককে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর (ডিএনসি) কক্সবাজারের কর্মকর্তাদের হয়রানীর কথা বলছিলেন এনজিও কমর্কর্তা সুলতানা রাজিয়া শামীমা।

এনজিও কমর্কর্তা সুলতানা রাজিয়া শামীমা এ প্রতিবেদককে বলেন, বিমানবন্দরের নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু চেকআপ করে বুর্ডিং পাসও নিয়েছি। হঠাৎ আব্দুল মালেক সাহেব এসে বলেন আপনার বিরুদ্ধে অবৈধ মালামাল বহনের সু-নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। এক পর্যায়ে তারা আমাকে টেনে হেছড়ে টমটমে তুলে নিয়ে যায়। আল-ফুয়াদ হসপিটালে নিয়ে গিয়ে এক্সরেরত অবস্থায় ছবি তুলতে থাকে। যা আমার জন্য খুবই লজ্জাজনক।

তিনি বলেন, তাদের এ হয়রানীর কারণে আমাকে বিমান মিস করতে হয়েছে। কিন্তু পরের বিমানের যে খরচ তাও তারা দেয়নি। উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায়। আমি এখন আতঙ্কে আছি কখন আমার ছবিগুলো বিকৃত করে প্রকাশ করা হচ্ছে কিনা।
কক্সবাজার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, চেকআপ শেষ হওয়ার পর শামীমা বুর্ডিং পাসও নিয়েছেন। আসলে বুর্ডিং পাস নিয়ে ফেললে তার দায়িত্ব আমাদের, তাদের না, এটা নভোএয়ারের দায়িত্বে চলে যায়। কিন্তু কিভাবে তারা যাত্রীকে ডিএনসির কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন, তা আমরা বুঝতে পারছি না।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল ফারুক এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। কিন্তু বুর্ডিং পাস নেয়ার পর কিভাবে তাকে সংস্থার লোক নিয়ে যেতে পেরেছে তা আমি জানি না। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী বুর্ডিং পাস নেয়ার পর কোন যাত্রীকে ছেড়ে বিমান যেতে পারে না। কিন্তু নভোএয়ার কর্তৃপক্ষ এটা কি করলো বুঝতে পারছি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক তালুকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় পরে তার অফিসে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গেলে মাঝে-মধ্যে ভুল হয়। তবে আমাদের কাছে তথ্য ছিল, তাই তল্লাশী ও এক্সেরে করেছি। পরে আমরা তাকে স্ব-সম্মানে আবার পৌঁছে দিয়েছি। এক্সরেতে ছবি তুলার কথা বললে তিনি কোন উত্তর দেননি।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!