মহেশখালীতে সংকটময় মুহুর্তে কিস্তির টাকা আদায় করছে এনজিও সংস্থার মাঠ কর্মিরা!

রবিবার, ০৭ জুন ২০২০ | ৭:২৫ অপরাহ্ণ | 48 বার

মহেশখালীতে সংকটময় মুহুর্তে কিস্তির টাকা আদায় করছে এনজিও সংস্থার মাঠ কর্মিরা!

মহেশখালীতে সংকটময় মূহুর্তে দরিদ্র জনসাধারণকে ঋন পরিশোধের জন্য চাপ দিতে শুরু করেছে এনজিও সংস্থাগুলোর মাঠকর্মীরা। ফলে করোনা ভাইরাস এর কারণে কয়েকমাসের লকডাউন আর ভীতিকর পরিস্থিতিতে দিশেহারা মানুষ পড়েছে আরো চরম বিপাকে। মহেশখালি উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভায় ২২ টি ছোট-বড় বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে ১০ টি এনজিও যারা ক্রেডিট প্রোগ্রাম করে তারা মুলত কয়েকদিন ধরে ঋণ আদায়ে গ্রাহকদের চাপ দিয়ে যাচ্ছে। সরাসরি গিয়ে আবার অনেকে মুঠোফোনেও কল করে ঋনের টাকা ২/১ দিনের মধ্যে পরিশোধের জন্য তাগাদা দিচ্ছে।

জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলায় মুক্তি, গ্রামীন ব্যাংক, শক্তি ফাউন্ডেশন, ব্যুরো, আশা, কোস্ট-ট্রাস্ট, রিক,গণ স্বাস্থ্য সহ আরো অনেক বেসরকারি সংস্থা ক্ষুদ্র ঋন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনা পরিস্থিতিতে চলতি মাসের (জুন) ৩০ তারিখ পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত করছে। এরপরও মহেশখালীতে জোরপূর্বক এনজিও’র ঋণের কিস্তি আদায় অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে জনমনেও দিনদিন ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।

মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মুসলেম উদ্দিন জানান, আমার এলাকা সহ আশপাশের অনেক ক্ষুদ্র ঋনের গ্রাহক জানালেন, কয়েকদিন ধরে মুক্তি, গ্রামীন ব্যাংক, আশা, কোস্টট্রাস্ট সহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার মাঠকর্মীরা কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছে। অনেকে মোবাইল ফোনে কল করে ঋনের টাকা জমা রাখার জন্য নির্দেশ দিচ্ছে। জমা হলেই মাঠকর্মীরা সেই টাকা নিয়ে যাবেন।

মহেশখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরি মুঠো ফোনে জানান, পৌররসভা সহ বেশ কিছু ইউনিয়নের মুক্তি, আশা, রিক সহ কয়েক এনজিও সংস্থার মাঠ কর্মীরা ঈদুল ফিতরের আগেই তাদের কিস্তির জন্য তাগাদা দেয়। কিন্তু তাদের অনেক করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন ও নিঃস্ব হওয়ায় টাকা দেননি। পরে ঈদের পর থেকে আবারো ঋনের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এটি খুবই দুঃখ জনক বিষয়।

পত্রিকায় নাম আসলে তাদের আর ঋন দেয়া হবে না-এমন আতংকের কথা জানিয়ে ভুক্তভোগী অনেক গ্রাহকরা এ প্রতিবেদককে তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। তাঁরা আরো জানান, তাদের ক্ষুদ্র ঋনের মাধ্যমে সংস্থাগুলো ব্যবসা করলেও করোনা পরিস্থিতিতে এসব সংগঠন অসহায়-কর্মহীন মানুষের কল্যাণে কোন ভূমিকা পালন করেনি।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি মাস পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোকে ঋনের টাকা আদায় না করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরপরও মহেশখালীর কোথাও যদি জোরপূর্বক কিস্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি এ ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ জানান।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!