ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে জাতিসংঘ বাংলাদেশের পক্ষে

রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৯ | ৬:৪০ অপরাহ্ণ | 241 বার

ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে জাতিসংঘ বাংলাদেশের পক্ষে

রোহিঙ্গাদের ভাষানচরে স্থানান্তরে সরকার যে প্রক্রিয়া করছে জাতিসংঘ সেটার পক্ষেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের এ সংক্রান্ত রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, তাদের জমাকৃত প্রতিবেদনে ভাষানচরের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি।

রোববার (২৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে (বিআইএসএস) রোহিঙ্গা সমস্যা ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা বিষয়ক সেমিনারে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা কোন মানবিক ইস্যু নয়, এটা রাজনৈতিক, নিরাপত্তা এবং প্রত্যাবাসন ইস্যু। আমরা চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে কাজ করছি। গত কয়েক বছরের অমীমাংসিত বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর মধ্যে একটা রোহিঙ্গা ইস্যু৷ আমি বিশ্বাস করি, আমরা সঠিক পথেই আছি৷’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যাবাসনের ফোকাসটি কোনভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে না৷ আমরা তাদের অফিসিয়ালি শরণার্থী বলছি না, কিন্তু তাদের সকল সুযোগ সুবিধাই নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

সেন্টার ফর জেনোসসাইড স্টাডিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমদ বলেন, ‘আমরা যা বলছি, তা মিয়ানমারের কাছে যাচ্ছে কিনা? দেয়াল যত শক্ত হয়, সেটা তত ভঙ্গুর হয়। গত বছর বৃষ্টিপাত কম হয়েছে, কিন্তু এবার আবহাওয়া খারাপ হলে তাদের অবস্থা হবে ভয়াবহ। কিভাবে তহবিল জোগাড় করা যাবে। কূটনীতিতে আমাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ পরিবর্তন করতে হবে। তারা গণহত্যা করছে, আমরা নই। তাদের সাথে আলোচনায় করে সেটা তুলে ধরতে হবে৷ আমরা গণহত্যার সব ধরনের প্রমাণাদি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিলে সেটা তাদের ওপর চাপ তৈরি করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর ১৯টি দেশে কমবেশি রোহিঙ্গা রয়েছে, আমাদের উচিত তাদের সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো। বছরে একবার দেশে এবং একবার দেশের বাইরে তাদের নিয়ে সম্মেলন করতে হবে। শুধুমাত্র রোহিঙ্গা নয়, অন্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর ওপরও মিয়ানমারের গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরতে হবে।’

ইউএনএইচসিআর এর প্রতিনিধি স্টিভেন কোরোলিচ বলেন, ‘ফিরে যাওায়টাই একমাত্র সমাধান না৷ ১৯৭০ সাল থেকেই দফায় দফায় তারা আসছে। যতবার তারা ফিরে গেছে, কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। তাই আমরা চাই টেকসই প্রত্যাবাসন৷ তারা বাংলাদেশ সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ভাষানচরের প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। আমরা সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, সুযোগ সুবিধাগুলো দেখছি। সেখানে উন্নতির কিছু বিষয় রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক করেসপডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিক্যাব) সভাপতি রাহীদ এজাজ ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!