এইমাত্র পাওয়া

x

ভারী বৃষ্টিতে টেকনাফে নিহত তিন : দেড় শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬:৩০ অপরাহ্ণ | 108 বার

ভারী বৃষ্টিতে টেকনাফে নিহত তিন : দেড় শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত

টেকনাফে ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে দুই ও পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গাসহ তিন শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টির পানিতে দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
(১০ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার ভোরে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়ার রবিউল আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (৯) ও একই এলাকার মোহাম্মদ আলমের শিশু কন্যা আলিফা (৫) একই দিন টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-বল্কের আমান উল্লাহর ছেলে ইরফান আলী (১১) পানিতে ডুবে মারা যায়।

সরেজমিনে টেকনাফ পৌরসভা, হ্নীলা, বাহারছড়া, পহায়াইক্যং, শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়ার পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালী, মধুর ছড়া এলাকার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টির পানিতে দেড় শতাধিক কাঁচা ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

এলাকা পরিদর্শনকালে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে টেকনাফ পৌর এলাকায় পাহাড় ধসে দুই শিশু মারা গেছে। ঘটনাস্থল পরির্দশ করেছি, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। নিহত শিশুদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, ভারী বর্ষণে টেকনাফ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম পানি বন্দী হওয়ায় প্রায় ৮’শ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্র নিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া তাৎক্ষনিকভাবে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত টেকনাফ পৌরসভার ১১০ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এখানো যারা ঝুকিতে বসতি করছে তাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৃষ্টিতে ঘর ভাঙার খবর পেয়েছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তাদের সাহায্য দেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী খাল দখল করে রেখেছে। এতে বৃষ্টির পানি জমে এলাকায় ঢুকে ঘরবিাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আগে বৃষ্টিতে এভাবে ঘরবাড়ি ডুবে যায়নি। আমাদের ঘরসহ এলাকার বেশ কয়েকটি কাঁচা ঘর ভেঙে গেছে।

তিনি বলেন, খাল দখলমুক্ত না হওয়ায় প্রতি বছর বৃষ্টিতে শতাধিকের বেশি পরিবারকে পানির মধ্যে বসবাস করতে হয়। খাল দখলমুক্ত করে এলাকার লোকজনকে পানিবন্দি থেকে রক্ষা করতে এবং খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি সরকারের কাছে।’

পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিলদার বেগম (৫৫) নামে এক নারী বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে একমাত্র সম্বল ঘরটিও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। জানি না এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো। একটি মাত্র আশ্রয় কেন্দ্র হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়ে আছি। সকাল থেকে পরিবারের কোনও লোকজন খাবার মুখে দিতে পারেনি। খাল দখলের কারণে আমাদের এই দশা। ’

টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি বদলুল ইসলাম বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতে এ শিবিরের প্রায় অর্ধশতাধিক ঝুপড়িঘর ভেঙে গেছে। এছাড়া বালুখালী, মধুরছড়া ও শূন্য রেখা রোহিঙ্গা শিবিরের শতাধিকের মতো ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। এতে অনেক রোহিঙ্গা ঘরহারা হয়ে পড়েছে।’

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতে মাটি চাপা পড়ে দুই শিশু ও পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গা শিশুসহ তিন মারা গেছে। ভারী বৃষ্টি পাত অব্যাহত থাকায় বেশ কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ এখনো পানিবন্দী হয়ে আছেন। এলাকায় গিয়ে তাদের খোজঁ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!