ভারতে লোকসভা নির্বাচন শুরু, জরিপে এগিয়ে মোদি

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৯ | ১২:৪৫ অপরাহ্ণ | 306 বার

ভারতে লোকসভা নির্বাচন শুরু, জরিপে এগিয়ে মোদি

পরবর্তী কেন্দ্রীয় শাসক নির্ধারণে আজ ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভোট দিতে শুরু করবে বিশ্বের সবথেকে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের নাগরিকেরা। ৭ দফায় অনুষ্ঠিত ভোটের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে পরবর্তী নেতৃত্ব। ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে তারা। এবারের নির্বাচনে সাত দফায় মোট ৯০ কোটি ভোটার অংশ নেবেন। এর মধ্যে দেড় কোটি নতুন ভোটার রয়েছেন। বিভিন্ন নির্বাচনী জরিপে জয়ের ক্ষেত্রে বিজেপিকেই এগিয়ে রাখা হয়েছে। জরিপগুলোর আভাস, বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনের সাপেক্ষে বিজেপির আসন কমবে, তবে তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।

ভারতের বর্তমান জনসংখ্যা ১৩৯ কোটি। সমৃদ্ধি থাকলেও সেখানে দারিদ্র্য আর বেকারত্বের সমস্যাও প্রকট। বিশেষ করে, তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রবল। শস্যের দাম কমে যাওয়ায় ভারতের লাখো কৃষকের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। নির্বাচনকে ঘিরে গত এক মাস ধরেই সরগরম ছিল ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। সরকার ও বিরোধীদের একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তপ্ত ছিল প্রচারণা। প্রথম দফায় ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত দুইটি অঞ্চলে ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। এদিন ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৯১টি আসনে ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। এসব আসনে ১ হাজার ২৮৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ২টি আসন ছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িশ্যা, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশে বিধানসভার ভোটগ্রহণ হবে। এদিকে নির্বাচনের একদিন আগেই বুধবার আমেথি থেকে মনোনয়ন জমা দেবেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসেছিলেন ভারতের অর্থনীতিতে বিরাট সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু সেই থেকে দেশটিতে বেকারত্বের হার কমেনি, বরং বেড়েছে। সমালোচনা-বিতর্কে জড়িয়েছে বড় বড় নীতিমালাগুলো। ক্ষমতা ধরে রাখতে তাই বিজেপি এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় জাতীয়তাবাদকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।মঙ্গলবারই প্রথম দফার নির্বাচনের প্রচারাভিযানের শেষ দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন ভোটারদের প্রতি পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গি শিবিরে ভারতের অভিযান এবং পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় নিহত সেনাদের প্রতি তাদের ভোট উৎসর্গ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলো সেনা সদস্যদের জীবন নিয়ে বিজেপির রাজনীতির প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এবারের লোকসভা নির্বাচনে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান ইস্যুটি ফল নির্ধারণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। বর্ণপ্রথা ও ধর্মীয় বিভেদপূর্ণ ধারণাও থাকবে বড়[ ধরনের ভূমিকায়। ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাই মোদি ও তার দল বারবারই হিন্দু জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাকিস্তান বিরোধী প্রচারণাকেও এ কাজে লাগানো হচ্ছে। এছাড়া বর্ণভিত্তিক কোটা সুবিধার বিষয়টি উচ্চবর্ণে প্রশংসিত হলেও অন্যান্য বর্ণের জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষোভের কারণ হয়ে ওঠায় ভোটের ফলাফলে এর প্রভাব পড়তে পারে।

সি ভোটার –এর সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১৪ সালের থেকে বিজেপির আসন কমে গেলেও তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জিতবে। গত নির্বাচনে যেখানে তারা ৩৩০টি আসন পেয়েছিল, সি ভোটারের ধারণা তা কমে গিয়ে এবার তারা পেতে পারে ২৬৪টি আসন। সি ভোটার তাদের জরিপে জানিয়েছে, পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার হামলার পর মোদির জনপ্রিয়তা দুম করে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ৫২ শতাংশ মানুষ বলছেন, তারা মোদির কাজে খুশি। টাইমস নাউ – ভিএমআর : এই সমীক্ষার হিসাবে বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট লোকসভা ভোটে মোট ২৭৯টি আসন পেতে পারে। ওই সংখ্যক আসন পেলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে তাদের‍্য। ইন্ডিয়া টিভি-সিএনএক্স : এর সমীক্ষাতেও ২০১৪ সালের তুলনায় বিজেপি-র আসন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, গত লোকসভা ভোটের তুলনায় এবার ৫২টি আসন কম পেতে পারে বিজেপি। তারা পেতে পারে ২৩২টি আসন।

১৯ মে পর্যন্ত সাতটি ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন প্রদেশের ভোটাররা ভিন্ন সময়ে ভোট প্রদান করবেন। ২৩ মে ভোট গণনা হবে এবং ধারণা করা হচ্ছে একই দিনে ফল প্রকাশ হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!