ভাগনের অপহরণ নিয়ে ফেসবুক লাইভে যা বললেন সোহেল তাজ

মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৯:৫৯ অপরাহ্ণ | 297 বার

ভাগনের অপহরণ নিয়ে ফেসবুক লাইভে যা বললেন সোহেল তাজ

অপহরণের ৯ দিন ধরে নিজের মামাতো বোনের ছেলে ইফতেখার আলম প্রকাশের (সৌরভ) সন্ধান না পাওয়ায় এবার ফেসবুক লাইভে আসলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মামাতো বোন ইয়াসমিন (নিখোঁজ সৌরভের মা) ও তার স্বামী মানিককে (নিখোঁজ সৌরভের বাবা) সঙ্গে নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন সোহেল তাজ।

১৮ মিনিটের এই ফেসবুক লাইভে সোহেল তাজ, ইয়াসমিন ও মানিক নানা তথ্য উপস্থাপন করেন। এই ফেসবুক লাইভের কথোপকথনের কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

লাইভের শুরুতে সোহেল তাজ সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমার মামাতো বোনের ছেলে সৌরভ গত ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এ বিষয়ে সার্বিকভাবে চেষ্টা করছি ছেলেটিকে অক্ষত, সুস্থ ও জীবিত ফিরে পাওয়ার জন্য। এ বিষয়ে এখন সৌরভের মা ও বাবার সঙ্গে আলোচনা করব। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেই তদন্ত করব এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তথ্য সরবরাহ করব।’

সোহেল তাজ: ‘মানিক ভাই (সৌরভের বাবা) আপনার সঙ্গে কি পুলিশ যোগাযোগ করেছে?’

মানিক: ‘আমার সঙ্গে থানা থেকে যোগাযোগ করা হয়নি, আমি নিজে থেকেই যোগাযোগ করেছি। তখন ফোনে ওসি সাহেব (চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা) আমাকে বলেন, আপনারা কোথাও থেকে কোনো ধরনের তথ্য পেয়েছেন কিনা? তখন আমি বললাম, আমরা তো কোনো তথ্য পাইনি। পরে এক পর্যায়ে আমি ওসিকে বলাম, সমস্ত ফুটেজ থেকে শুরু করে সবকিছু তো আপনাদের কাছে আছে।’

সোহেল তাজ: ‘ফুটেজে কী দেখা যায়?’

মানিক: ‘ফুটেজে দেখা যায় ৬টা কত মিনিটে আমার ছেলে আগোরার সুপার মার্কেটের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এরপর তার সঙ্গে তাদের (অপহরণকারীরা) যোগাযোগ হয়।’

সোহেল তাজ: ‘সৌরভকে ৯ জুন আপনার জানামতে কে ফোন করে ছিল?’

মানিক: ‘এই ফোনটা ঢাকা থেকে করা হয়েছিল। যারা ঢাকা থেকে রমজান মাসে আমার ছেলেকে বনানীর বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে একদিন রেখে বনানীর বাসায় রাতে দিয়ে গিয়েছিল।’

সোহেল তাজ: ‘বনানীর বাসায় যারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তারা কী পরিচয় দিয়েছিল?’

মানিক: ‘তারা র‍্যাব-১ এর পরিচয় দিয়েছিল। এ সময় একটি কাগজও দিয়েছিল আমাদের।’

সোহেল তাজ: ‘আচ্ছা তার মানে মে মাসের ১৬ তারিখে সৌরভকে তুলে নিয়ে যায় ২৪ ঘণ্টার জন্য। ফিরিয়ে দেওয়ার সময় একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। আর সেই কাগজটি র‍্যাব-১ এর প্রাপ্তি স্বীকার ফরম ছিল।’

মানিক: ‘উনারা (র‍্যাব-১) তখন বলেন, সে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সব ফেইক।’

সোহেল তাজ: ‘ইয়াসমিন (সৌরভের মা) আপা আপনাকে কী বলে গিয়েছিল সৌরভ?’

ইয়াসমিন: ‘সৌরভ যাওয়ার সময় বলে, মা আমার কাছে তারা (র‍্যাব-১) সার্টিফিকেট চেয়েছে।’

সোহেল তাজ: ‘আপনি জিজ্ঞাস করেছিলেন কে সার্টিফিকেট চেয়েছে?’

ইয়াসমিন: ‘হ্যাঁ জিজ্ঞাস করেছি। যারা তাকে এর আগে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তারা সৌরভকে বলেছে, তোমার তো কোনো দোষ নেই, আমরা যদি তোমাকে একটা ভালো জায়গা প্রোভাইড করি। তখন সৌরভ বলেছিল তাদের, আপনারা যা প্রয়োজন করেন তবুও এই যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করেন।’

সোহেল তাজ: ‘তার মানে আপনাকে মূলত সৌরভ বলে গিয়েছে যে, ঐ যে মে মাসের ১৬ তারিখে যারা উঠিয়ে নিয়েছিল তারাই তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছে।’

ইয়াসমিন: ‘সৌরভ নাকি চোখ বাঁধা অবস্থায় জিজ্ঞাস করেছিল, আমি আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব কিভাবে? তখন সৌরভকে তারা বলেছে, তোমার যোগাযোগ করতে হবে না, আমরাই তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করব। সৌরভ আরও বলেছে, তারা প্রত্যেকে ইংলিশে কথা বলছিল, প্রত্যেকে শিক্ষিত ও তাদের কাছে ওয়াকিটকি ও আর্মস ছিল।’

সোহেল তাজ: ‘সৌরভকে আগে যখন উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তখন তার মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে তাকে নেওয়া হয়েছিল। আমরা জানি আমাদের এলিট ফোর্সেস ছাড়া কারও কাছে এই মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং প্রযুক্তি নেই।’

পরবর্তীতে ইয়াসমিন বলেন, ‘যেদিন সৌরভ গুম হলো, এর একদিন আগে আবার সেই নম্বর থেকে সৌরভের কাছে আসে। তখন তাকে সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে বলে তারা চাকরি দেবে বলে। তখন সৌরভ বলে, আমার মা অসুস্থ আজ পারব না। তখন তারা আবার ফোন করে বলে, আমাদের দুইজন অফিসার তোমার সঙ্গে বসবে। তাদের কাছে তুমি তোমার পাসপোর্টে ও এনআইডি কার্ডের ফটোকপি দিয়ে আসবে। পরে সৌরভ ফটোকপি করতে গেলে গুম হয়ে যায়।’

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!