এইমাত্র পাওয়া

x

বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল লাবণ্যের প্রাণ

রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৯ | ৫:০২ অপরাহ্ণ | 153 বার

বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল লাবণ্যের প্রাণ

কাভার্ডভ্যান এবং উবার মোটরসাইকেল চালকের বেপরোয়াভাবে একে অপরকে ওভারটেক করার চেষ্টার জন্যই প্রাণ হারাতে হয়েছে বেসরকারি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ফাহমিদা হক লাবণ্যকে।

রোববার দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার।

ডিসি বিপ্লব কুমার বলেন, ঘটনার দিন কাভার্ডভ্যানের চালক ও লাবণ্যকে বহনকারী উবার মোটরসাইকেল চালক দুজনই বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তারা একে অপরকে ওভারটেক করার চেষ্টা করতেই ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে লাবণ্য নিহত হন।

এর আগে শনিবার বিকালে আশুলিয়ার বাইশমাইল এলাকা থেকে ঘাতক কাভার্ডভ্যানসহ চালক আনিসুর রহমানকে আটক করে পুলিশ।

তার আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিং এলাকা থেকে লাবণ্যকে বহনকারী উবারচালক সুমনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এসময় লাবণ্যকে বহনে ব্যবহৃত সুমনের মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়।

ডিসি বিপ্লব বলেন, ঘটনার পর থেকে লাবণ্যকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালক সুমনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার মোবাইলও বন্ধ ছিল। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে, কারণ ওই দুর্ঘটনার প্রধান সাক্ষী কিন্তু এই সুমন।

তিনি বলেন, লাবণ্যের মৃত্যুর পর আমরা ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করি। কিন্তু কোনো ফুটেজেই ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। তবে যতটুকু বোঝা গেছে লাবণ্যকে চাপা দিয়ে কাভার্ডভ্যানটি রুট পরিবর্তন করে দ্রুতগতিতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে দিয়ে চলে যায়। ভ্যানটির পেছনে ‘ইনফোফোর্ট’ লেখা ছিল। পরে আমরা ইনফোফোর্টের অফিসে খোঁজ করি, তারপরই প্রতিষ্ঠানটির হেড অফিস আশুলিয়া বাইশমাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাভার্ডভ্যান চালক আনিসুরকে গ্রেফতার করা হয়।

কাভার্ডভ্যান ও উবার চালককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিসি বিপ্লব বলেন, ঘটনার দিন কাভার্ড ভ্যানের চালক ও লাবণ্যকে বহনকারী উবার মোটরসাইকেল চালক দুজনই বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, উবারে রিকুয়েস্ট পাওয়ার পর লাবণ্যকে শ্যামলীতে তার বাসার সামনে থেকে বাইকে উঠিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয় চালক সুমন। তিনি খুব বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সামনে গেলে পেছন থেকে আরো বেপরোয়া গতিতে থাকা কাভার্ডভ্যানটি বাইকে ধাক্কা দেয়। তখন লাবণ্য বাইক থেকে পড়ে যায় এবং কাভার্ডভ্যানটি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে লাবণ্যকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লাবণ্যের মৃত্যুর ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় হওয়া মামলায় কাভার্ডভ্যান চালক আনিসুরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে উবার মোটরসাইকেল চালক সুমনকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনায় তার অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!