এইমাত্র পাওয়া

x

বিমান বন্দরের রানওয়েতে লোক যাতায়াত বন্ধ হয়নি!

শনিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫:১০ অপরাহ্ণ | 132 বার

বিমান বন্দরের রানওয়েতে লোক যাতায়াত বন্ধ হয়নি!

দিন দিন ব্যস্ততম বিমান বন্দরে পরিণত হচ্ছে কক্সবাজার বিমান বন্দর। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সম্প্রাসারণের নির্মাণ কাজও শেষের পথে। রোহিঙ্গা ইস্যু, পর্যটন সহ নানা কারণে কক্সবাজারের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন শত শত মানুষ কক্সবাজার বিমান বন্দর হয়ে আসা যাওয়া করছে। কিন্তু, ব্যস্ততম এই বিমান বন্দরের রানওয়ে হয়ে এপার-ওপারে জনসাধারণের যাতায়াত বন্ধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বিমান বন্দরের দায়িত্বরত কিছু কর্মকর্তা ও আনসার সদস্যদের গাফেলতি ও দায়সারা দায়িত্বপালনের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

২০১৫ সালের ২ জুলাই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করণ প্রকল্প শুরু হয়। পুরোপুরি কাজ শেষ না হলেও ২০১৭ সালের ৬ মে থেকে রানওয়েটিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওঠা-নামা করছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা ইস্যু ও পর্যটন কেন্দ্রের কারণে প্রতিদিনই আকাশ পথে কক্সবাজার আসছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার অসংখ্য কর্মকর্তা। কিন্তু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিমান বন্দরটি।

বিমান বন্দরের রানওয়ের ওপর দিয়ে পথচারী যাতায়াতের দৃশ্য দেখা যায় হারহামেশা। শুধু তাই নয়, বিমান অবতরণের সময় হাত দেখিয়ে থামার সংকেতও দেয় তারা। পারাপারের সময় অনেককে মারামারি করতেও দেখা যায়।
বিমান বন্দরের পশ্চিম পাশের কুতুবদিয়াপাড়া, সমিতিপাড়া ও চরপাড়ার এলাকার বসবাসরত সাধারণ মানুষেরা রানওয়ে ব্যবহার করে বেশী। এ নিয়ে মিডিয়া অনেক লেখালেখি হওয়ার পরও বন্ধ হয়নি সাধারণ মানুষের রানওয়ে ব্যবহার। এসব মানুষের বিমানবন্দরের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত নতুন বাহারছড়া, নুনিয়ারছড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় আসা যাওয়া করে থাকে। গত দুইদিন ধরে জনসাধারণের সেই পুরনো চেহেরাটি ফের উঠে এসেছে।

কক্সবাজার বিমান বন্দরে বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট এয়ার লাইনস, নভোএয়ার ও ইউএস-বাংলা এয়ার লাইনসের ৯-১০টি বিমান দৈনিক আসা-যাওয়া করে। এরমধ্যে বোয়িং ৭৩৭ বিমান ও রয়েছে। এছাড়াও ৫ থেকে ৬টি কার্গো বিমান ও আসা-যাওয়া করে। কিন্তু, বিমান বন্দরে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা দায়িত্বপালন করলেও যেন দেখেও না দেখার ভান করছে। পথচারিদের যাতায়াত ছাড়াও বিমান বন্দরের রানওয়েতে অবাধ কুকুরের বিচরণও চোখে পড়ার মত। অথচ, কেউ কিছুই বলছেনা। এছাড়া বিমানবন্দরের অনেকাংশে নেই কোনো গাইডওয়াল, আবার যেটুকু আছে তাও জরাজীর্ণ। এতে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা।

বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কক্সবাজারউন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব:) ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে যেমন বাড়ছে তেমনি অবকাঠামোর ও উন্নয়ন হচ্ছে। যেভাবে বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকার কথা সেটা নেই। এছাড়াও যাত্রীদের বসার জায়গা নেই, পর্যাপ্ত স্ক্যানার মেশিন নেই, বিমানবন্দরের চারদিকে গাইড ওয়াল নেই। যার কারণে গরু-ছাগল চলাফেরা করে, রানওয়ে দিয়ে এই পারের লোক ওই পারে সহজে যাতায়াত করছে। এখন সব বিষয়ে চিন্তা করতে হবে। যে অব্যবস্থাপনা গুলো রয়েছে সেগুলো বন্ধ করতে হবে। তানাহলে হঠাৎ একটা দূর্ঘটনা আমাদের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

তবে নিরাপত্তা সম্পর্কিত সমস্যা গুলো শিগগিরই সমাধান করা হবে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক। তিনি বলেন, সিভিল অ্যাভিয়েশন খুব দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মধ্যদিয়ে সেখানকার সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্ছ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষা করবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!