এইমাত্র পাওয়া

x

অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে জরুরী ফোন নম্বর

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তারা কুম্ভকর্ণের মত দায়িত্বশীল

সোমবার, ০৮ জুলাই ২০১৯ | ৫:৩০ অপরাহ্ণ | 130 বার

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তারা কুম্ভকর্ণের মত দায়িত্বশীল

বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ কর্তৃক কক্সবাজার শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ’ চলছে কোন ধরণের নিয়মের তোয়াক্কা ছাড়াই। যান্ত্রিক ত্রুটি বা বৈদ্যুতিক লাইনের কোথাও সংযোগের সমস্যা দেখা দিলে কোন প্রকার প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই যখন তখন বন্ধ রাখা হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

অন্যদিকে কোথাও কোন ধরণের বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা দুর্ঘটনা ঘটলে জরুরী ভিত্তিতে অফিসে অবহিত করার ‘জরুরী টেলিফোন বা মোবাইল ফোন নম্বরটিও’ বন্ধ পাওয়া যায় অধিকাংশ সময়। এতে কোথাও যদি বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা জানানোর ব্যবস্থাও বন্ধ।

এতে গ্রাহকদের দুর্ভোগ যেন এখন নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে; এমনটি অভিযোগ কক্সবাজার শহরবাসীর।

এসব নিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার অবহিত করার পরও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কোন ধরণের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। কর্তা মহলকে দেখা গেছে বরাবরই কুম্ভকর্ণের মত দায়িত্বশীল।

শহরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিনই কক্সবাজার শহরের কোন না কোন এলাকায় ঘটে বৈদ্যুতিক লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা ট্রান্সফর্মারের ত্রুটিসহ বিস্ফোরণের মত ঘটনা। এধরণের ঘটনায় অধিকাংশ সময় তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। আবার কোন কোন সময় তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ স্বাভাবিক করার তৎপরতা দেখা দিলেও তাতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করেন। এ ধরণের ঘটনায় মাঝে মধ্যে সংযোগ লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকরণ করতে অনেক সময় ১০/১২ ঘন্টারও বেশী সময় লাগে।

দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে মাইকিং বা অন্যভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে গ্রাহকদের অবহিত করার নিয়ম থাকলেও বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ কক্সবাজার প্রতিনিয়ত তা না মেনেই চলছে বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

গ্রাহকদের অভিযোগ, স্বাভাবিক লোডশেডিং হোক বা কোথাও কোন কারণে বৈদ্যুতিক লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণেই হোক ; বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ কক্সবাজারের আওতাধীন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অফিসের ‘জরুরুী টেলিফোন বা মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় ফোনগুলো সচল থাকলেও কোন গ্রাহক কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত ‘ফোন অপারেটর’ সংযোগ কেটে দেয়। কিন্তু পুনরায় যখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয় সঙ্গে সঙ্গে ফোনগুলোরও সংযোগ চালু হয়ে থাকে।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের নেতা ছৈয়দ করিম বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-কক্সবাজারের বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে কোন ধরণের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই। অন্যবছর দেখা গিয়েছিল ককক্সবাজার শহরে বর্ষা মৌসুমে তেমনটা লোডশেডিংই ছিল না। কিন্তু এ বছর শোডশেডিংয়ের মাত্রা যেন শুষ্ক মৌসুমের মত। দিনে অন্তত ৩/৪ বারের বেশী লোডশেডিং ঘটছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের আওতাধীন পুরো এলাকা জুড়ে অথবা কোন এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখলে জরুরী ভিভিত্তে মাইকিং বা অন্য যে কোনভভাবে প্রচারণা চালিয়ে গ্রাহকদের অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের আওতাধীন এলাকায় সংযোগ লাইনের বড় ধরণের সংস্কারকাজ চালানোর সময়টা অন্যসময়তে মাইকিং করে প্রচারণা করতে দেখা যায়নি। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে কোন এলাকার কোথাও সংযোগ লাইনের বিচ্ছিন্নতা ঘটলে তা সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক করার মাঠপর্যায়ে তৎপরতা খুবই কম ঘটে।

সংযোগ বিচ্ছিন্নের খুব সামান্য ত্রুটি স্বাভাবিক করার ঘটনায় ক্ষেত্র বিশেষে সময়ক্ষেপণ ৩/৪ ঘন্টারও বেশী – এমনটি অভিযোগ এ নাগরিক নেতার।

কক্সবাজার শহরের পশ্চিম পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শনিবার ( ৬ জুলাই ) দুপুরে পশ্চিম পাহাড়তলী এলাকায় বৈদি্যুতিক লাইনের সংযোগ বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেটির সংস্কারকাজ চালিয়ে সরবরাহ লাইনের সংযোগ স্বাভাবিক করতে সময় লাগে রাত ১২ টা পর্যন্ত। কিন্তু দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকরা ‘বিদ্যুৎ অফিসের’ জরুরী ফোন নম্বরগুলোতে অসংখ্যবার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনায় কি কারণে সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন রয়েছে তা যেমন জানা সম্ভব হয়নি; সেই সঙ্গে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্œ থাকার খবরটিও বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্টদের জানানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে দীর্ঘসময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখলেও জরুরী ভিত্তিতে প্রচারণা চালিয়ে গ্রাহকদের অবহিত করতে কোন ধরণের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।

এদিকে নাগরিক আন্দোলনের নেতা ছৈয়দ করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের জরুরী ফোনগুলো অধিকাংশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা রাষ্ট্রিয় দায়িত্ব অবহেলার সমতুল্য। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করার পরও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টরা যেন বরাবরই কম্ভকর্ণের মতই।

এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের গনি বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণের আওতাধীন এলাকার কোথাও বৈদ্যুতিক লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক করতে কর্মিদের ঘটনাস্থলে প্রেরণ করে থাকেন। তবে অনেক সময় ক্ষেত্র বিশেষে কয়েকটি এলাকায় একসঙ্গে বৈদ্যুতিক লাইনের সংযোগের সমস্যা দেখা দিলে মাঝে মধ্যে স্বাভাবিককরণে বিলম্ব ঘটে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে কোন এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটলে স্বাভাবিককরণ করতে দীর্ঘসময় লাগে। এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকতার কারণে কখনো কখনো মাইকিং করে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ব্যাপারে গ্রাহকদের কাছে প্রচার-প্রচারণা করা সম্ভব ঘটে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ অফিসের জরুরী ফোনগুলো অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে এ নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এ ব্যাপারে দায়িত্বে অবহেলাকারিদের বিরুদ্ধে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিদ্যুৎ অফিসের জরুরী ফোনগুলো অধিকাংশ সময় ধরে বন্ধ থাকা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কর্তব্যরত সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলা বলে মন্তব্য করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের প্রতি কঠোর নির্দেশ দেয়া হবে জানান জেলা প্রশাসক।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!