ট্রান্সফর্মার সংকটে বিদ্যুতের ওভারলোড

বিদ্যুৎ নিয়ে দুর্ভোগে সাড়ে ৩ শত পরিবার

বুধবার, ২২ মে ২০১৯ | ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ | 795 বার

বিদ্যুৎ নিয়ে দুর্ভোগে সাড়ে ৩ শত পরিবার

একটি ট্রান্সফর্মারের অভাবে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশী সময় ধরে বিদ্যুতের দুর্ভোগে রয়েছে কক্সবাজার শহরের পশ্চিম পাহাড়তলীর সাড়ে তিনশ পরিবার। এতে ওভারলোডের কারণে লো-ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ফলে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে এলাকাবাসীর ব্যবহার্য্য গৃহস্থালীর ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বার বার তাগাদা দেয়া স্বত্বেও সমস্যার কোন ধরণের সমাধান আসেনি বলে অভিযোগ অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসীর তথ্য মতে, কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বইল্ল্যা পাড়ার ঝর্ণা মহল সংলগ্ন বৈদ্যুতিক খুঁটিতে স্থাপিত ট্রান্সফর্মার থেকে অন্তত সহ¯্রাধিক পরিবারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন হয়ে থাকে। এতে ট্রান্সফর্মারটির সংলগ্নিত আশাপাশের পরিবারগুলোতে ত্রুটিবিহীন বিদ্যুৎ সঞ্চালন হলেও দূরবর্তী পরিবারগুলোতে লো-ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হচ্ছে। এ কারণে এসব পরিবারগুলোর ব্যবহার্য্য ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীগুলো প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া তীব্র তাপদাহের মধ্যে লো-ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক পাখাগুলোও চলছে খুবই ধীরগতিতে। এমন কি ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তোলনেও বৈদ্যুতিক মোটরগুলো যথাযথভাবে কাজ করছে না।

এদিকে কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার শহরসহ সদর উপজেলার ওভারলোড হচ্ছে এমনটি বিভিন্ন স্থানে অতিশ্রীঘ্রই ৫০ টি ট্রান্সফর্মার বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। যা যথদ্রুত সম্ভব কক্সবাজারে পৌঁছানো হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের পশ্চিম পাহাড়তলীর বড়–য়া পাড়া ও আশাপাশের অন্তত সাড়ে ৩ শতাধিক পরিবারে ওভারলোডের কারণে লো-ভোল্টেজের ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের এ দুভোর্গ গত এক বছরেরও বেশী। এ নিয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলার ও পৌর মেয়রসহ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের কাছে একাধিবার তাগাদা দেয়ার পরও সমস্যাটির কোন ধরণের সমাধান আসেনি।

পশ্চিম পাহাড়তলীর বাসিন্দা এডভোকেট নুর মোহাম্মদ বলেন, একটি ট্রান্সফর্মারের অভাবে লো-ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সরবরাহের এ দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। সংশ্লিষ্টদের বার বার তাগাদা দেয়া স্বত্বেও কোন ধরণের সমাধান আসছে না। বর্তমানে যে পরিমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে তা ১৫০ ভোল্টের বেশী হবে না। এ পরিমান সঞ্চালিত বিদ্যুৎ দিয়ে ভূগর্ভস্থ থেকে মোটর দিয়ে পানি উত্তোলন তো দূরের কথা, তীব্র এ গরমে বাসার পাখাগুলোও ঠিকমত চলে না।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা হেফাজুর রহমান বলেন, লো-ভোল্টেজের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের পাশাপাশি গত এক বছর ধরে বাসার বেশ কিছু ব্যবহার্য্য সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। আগে ৫০০ লিটারের একটি পানির ট্র্যাংক পূর্ণ হতে সময় লাগতো ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ মিনিট। এখন এটি পূর্ণ হতে ৪৫ মিনিট থেকে প্রায় ঘন্টারও বেশী সময় লাগে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ লো-ভোল্টেজের কারণে প্রতিনিয়ত বৈদ্যুতিক ভাল্বগুলো তো নষ্ট হতেই আছে। গত এক বছরে তার বাসার একটি ফ্রিজ, একটি টিভি মনিটর এবং ব্যবহার্য্য একটি ল্যাফটপ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তোলনের মোটরটিও গত এক বছরে ২ বার মেরামত করতে হয়েছে। ”একই ধরণের অভিযোগ এলাকার বাসিন্দা খালেকুর রহমান, আব্দুল মজিদ ও খালেদা আক্তারের।

স্থানীয় বাসিন্দা ঠিকাদার আব্দুর রহিম বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগকে বেশ কয়েকবার অবহিত করা হয়েছে। লিখিতভাবেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তারপরও সমস্যার কোন সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় কাউন্সিলার ও পৌর মেয়রকে অবহিত করা হয়। তারা বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের উদ্যোগ নিবেন জানালেও দুর্ভোগের এখনো শেষ নেই।

দীর্ঘদিন ধরে ওভারলোডের কারণে লো-ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ফলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেছেন কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ।

জামশেদ, লো-ভোল্টেজের ফলে এলাকাবাসীর বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে দুর্ভোগের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কাছে একটি ট্রান্সফর্মার স্থাপনের জন্য লিখিতভাবে দাবি জানানো হয়েছে। এতেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিকভাবে বেশ কয়েকবার তাগাদা দেয়া হয়েছে।তবে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ যতদ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস প্রদান করলেও আজ অবধি কোন কাজই হয়নি বলে জানান স্থানীয় পৌর কাউন্সিলার জামশেদ।

এদিকে ট্রান্সফর্মারের অভাবে বিদ্যুতের ওভারলোডের কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের গণি বলেন, “ শুধুমাত্র পশ্চিম পাহাড়তলী এলাকা নয়; কক্সবাজার শহরসহ সদর উপজেলার ৫০ টিরও বেশী স্থানে বিদ্যুতের ওভারলোডের কারণে স্থানীয়রা নানাভাবে দুর্ভোগে রয়েছে। এতে ওভারলোডটেড ট্রান্সফর্মারগুলো যখন তখন নষ্ট হওয়ার কারণের স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে ভুগছেন।

আব্দুল কাদের বলেন, কক্সবাজার শহরসহ সদর উপজেলার বিদ্যুতের ওভারলোডে হচ্ছে এমন ৫০ টি স্থানের জন্য ট্রান্সফর্মারের চাহিদাপত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন আকারে জানানো হয়েছে। এসব স্থানের জন্য ৫০ টি ট্রান্সফর্মার শ্রীঘ্রই কক্সবাজার এসে পৌঁছাবে। এরপর যতদ্রুত সম্ভব এগুলো সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে স্থাপনের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসবের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কক্সবাজার শহরের পশ্চিম পাহাড়তলী বড়–য়া পাড়া সংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রান্সফর্মার দ্রুত স্থাপনের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের এ নির্বাহী প্রকৌশলী।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!