বিচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির পকেটে গরীবের ঝুঁপড়ি!

মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৮:১৯ অপরাহ্ণ | 643 বার

বিচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির পকেটে গরীবের ঝুঁপড়ি!

কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার খাসজমি গিলে খাওয়ার পর এবার সৈকতের বালিয়াড়ি দখলে নেমেছে একটি প্রভাবশালি মহল। কক্সবাজার বিচ ম্যানেজম্যান কমিটির কিছু সদস্যদের ম্যানেজ করে সৈকতের পর্যটন স্পটগুলোতে ঝুঁপড়ি দোকান নির্মাণের নামে দখল উৎসবে নেমেছে তারা। ঝুঁপড়ি দোকান ছাড়াও সৈকতের ইজি চেয়ার, ছাতা, স্পীডবোট, বিচকার, ঘোড়া, বিচ ফটোগ্রাফার, ভ্রাম্যমান চা-কফি, ডাব, মুড়ি-বাদাম বিক্রেতা সহ সব কিছু চলছে তাদের ইশারায়। সম্প্রতি নতুন করে বিচ দখল করে দোকান নির্মাণের ঘটনায় জেলা ব্যাপি নিন্দার ঝঁড় উঠলে নড়েচড়ে বসে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজম্যান কমিটি। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেনের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানাগেছে, বিশে^র দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের অপরূপ সৌন্দর্য্য দেখতে প্রতিবছর কক্সবাজার ভ্রমনে আসে লাখো পর্যটক। এসব পর্যটকদের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজম্যান কমিটি সৈকতের লাবনী পয়েন্ট ও সুগন্ধা পয়েন্ট সহ দুয়েকটি জায়গায় ২৫০টি ভ্রাম্যমান দোকান বসার অনুমুতি দেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু প্রভাবশালী মহল বিচ ম্যানেজম্যান কমিটি কিছু সদস্যদের হাতে নিয়ে ১ হাজারের বেশী ঝুঁপড়ি দোকান নির্মাণ করে। এসব ঝুঁপড়ি দোকান একাধিক সদস্যদের নামে একাধিক বরাদ্দ নিয়ে মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। এসব ঝুঁপড়ি দোকানের বিষয়ে জেলার সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পরিবেশবাদি সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা হলে লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এসব দায় এড়ানো অভিযানের পর পুনরায় উচ্ছেদ হওয়া ঝুঁপড়ি দোকান গুলো পুনরায় নির্মাণ করে এসব প্রভাবশালীরা। প্রভাবশালী এসব কর্তাব্যক্তি ছাড়াও রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতার নামে রয়েছে একাধিক ঝুঁপড়ি দোকান।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সুত্র বলছে, পর্যটন নগরী হিসেবে ভ্রাম্যমান হকারদের জন্য একটি মার্কেট করা হয়। যেখানে ভ্রাম্যমান হকারদের সরকারকে সামান্য ফি দিয়ে এসব দোকানের অনুমোদন দেয়া হতো। কিন্তু হঠাৎ করে এক অদৃশ্য শক্তির কারণে তা হয়ে উঠেনি। হকারদের এসব দোকান চলে যায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত বিচ ম্যানেজম্যান কমিটির কিছু সদস্য ও আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক নেতাদের হাতে। হতবাগা হকাররা বঞ্চিতই রয়ে যায়। যেসব হকার দোকান বরাদ্দ পাওয়ার কথা মুলত তারাই বঞ্চিত হয়েছে এসব দোকান থেকে। সম্প্রতি রাতের আঁধারে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের ঝঁড় উঠলে নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। উচ্ছেদের পাশাপাশি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ শাহাজাহান আলীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ঘটনায় পর্যটন সেলে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয়কে সরিয় দেয়া হয়। কিন্তু এসবের পরও থেমে থাকেনি বালিয়াড়ি দখল করে ঝুপড়ি নির্মাণ। এখনও চলছে সৈকতে ঝুঁপড়ি দোকান নির্মাণ।

সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে ত্রিপল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে হকার মার্কেটটি। এর বেতরে রয়েছে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ করা অংশও। অর্থাৎ গোপনে লোকচক্কুর আড়ালে চলছে এবারের দখল। কেউ দেখছেও না আবার কেউ দেখেও না দেখার বান ধরেছে। যাদের নামে দোকানগুলো বরাদ্ধ হয়েছে তারা দোকানে নেই মোটা অংকের বিনিময় এসব কার্ড মালিকরা অন্যজনকে ভাড়া দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র বলছে, বিচ ম্যানেজম্যান কমিটির সদস্য নঈমুল হক চৌধুরী টুটুলের নামে ৬টি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিমের নামে ৪টি, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহজাহানের নামে ৬টি, জনৈক লালুর নামে ৩০টি, যুবদল নেতা জয়নালের নামে ২৫টি সহ ব্যক্তির নামের ঝুপড়ি দোকানের অনুমোদন রয়েছে। এসব প্রত্যেকটি দোকান মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। রহস্যজনক কারণে হকাররা এসব দোকান থেকে বঞ্চিত হন। তবে এসব রাজনৈতিক রাখববোয়ালদের কাছ থেকে কোন কোন হকার মোটা অংকের বিনিময়ে মাসিক ভাড়াও নিয়েছেন।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষন পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘সৈকতে গড়ে উঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে জেলা প্রশাসন যে অভিযান পরিচালনা করেছে এখনও পরিস্কার নয়। আর যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তা কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি।

আমরা কক্সবাজারবাসি সংগঠনের সমন্বয়ক কলিম উল্লাহ বলেন, ‘সৈকতে উচ্ছেদ অভিযান লোক দেখানো। এটি বিচ ম্যানজম্যান কমিটি আইওয়াস মাত্র। মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে সৈকতে ৩শ’ গজের মধ্যে কোন ধরণের স্থাপনা রাখা যাবে না। আমরা আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের পক্ষে। কক্সবাজার বাসি আশা করে খুব দ্রুত এসব ঝুঁপড়ি স্থাপনা পরিস্কারভাবে উচ্ছেদ করা হউক।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলী বলেন, সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে এ মুহুর্তে কোন দখল হচ্ছে কিনা তা আমার জানা নেই।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!