এইমাত্র পাওয়া

x

বাড়িতে এল কাপনে মোড়ানো নিথর দেহটি

শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০১৯ | ১:৪৭ অপরাহ্ণ | 135 বার

বাড়িতে এল কাপনে মোড়ানো নিথর দেহটি
নিহত কলেজ ছাত্রী হুমাইরা নুর (সাকি)

কলেজের পাঠদান শেষ করে বাবার সঙ্গে বাড়িতে আসার কথা ছিল হুমাইরা নুর ওরফে সাকি(১৭)। সে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষাথী ছিলেন। সে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজারের লবণ ও মৎস্য খামার ব্যবসায়ী মাওলানা আবুল বশরের বড় মেয়ে।
বুধবার রাত ১০টার দিকে টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চলিক সড়কের উখিয়ার পালংখালী স্টেশন এলাকায় একটি লবণ বোঝাই কাভার্ড ভ্যান সড়কের গতে পড়ে উল্টে অটোরিকশার ওপর পড়ে।

এতে হুমাইরা নুর ওরফে সাকি (১৭) নিহত হলেও এ ঘটনায় তার বাবা ও একসহ পাঠীসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের হোয়াইক্যং মিনাবাজার মসজিদ সংলগ্ন একটি টিনশেড সমিপাকা বাড়ি থেকে ভেসে আসে বিলাপেরহ শব্দ। সামনে যেতে দেখা গেল বিভিন্ন বয়সের মানুষের জটলা।এসময় কথা হয় নিহত হুমাইরা মামা ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে।

তিনি বললেন, আবুল বশর ও মোনাজিয়া বেগমে সংসারে এক ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে নিহত হুমাইরা বড় মেয়ে।একমাত্র ছেলে মো. শোয়াইব, মেঝমেয়ে উনাইসা নুর, সেঝমেয়ে ছুমাইয়া নুর ও ছোট মেয়ে নাফিজা নুর।নিহত হুমাইরা ছাত্রী হিসেবে মেধাবী ছিলেন।প্রায় সময় সে বলতেন বড় হয়ে ব্যাংকার হবেন।তাই মা-বাবা দুজনই মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে সবসময় উৎসাহিত করতেন। লেখাপড়ার শুরুতে পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, জেএসসিতে জিপিএ-৫, এসএসসিতে-এ পেয়ে ভালো একজন ব্যাংকার হিসেবে গড়ে উঠার জন্য বড় আশা নিয়ে কক্সবাজার সরকারি কলেজে ভতি হয়। এরপর মহিলা হোষ্টেলের(ছাত্রীনিবাস) একটি কক্ষে বসবাস করতেন।লেখাপড়ার জন্য সে দুই-তিন মাস অন্তর একবার বাড়িতে আসতেন।কিন্তু নতুন ভোটার তালিকায় নাম অন্তভূক্তির জন্য মায়ের কথা ওপর ভর করে মেয়েকে আনতে গিয়ে ছিলেন বাবা আবুল বশর। মায়েরজিদের কারণে বাড়িতে আসতে রাজি হয়।বাড়ি ফেরার আগে মাকে ফোন করে বলেন, বড় চিংড়ি ও কোরাল মাছ রান্না করে রাখো। রাতে পৌছানোর পর তোমার (মায়ের)সঙ্গে ঘুমাব। তবে মেয়ের অপেক্ষায় থাকা এসব রান্নাগুলো পাতিলে রয়ে গেছে। এরমধ্যে রাতে ফোন আসে তারা দুঘটনার শিকার হন। মেয়েকে হারিয়ে প্রায় সময় শোকে অচেতন হয়ে পড়ছেন। তার বিলাপে আশেপাশের শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সারাজীবনের জন্য আমার বুক থেকে চলে গেলি। মা মোনাজিয়া বললেন, বাড়িতে ফিরলেন কাপনে মোড়ানো নিথর দেহটি। মেয়ের আগমনে নানান রকমের রান্নাবান্না করা হলেও সে খেতে পারেনি। তবে তার আশাটুকু পূরণ হলো না।বাড়িতে পৌছানোর পর আমার সঙ্গে ঘুমানোর কথা ছিল।কিন্তু আর ঘুমানো হলো না।তারজন্য রান্না করা খাবারগুলো পাতিলের রয়েই গেল।

আর, ভেস্তে গেল আমাদের স্বপ্ন।ভেঙ্গে গেল সবকিছু। নিহতের মামা ফরিদুল বললেন, মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে জায়গা হলো না বলে হাসপাতালে বাবা বশর। আর, আদরের মেয়ের জানাজা ও কপালে জুটেনি তার। এক নজর দেখতে পারেনি প্রিয় বান্ধবীর কাপনে জড়ানো মুখখানি হুমাইরা বেগমও সেও ভতি রয়েছেন হাসপাতালে। তিনি বললেন, হয় তো বা সড়কের গর্তগুলো সংস্কারের মাধ্যমে ভালো হয়ে যাবে। তবে আর ফিরে আসবে না বশরের আদরের মেয়েটি হুমাইরা।এভাবে আর কত পরিবার তাদের স্বজনদের হারাবেন।পরিবারটি এ ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব এখন কার ? হোযাইক্যং ইউপির চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে পাশ্ববতী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছিল।বতমানে উখিয়া-টেকনাফে সাড়ে ১১লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।এসব রোহিঙ্গাদের খাবার ও তদারকির বিভিন্ন এনজিও সংস্থা এবং টেকনাফ স্থলবন্দরের পণ্যবাহী শত শত যানবাহন টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচল করছে।এসড়কটি ৮৯কিলোমিটার হলেও টেকনাফ থেকে কক্সবাজার যেতে বর্তমানে সাড়ে চার ঘন্টার বেশি সময় লাগছে। আগে সময় লাগত দুই ঘন্টার মতো। তিনি আরও বলেন,পুরো সড়কটিতে কয়েক লক্ষাধিক গতে ভরা।এতে শুধু দুঘটনা নয়ই এমন কোনো দিন নেই যানবাহন আটকে পড়ছে না।

এটি সড়ক নই, মড়ক !

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!