বন্যায় ভেসে গেল মেরামতের অর্ধকোটি টাকা

বাঘগুজারা-বেতুয়াবাজার সড়কের বেহাল দশা

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫:৩৩ অপরাহ্ণ | 84 বার

বাঘগুজারা-বেতুয়াবাজার সড়কের বেহাল দশা

চকরিয়ায় চিরিঙ্গা-বেতুয়াবাজার-গাঘগুজারা সড়কের মেরামত ও সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই বানের পানিতে ভেসে গেল সরকারের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। বছরের শুরুতে শুকনো মৌসুমে কাজ না করে বর্ষার সময়ে ঠিকাদার তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করাতে এ বেহাল দশা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় জন প্রতিনিধি সহ এলাকাবাসী।
জানাগেছে সড়ক ও জনপথ মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে কক্সবাজার সড়ক বিভাগের অধীনে এবং চকরিয়া সড়ক উপ-বিভাগের সার্বিক তত্ববধানে প্রায় ৪২ লাখ টাকায় এ সড়কের বহদ্দরকাটা থেকে এবিসি সড়কের মাথা পর্যন্ত প্রায় ৫ কি:মি:মেরামত কাজ পায় রামুর ঠিকাদার ঈসমাইল হোসেন।
গত মে মাসের শেষের দিকে ঠিকাদার এ সড়কের বহদ্দার কাটা বাজার থেকে কোনখালী এলাকায় এবিসি সড়কের মাথা পর্যন্ত মেরামক কাজ করলে ও জুন মাসের বন্যায় সড়রটির ওই অংশে একাধিক স্থানে ভেঙ্গে গেছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখাগেছে বহদ্দার হাট থেকে পুরুত্যাখালী হয়ে এবিসি সড়কের মাথা পর্যন্ত সড়কের একাধিক স্থানে বন্যার পানিতে ভেঙ্গে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য মেরামত করা সড়কের উপরের কার্পেটিং উঠে গিয়ে যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের মাঝে মাঝে বিছানো ইট সরে গিয়ে জমির মধ্যে পড়েছে। এমনকি মাটি ধরে রাখার জন্য সড়কের দুই পাশে একাধিক স্থানে নির্মিত উইং ওয়াল ও ড্রেন ভেঙ্গে গিয়ে মাটি সরে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান বাহন চলাচলতো দুরের কথা প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এলাবাসীর অভিযোগ বছরের শুরুতে শুকনো সময়ে ঠিকাদার সড়কের সংস্কার কাজ করলে এত বড় ক্ষতি হতনা। বর্ষা সময়ে এসে তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করাতে বন্যায় ভেঙ্গে গিয়ে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তারা আরো অভিযোগ করেন ঠিকাদার দূর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে সিডিউল বর্হিভূত ভাবে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন।
বহদ্দার কাটা বাজারের দোকানদার জয়নাল আবেদীন জানান সড়কটি মেরামত করা হলে ও আমরা এর কোন সুফল পাচ্ছিনা। বারবার বন্যায় ভেঙ্গে যাচ্ছে। এতে চিরিংগা শহরে আমাদের যাতায়াত কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় এনজিও কর্মী ওচমান গনি বলেন সড়ক ভেঙ্গে যাওয়াতে চিরিঙ্গা শহরের সাথে যোগাযোগ কস্টকর হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচল করছেনা। এতে জন দূর্ভোগ বেড়েছে। ৪২ লাখ টাকায় জুন মাসে যে কাজ করা হয়েছে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
বিগত কয়েকবছর ধরে ভয়াবহ বন্যা ও বর্ষা মৌসুমে টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে উপজেলার জনতা মার্কেট-বেতুয়া বাজার-বাঘগুজারা সড়কটি ভেঙে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়। ফলে এ সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল ও স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের হেটে চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কারণে এতে সবচেয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পূর্ব বড় ভেওলা, বিএমচর, কোনখালী ইউনয়নের জনসাধারণসহ পার্শ্ববর্তী আরও তিন ইউনিয়নের জনসাধারণ। একটুখানি বৃষ্টি হলেই সড়কটি দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
জানাগেছে, উপজেলার উপকুলীয় এলাকার তিনটি ইউনিয়নের যাতায়াতের জনগুরুত্বপূর্ণ একমাত্র প্রধান সড়ক হচ্ছে চিরিংগা জনতা মার্কেট-বিএমচর-বাগগুজারা সড়ক। খানা-খন্দে ভরা এ সড়ক দিয়ে নিত্যদিন ১০ থকে ১৫ হাজার লোক যাতায়ত করে। চকরিয়া পৌরশহর থেকে বাঘগুজারা ব্রিজ পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ প্রায় ৯ কিলোমিটার। সড়ক ও জনপথ বিভাগের খামখেয়ালিপনা ও চরম অবহেলার কারণে বর্তমান সড়কের এ ভগ্নদশা বলে দাবি করেছে এলাকার জনসাধারণ। সড়কের ৯ কিলোমিটারের মধ্যে কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে কয়েক কি.মি. রাস্তা সংস্কার করা হয়। বাকি অংশটুকু কাজ না করার ফলে যাতায়াতের দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। প্রতিদিন কম করে হলেও প্রায় ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী সড়ক দিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কিন’ টিকসই ভাবে সড়কটি দ্রুত মেরামতের ব্যাপারে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোন ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে জানায় এলাকাবাসী ও সচেতনমহল।
উপজেলার বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘ এক যুগের কাছাকাছি ধরে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সংস্কারের অভাবে হাজারো গর্ত ও খানা-খন্দে ভরে গেছে। উপকূলীয় কয়েকটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম বিএমচরের এ সড়ক। বিগত কয়েকটি বন্যায় সড়কটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের চকরিয়াস’ উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু এহেছান মো. আজিজুল হক বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত কাজ করা হবে তিনি জানান। তবে সম্প্রতি ৪২ টাকায় সড়কের বহদ্দারটাকা- পুরুইত্যাখালী অংশে যে মরামত কাজ করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেনি।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!