এইমাত্র পাওয়া

x

২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না

‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরের সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে’

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ | 78 বার

‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরের সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের সকল ধরণের প্রস্তুতি থাকলেও আগামি ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি কেউ। এ নিয়ে ঢাকায় ও কক্সবাজারের রোববার পৃথক বৈঠক হয়েছে। কক্সবাজার শরানার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত চলে রুদ্ধকর বৈঠক। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত ট্রাস্টফোর্স কমিটির সভায় কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

টানা ১ ঘন্টা বৈঠকের পর প্রত্যাবাসনে কি ধরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে এ ব্যাপারে কোন কথা বলেননি শরাণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলেছেন, বৈঠকটি একান্ত নিয়মিত বৈঠক। এর বাইরে আর কোন কথা বলা যাবে না।

অপরদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ জানাতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “বিষয়টি (প্রত্যাবাসন) এখনও আলোচনার টেবিলে রয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেকোনো সময় শুরু হবে।”

॥ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত বাংলাদেশ ॥

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ। আনুসঙ্গিক যে প্রস্তুতি রয়েছে তা চলছে এখন। নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে জরুরী বৈঠকে বসেছিল ট্রাস্কফোর্সের সদস্যরা।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ট্রাস্কফোর্সের জরুরী বৈঠক শেষে এ কথা বলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আলম নিজামী।

তিনি বলেন, ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছি। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে হয়তো এ কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা কারা যেতে আগ্রহী এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে।
এর আগে, সকাল ১১ টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত আরআরসি শামসুদ্দৌজা নয়ন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম সরওয়াল কামালসহ সেনাবাহিনী ও ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে আগামী ২২ আগস্ট মিয়ানমার সরকারের ঘোষণা দেয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার। যেভাবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া করা যায় তার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, বৈঠকে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে জেলা প্রশাসকের পক্ষে যে যে সহযোগিতা দরকার তার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন মুলত প্রশাসন ইস্যুতে যানবাহন সরবরাহ, প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে থাকে। এটার জন্য জেলা প্রশাসন সকল প্রস্তুতি শেষ করার বিষয়ে সভায় জানানো হয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রত্যাবাসনে পুলিশের যে সহযোগিতা প্রয়োজন তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর নির্ধারিত সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদে প্রত্যাবাসন শুরু করতে পারেনি। সে-সময় উখিয়ার ঘুমধুম ও টেকনাফের টেকনাফ নাফ নদী তীরে কেরুণতলী (নয়াপাড়া) প্রত্যাবাসন ঘাট নির্মাণ হয়েছিল। এরমধ্যে টেকনাফের প্রত্যাবাসন ঘাটে প্যারাবনের ভেতর দিয়ে লম্বা কাঠের জেটি,৩৩ আধা সেমি-টিনের থাকার ঘর, চারটি শৌচাগার রয়েছে। সেখানে ১৬ আনসার ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

॥ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর দিনক্ষণ বললেন না পররাষ্ট্র সচিব ॥

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন এ মাসেই শুরুর খবর এলেও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ জানাতে রাজি হননি।

রাজধানীতে রোববার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “বিষয়টি (প্রত্যাবাসন) এখনও আলোচনার টেবিলে রয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেকোনো সময় শুরু হবে।”

রোহিঙ্গাদের তাদের দেশ মিয়ানমারে ফেরানো কবে শুরু হবে, সাংবাদিকরা আবারও জানতে চাইলে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময় বলতে রাজি হননি।

দুই বছর আগে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে ছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।
এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরাতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিও হয়েছে, যার আলোকে গত বছর নভেম্বরে প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতিও নিয়েছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা না ফেরায় এবং তারা কেউ ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ঝুলে যায়।

সম্প্রতি মিয়ানমারের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী ২২ অগাস্ট প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওার দিন ঠিক হয়েছে।

গত মাসে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে প্রত্যাবাসন চুক্তির অংশ হিসেবে যাচাই বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারের হাতে যে ২৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা বাংলাদেশ দিয়েছিল সেখান থেকেই ৩ হাজার ৫৪০ জনকে নেওয়ার বিষয়ে ছাড়পত্র মেলার কথা জানিয়ে ছিলেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিন্ট থু।
পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, “আগামী কয়েক সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর জন্য আমরা তাদেরকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করব।
“তাদের কল্যাণেই এটা করা হবে। যদি তারা ফিরে না যায়, তাহলে তারা শুধু ভূমির অধিকারই নয়, সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।”

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!