বদরখালীতে চিংড়িঘের বাড়াতে যেভাবে উজাড় হচ্ছে প্যারাবন

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ | ১:০১ অপরাহ্ণ | 67 বার

বদরখালীতে চিংড়িঘের বাড়াতে যেভাবে উজাড় হচ্ছে প্যারাবন

চকরিয়ার উপকূলীয় এলাকা বদরখালীতে প্যারাবন উজাড় করে দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। কয়েকদিন ধরে প্যারাবনের প্রায় দুই হাজারের অধিক বড় বাইন ও কেওড়া প্রজাতির গাছ কেটে নিঃশেষ করে ফেলেছে এরা। উপজেলার উপক‚লীয় ইউনিয়ন বদরখালীর মুহুরীজোড়া স্লুইচ গেইট থেকে ফিশারিঘাট পর্যন্ত এলাকায় এই নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে দুর্বৃত্তের দল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের রাতে ২০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছাস হয়। ফলে ভেঙ্গে যায় বেঁড়িবাধ। এরপর উপকূলীয় এলাকায় বনায়নে এগিয়ে আসে জাপানের একটি এনজিও সংস্থা ওয়াইস্কা ইন্টারন্যাশনাল। এই এনজিওটি প্রতি বছর জাপান থেকে শিক্ষার্থী নিয়ে এসে সবুজ বেষ্টনীর আওতায় ব্যাপক বাইন ও কেওড়া গাছের চারা রোপণ করে। এসব চারা এখন বড় গাছে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রকাশ্যে এসব প্যারাবন নিধন করা হলেও বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে দুর্বৃত্তরা প্রতিনিয়ত প্যারাবন নিধনে মেতে উঠেছে।
তারা আরও জানান, বদরখালী সমিতির আওতাধীন লম্বাঘোনা একশত একর চিংড়ি প্রকল্প পরিচালনা কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ও হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত প্রকল্পের এরিয়া বাড়াতে কৌশলে প্যারাবন ধ্বংসে মেতে উঠেছে। প্যারাবনের গাছগুলো দেখভাল করার শর্ত-সাপেক্ষে তাদের প্রকল্পটি লিজ দেওয়া হলেও তারা শর্ত ভঙ্গ করে গাছ নিধন করছে।
বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল বশর বলেন, জাপানভিত্তিক একটি এনজিও সংস্থা ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের পর এসব প্যারাবন সৃজন করেছিলো। তবে এটি বদরখালী সমিতির জায়গা। পরে ওই প্যারাবনটি বদরখালী সমিতির নেতৃবৃন্দরা কয়েকজন সদস্যকে লিজ দেয় চিংড়ি প্রকল্পের জন্য। কিন্তু প্যারাবনের বড় বাইন ও কেওড়া গাছ কাটার খবর স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি। বিষয়টি বদরখালী সমিতির কয়েকজন পরিচালককে জানিয়েছি। তবে প্রশাসনের কাউকে জানানো হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা বলেন, এ বিষয়ে আপনার মাধ্যমে এখন জানলাম। বনবিভাগের কোন কর্মকর্তাও আমাদের জানাননি। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ জানান, উপক‚লীয় ইউনিয়ন বদরখালীতে প্যারাবন নিধনের বিষয়টি জেনেছি। কারা এই প্যারাবন নিধনের সাথে জড়িত খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!