এইমাত্র পাওয়া

x

প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ‘যৌথ ডায়লগে’ সম্মত মিয়ানমার

প্রত্যাবাসনের দাবিতে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ

রবিবার, ২৮ জুলাই ২০১৯ | ৫:৪১ অপরাহ্ণ | 78 বার

প্রত্যাবাসনের দাবিতে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরির্শন করেছেন মিয়ানমারের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। পরিদর্শনের পর রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আশ^াস দিয়েছেন। আজ (২৭ জুলাই) বিকালে কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৈঠকে এ আশ্বাস দেন।

এসময় রোহিঙ্গা নেতারা অতীতের মত তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরলে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেয়া সে দেশের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে বলেছেন, এটি মিয়ানমার সরকার বিবেচনা করছে। আমরা তোমাদের ফিরিয়ে নিতে এসেছি। রাখাইনে তোমাদের জন্য ঘর-বাড়ি, স্কুল সহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তোমরা (রোহিঙ্গা) মিয়ানমারে ফিরিয়ে যাও।
এর আগে প্রতিনিধিদলটি সকাল ১০টার দিকে সে দেশের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে’র নেতৃত্বে কক্সবাজার বিমান বন্দরে পৌছেন। এরপর ইনানীতে অবস্থিত রয়েল টিউলিপ হোটেল হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টার দিকে রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটি বৈঠক করেন। এসময় রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: আবুল কালাম, অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ্দোজা নয়ন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম সরওয়ার কামালসহ ‘আরআরআরসি’ জেলা প্রশাসন, পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্নদাতা সংস্থার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারে সফরে আসা মিয়ানমারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আহা সেন্টারের একটি প্রতিনিধিদলও। আহা সেন্টার ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল একসঙ্গে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদেও বুঝিয়েছেন। এসময় প্রতিনিধিদলটি রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমার সরকার যেসব কাজ করছে সেগুলো তুলে ধরেন।

কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ আবুল কালাম জানিয়েছেন, মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটির সাথে আসিয়ানের (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোট) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক মানবিক সহায়তা কেন্দ্র বা আহা সেন্টারের একটি প্রতিনিধিদলও তাদের সাথে রয়েছে। রাখাইনের পরিবেশ নিয়ে গত মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে পড়ে আহা সেন্টার। ওই প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে সমালোচনা করেছে আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ দেশ মালয়েশিয়া। অবশ্য গত বছরও মিয়ানমারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল রোহিংঙ্গা শিবিরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছিল। তবে তাতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কোনো গতি আসেনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ্দোজা নয়ন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কয়েকটি ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেছেন এবং রোহিঙ্গাদের কে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে সেখানে কি রকম সুযোগ সুবিধা তৈরি করা হয়েছে সে ব্যাপারে তাদের জানিয়েছেন।

বৈঠকে অংশ নেয়া রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ জানিয়েছেন, ‘দ্বিতীয়বারের মত মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে আমাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। আমাদের মিয়ানমারের ফিরিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু, কিভাবে, কখন মিয়ানমারে ফিরে যাব, সে ব্যাপারে আশ^স্ত করেনি। আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার গুলো ফিরিয়ে দিতে বার বার তাদের অনুরোধ করেছি। কিন্তু, মিয়ানমার কথা দিয়ে কথা রাখেনি’।

রোহিঙ্গা নেতা জোবায়ের হোসেন জানান, ‘আমরা ৪০জন রোহিঙ্গা নেতা বেঠকে অংশ নিয়েছি। আমাদের সবার একই দাবি ছিল আমাদের প্রথমে মিয়ানমারের নাগরিক স্বীকৃতি দিতে হবে। অবাধ চলাফেরার সুযোগ দেয়া সহ একটি দেশের নাগরিকরা যেভাবে সুযোগ-সুবিধা পায়, সেভাবে আমাদেরকে দিতে হবে। উত্তরে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল বলছে-সেটি মিয়ানমার সরকারের সাথে আলোচনা করে আমাদের জানাবে এবং নিয়মিত সংলাপে বসতে চেষ্টা করবে’।

আরেক রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, মিয়ানমার আমাদের কোন দিনও ফিরিয়ে নেবে না। এটি একটি নাটক শুরু করছে। আন্তর্জাতিকভাবে যখন মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি হয়, তখনই তাদের নানা ফন্দি শুরু করে মিয়ানমার সরকার। আজকের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এটির একটি অংশ’।

এদিকে, বিকাল ৪টার দিকে ২ দফার আলোচনা রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশে ফিরে যেতে পুনরায় আহবান জানান মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ফিরে গেলে সেখানে কি রকম সুযোগ সুবিধা পাবেন তার সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়। এসময় রোহিঙ্গাদের পক্ষে নানা দাবি উত্তাপন করা হয়। বৈঠকে অংশ নেয়া কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, বৈঠকে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে যৌথ ডায়লগে সম্মতি জানিয়েছে মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৪ আগষ্ট থেকে রোহিঙ্গাদের উপর রাখাইন রাজ্যে চলা হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাচঁতে এই পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৫জন রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গা অবস্থান করছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ পাহাড়ে ৩২টি ক্যাম্পে। দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় একটি চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। সব রকমের প্রস্তুতির পরও মিয়ানমার রহস্যজনক কারণে চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। পরে জাতিসংঘসহ বিশে^র প্রায় সব দেশেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করে। চীনের ভূমিকা অস্পষ্ট থাকলেও সম্প্রতি তারাও সবুজ সংকেত দিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরজমিনে দেখে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার পক্রিয়ায় দ্বিতীয় বারের মত মিয়ানমারের উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলের আগমন বলে ধারণ করছে কূটনীতিক মহল। আগামীকাল রোববার রোহিঙ্গা হিন্দু ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলটি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার কথা রয়েছে।

॥ প্রত্যাবাসনের দাবিতে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ ॥

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল। একাধিক রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন বিষয় উপর খোঁজ খবর নেন। বেশির ভাগ রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে রাজী আছে। তবে তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। অন্যথায় ফিরে যাবে না। রোহিঙ্গাদের বোঝানো হবে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। দুপুর একটার দিকে প্রত্যাবাসন ও সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজারেরর উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছেছে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সি আইসি অফিস কক্ষে আড়াইটার দিকে ঘন্টা ব্যাপী বৈঠকে করেছেন রোহিঙ্গাদের একটি অংশ। এর পাশেই মিয়ানমারের নাগরিত্ব দিয়ে প্রত্যাবাসনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন রোহিঙ্গাদের আরেকটি অংশ। শনিবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ার কুতুপালংয়ের ক্যাম্পে বিক্ষোভ করেছেন রোহিঙ্গারা। এ সময় রোহিঙ্গারা বলতে থাকেন, আমরা বাঙালি নই, আমরা রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে আমাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় আমরা ফিরে যাব না। তারা আরও বলেন, আমাদের মা-বোনদের যে নির্যাতন করা হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে তাদেরও বিচার করতে হবে। এর আগে তিনদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছে মিয়ানমারের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তাদের সঙ্গে রয়েছে ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম সরওয়ার কামাল ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান; প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!