এইমাত্র পাওয়া

x

সাগরে মাছ আহরণ বন্ধ ৬৫ দিন

পেটের জ্বালায় রাস্তায় স্বহচরি!

বুধবার, ২২ মে ২০১৯ | ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ | 187 বার

পেটের জ্বালায় রাস্তায় স্বহচরি!

বায়োবৃদ্ধ সহচরি দাস। কক্সবাজারের ফিশারীঘাটে কাজ করে চলতো তার সংসার। সাগরে মাছ আহরণের নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন আর বোট আসে না ঘাটে। তাই তার উপার্জন নেই। এখন খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে সহচরির মতো হাজারো কর্মী।

বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক মাছ আহরণের উপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘সদর উপজেলা নারী ঐক্যজোট’ নামে একটি সংগঠন। সেখানেই সড়কের পাশে বসে মাছ আহরণের নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহারের দাবি তুলেছিলেন বায়োবৃদ্ধ সহচরি। স্বামী শিশু কুমার দাস মারা যায় কয়েক বছর আগে। সে থেকে এক মেয়ে এক ছেলেকে নিয়ে ফিশারীতে মাছ বেচে দেয়ার কাজ করে সংসার চালান তিনি।

জেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানাযায়, পাশ্ববর্তী দেশ ভারত, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলংকাসহ সব দেশে বছরে ৬৫ দিন সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। কারণ এই সময়ে মা মাছ পোনা ছাড়ে ও অন্যান্য মাছও বড় হয়। তাই এই সময়ে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে পরবর্তীতে জেলেরাই লাভবান হবেন। তাছাড়া সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ বিলুপ্তের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জেলা ফিশিংবোট মালিক সমিতি সুত্রে জানাযায়, জেলার অন্তত অর্ধ লাখ জেলের জীবনে নেমে আসছে দুর্ভিসহ। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হবে এসব জেলের। শুধু জেলেই নয় শ্রমিকসহ আরও অনেকে বেকার হয়ে পড়েছে। তাই নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ৩০ দিন করার দাবি জানাচ্ছিন। পাশাপাশি মে থেকে জুলাই মাসের পরিবর্তে এ নিষেধাজ্ঞা চৈত্র থেকে বৈশাখ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বায়োবৃদ্ধ সহচরি দাশ বলেন, এক যোগ ধরে মাছ বেচে দেয়ার কাজ করে সংসার চালাচ্ছি। এত বড় সংকট কখনো পড়িনি। এ ৬৫ দিন কিভাবে পার করবো জানি না। ৬৫ দিনকে ৬৫ বছরের মত লাগছে। সবকিছু অচল হয়ে পড়ছে। তাই শরীর খারাপ তবুও রাস্তায় নেমেছি পেটের দায়ে। কারণ মাছ আহরণ সচল হলে যে পেটের জ¦ালা মিটবে।

সহচরির মতো রাস্তায় নেমেছেন দিলরাজ বেগমও। তিনি বলেন, ফিশারীতে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চলতো। কিন্তু এটাও বন্ধ হয়ে গেল। এতোদিন কিভাবে পার করবো জানিনা। ৬৫ দিন না করে এটা কমিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
বিউটি দাশ বলেন, স্বামী অসুস্থ তাই মাছের আড়ৎতে কাজ করে জীবন যাপন করি। মাছ আহরণ বন্ধের খবরে হতবাক হয়েছি। কিভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না। ভাগ্য আমাদের বার বার হারিয়ে দেয়। এখন মাছও আসে না আমাদের কাজও চলছে না।

কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০ তারিখ থেকে কুলে ফিরে এসেছে অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার। এখন অর্ধ-লাখ জেলে বেকার হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অনেক শ্রমিকও। এটা সরকারের আরও শীতিল করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে, ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত (৬৫ দিন) বঙ্গোপসাগরে বাণিজ্যিক ট্রলার ও সকল প্রকার যান্ত্রিক এবং অযান্ত্রিক নৌযান দ্বারা মাছ আহরণ বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু জেলেরা এ নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ৩০ দিন করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মে থেকে জুলাই মাসের পরিবর্তে এ নিষেধাজ্ঞা চৈত্র থেকে বৈশাখ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!