পেকুয়ায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ | 98 বার

পেকুয়ায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

পেকুয়ায় হাত বাড়ালেই মিলছে সব ধরণের মাদকদ্রব্য। আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
স্থানীয় সচেতন মহল জানান, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, বাংলা মদ ও হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের ছড়াছড়ি পুরো পেকুয়া উপজেলায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৫টি স্পটে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব মাদক। মাদক বিরোধী অভিযান খুব একটা জোরদার না থাকায় মাদক ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যে এসব স্পটে মাদক বিক্রি হলেও রহস্যজনক কারণে নীরবতা পালন করছে পুলিশ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সহজলভ্য হওয়ায় কারণে মাদকদ্রব্যের দিকে ঝুঁকে পড়ছে পেকুয়ার যুবসমাজ। এতে প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলা সদর চৌমুহনীতে তিনটি শক্তিশালী চক্র অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। এরমধ্যে শুধু ইয়াবাই বিক্রি করছে একটি চক্র। অপর দুটি চক্রের মধ্যে একটি গাজা ও ইয়াবা এবং অপরটি চক্র বিক্রি করছে গাজা ও বাংলা মদ। এছাড়াও ইউনিয়নের সাবেক গুলদী এলাকায় মাদক বিক্রি করছে অপর একটি চক্র।

একইভাবে পেকুয়া বাজার কেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে আরো পাঁচটি চক্র। এরমধ্যে বাইম্যাখালী রোডে দুইটি চক্রের মধ্যে একটি ইয়াবা ও অপর চক্র বিক্রি করছে মদ ও গাজা। একইভাবে বাজারের অদূরে ফাঁসিয়াখালী এলাকায় রয়েছে একটি বড় মাদক স্পট। যেখানে প্রায়ই সবধরণের মাদক সেবনের সুবিধা দিচ্ছে শক্তিশালী ওই চক্রের সদস্যরা। ভোলাইয়া ঘোনা এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করছে অপর একটি চক্র। যেখানে মাদক সরবরাহ কাজে নারী ও শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও মামা ভাগিনার দোকান এলাকায় একটি চক্র প্রকাশ্য দিবালোকে বিক্রি করছে গাঁজা, মদ ও ইয়াবাসহ সব ধরণের মাদক।

এদিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করছে দুইটি চক্র। যারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ফেরি করে বেড়ায়। উজানটিয়া ইউনিয়নের সোনালী বাজার ও করিমদাদ মিয়াঁ ঘাট এলাকায় ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি করছে দুইটি চক্র। রাজাখালী ইউনিয়নের সবুজ বাজারের পশ্চিমে মদ বিক্রি করছে একটি চক্র। নোয়াখালী ব্রীজ এলাকায় বিভিন্ন ধরণের মাদক বিক্রি করছে একটি চক্র। এছাড়াও আরবশাহ বাজার এলাকায় মাদক বিক্রি করছে একাধিক চক্র। টইটং ইউনিয়নের হাজী বাজার এলাকায় মাদক বিক্রি করছে শক্তিশালী দুটি চক্র। এরমধ্যে এক ইউপি সদস্যের জামাতার নেতৃত্বে একটি চক্র টইটং কেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা চালালেও তারা উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে নিজস্ব লোকজন দিয়ে মাদক সরবরাহ করছে। এছাড়াও ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা এলাকায় ও টইটং বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে আরো দুইটি শক্তিশালী চক্র। বারবাকিয়া ইউনিয়নের সওদাগর হাট ও পাহাড়িয়াখালী কেন্দ্রিক মদ, গাজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক বিক্রি করছে দুইটি চক্র। শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবনিয়া ষ্টেশন কেন্দ্রিক বিক্রি ও সেবন করা হচ্ছে ইয়াবাসহ নানা মাদক। এছাড়াও ইউনিয়নের আলেকদিয়া পাড়ায় একটি চক্র ও বাঘগুজারা সাঁকোর পাড় এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে আরো একটি চক্র।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে মাদক ব্যবসা থেকে ফিরে আসা এক ব্যক্তি জানায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্যদের সাথে আঁতাত করে উপজেলায় মাদকের এই রমরমা ব্যবসা চলছে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, মায়ানমার হতে চোরাচালানীদের হাত দিয়ে এদেশে আসা ইয়াবা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের রোড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে পেকুয়াকে। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় ইয়াবার বড় ধরণের চালান পাচার করতে এই এলাকাকে ট্রানজিট হিসেবে বেচে নিয়েছে চোরাকারবারিরা। আর এ চক্রে জড়িত আছে পেকুয়ার লোকজন। পেকুয়া উপজেলার বেশ কয়েকজন ট্রলার মালিক ইয়াবা পাচার চক্রে জড়িয়ে পড়েছে।

এব্যাপারে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল আজম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। কিন্তু মাদক বিক্রেতারা অভিনব পন্থা অবলম্বন করছে। তাই পুলিশকে কাজ করতে একটু বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরেও মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। খুব শীঘ্রই পেকুয়াকে মাদক মুক্ত উপজেলায় রূপান্তর করা হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!